মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়া উপজেলায় কুকুরের ভয়াবহ আক্রমণের ঘটনায় জনমনে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। মাত্র ছয় ঘণ্টার ব্যবধানে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় শিশু, কিশোর-কিশোরী, নারী ও বৃদ্ধসহ মোট ৪৯ জন ব্যক্তি কুকুরের কামড়ে আহত হয়েছেন। আহতরা কুলাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণ করেন। আহত ব্যক্তিরা জানান, অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে হঠাৎ আক্রমণ হওয়ায় বুঝে ওঠার আগেই তারা কুকুরের কামড়ের শিকার হন।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, এত বড় একটি উপজেলার জন্য পর্যাপ্ত জলাতঙ্ক প্রতিরোধী ভ্যাকসিন না থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। মজুত ভ্যাকসিন দিয়ে মাত্র ১৬ জনকে ভ্যাকসিন দেওয়া সম্ভব হয়। ভ্যাকসিন শেষ হয়ে যাওয়ার পর পরবর্তী সময়ে কুকুরের আক্রমণের শিকার ব্যক্তিদের নিজ উদ্যোগে ও নিজ খরচে বাইরে থেকে ভ্যাকসিন কিনে চিকিৎসা নিতে হয়। এতে ভুক্তভোগী ও স্বজনদের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
আহতদের মধ্যে কেউ বাড়ি ফেরার পথে, কেউ স্কুল-কলেজে যাতায়াতের সময়, আবার কেউ খেলার সময় কিংবা নিজ বাড়ির উঠানেও কুকুরের আক্রমণের শিকার হন। এতে পুরো কুলাউড়া উপজেলাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক চলাচলে বিঘ্ন ঘটে।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস থেকে জানানো হয়, কুকুর নিধন আইনত নিষিদ্ধ থাকায় তারা সরাসরি কুকুরের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারছেন না। তবে ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে তারা জানান, উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
কুলাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জাকির হোসেন বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। ইতোমধ্যে কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে এবং খুব দ্রুত পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন সরবরাহসহ কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ বিষয়ে কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মহিউদ্দিন জানান, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাজ করা হচ্ছে। স্বাস্থ্য বিভাগ ও প্রাণিসম্পদ বিভাগের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে দ্রুত ভ্যাকসিন সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

