কুষ্টিয়া–৩(সদর) আসনের জামায়াতের সংসদ সদস্য(এমপি) প্রার্থী মুফতি আমির হামজার নির্বাচনী প্রচারণায় বাঁধা এবং নারী কর্মীদের লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় নারী কর্মীদের সঙ্গে থাকা তার মাকেও অপমান ও দুর্ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার(২৯ জানুয়ারি) দুপুরে আমির হামজা তার ভেরিফাইড ফেসবুক পেজ থেকে ঘটনার বিবরণ জানিয়ে একটি পোষ্ট করেছেন।
ফেসবুক পোষ্টে আমির হামজা লেখেন,
মহিলাদের মাঝে ভোট চাইতে যাওয়ার সময় রাস্তার মাঝে আমার সম্মানিত আম্মাকেও অপমানিত ও লাঞ্চিত করা হলো।
আমি মুফতি আমির হামজা, কুষ্টিয়া–৩ সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী, তীব্র ক্ষোভ ও গভীর কষ্টের সঙ্গে জানাচ্ছি, আজ বেলা ১১টায় কুষ্টিয়া সদর উপজেলার আইলচারা ইউনিয়ন বাক্স ব্রিজ এলাকায় আমাদের মহিলা কর্মীরা ভোট চাইতে গেলে যুবদল নেতা নাসিরের নেতৃত্বে মহিলাদের কাছ থেকে ভ্যানিটি ব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়া হয়,লিফলেট কেড়ে নেওয়া হয়।
এছাড়াও মহিলাদের দিকে আক্রমণের জন্য বারবার তেড়ে আসে। মহিলা কর্মীদের সাথে আমার আম্মাও ছিলেন। তার সাথেও খুবই বাজে ব্যবহার করা হয়েছে।
নারীদের ওপর এমন বর্বর আচরণ রাজনৈতিক সহনশীলতার চরম লঙ্ঘন। একজন মায়ের সম্মান, একজন নারীর মর্যাদা ক্ষুণ্ন করে কোনো রাজনীতি টিকে থাকতে পারে না।
ভোট চাওয়া প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার। সে অধিকার কেড়ে নেওয়ার অপচেষ্টা জনগণ কখনো মেনে নেবে না।আমি প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি, অবিলম্বে এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক নেতৃত্বকে সংযম ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।
আমি বিশ্বাস করি, ভয়, সন্ত্রাস ও নারীদের হেনস্তার রাজনীতি দিয়ে জনগণের ভালোবাসা অর্জন করা যায় না। জনগণ ন্যায়, ইনসাফ ও মর্যাদার রাজনীতির পক্ষেই থাকবে, ইনশাআল্লাহ।
আপনাদের পালিত স*ন্ত্রাসীদের হাত গোটানোর জন্য বলছি। আমাদের মা’দের দিকে হাত বাড়ানো বন্ধ করুন। যুগে যুগে যারা মা’দের দিকে হাত তুলেছে তারাই ধ্বংস হয়েছে। সাবধান হয়ে যান।
ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া এই সংক্রান্ত একটি ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়,নাসির জোয়ার্দ্দর নামে ওই ব্যক্তি জামায়াতের নারী কর্মীদের সাথে বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে পড়েন। এ সময় তাদের সাথে থাকা ব্যাগের ভেতরে কি আছে তা দেখতে চান। এক পর্যায়ে নারী কর্মীরা ব্যাগ খুলে দেখান। তবে নারী কর্মীরা স্বীকার করেন ব্যাগে বিস্কুট,চকলেট ছিল।
তবে এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিএনপি।
নাসির জোয়ার্দ্দর যুবদলের কেউ না দাবি করে কুষ্টিয়া জেলা যুবদলের সমন্বয়ক আব্দুল মাজেদ বলেন,নাসিরের বড় ভাই সদর থানা যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক ছিলেন। নাসির যুবদলের কেউ না। বরং জামায়াতের নারী ও মহিলা কর্মীদের সাথে আমাদেরও সৌজন্য সাক্ষাত হয়েছে। তারা ভোট চাইতে এসেছিলেন। ভোট চাওয়ার অধিকার সবার আছে। এই অভিযোগের বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে এমনটা হয়ে থাকলে তা কাম্য নয়।
এ ব্যাপারে জানতে নাসির জোয়ার্দ্দরের ব্যবহৃত মুঠোফোনে বারবার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।
অভিযোগ সঠিক নয় জানিয়ে কুষ্টিয়া-৩ আসনের বিএনপি প্রার্থী প্রকৌশলী জাকির হোসেন সরকার বলেন,একটি ভিডিও আমি দেখেছি। সেখানে লাঞ্চিত করা হয়েছে এমন কোন ঘটনা দেখা যায়নি। বরং ওই নারী কর্মীরা ব্যাগের ভেতরে চকলেট নিয়ে ভোটারদের মাঝে বিলি করে বেড়াচ্ছিলেন। যেটা তারা পারেন না। জাকির হোসেন সরকার বলেন, আমরা শান্তি চাই। তারপরও ভিডিও যাচাই করে দেখেন। যারা অপরাধী তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসন ব্যবস্থা নিবে এটাই কাম্য।
পড়ুন: টাঙ্গাইলে ৮টি আসনে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র ১৬০
দেখুন: ফরিদপুরের নর্থ চ্যানেলে পদ্মা নদীর ভাঙনে জমি, বসত ঘর |
ইম/


