কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা শিবচর উপজেলা আওয়ামী লীগের একাধিক শীর্ষ নেতা পুনরায় প্রকাশ্য রাজনৈতিক তৎপরতায় যুক্ত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাদারীপুর-১ (শিবচর) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী কামাল জামান মোল্লার পক্ষে মাঠে নেমেছেন এসব নেতারা।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) রাতে শিবচর পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের শিবরায়ের কান্দি আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান আঃ লতিফ মোল্লার বাড়িতে স্বতন্ত্র প্রার্থী কামাল জামান নুর উদ্দিন মোল্লার উঠোন বৈঠক হয়। এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও ভাইরাল হলে আলোচনার সমালোচনার ঝড় সৃষ্টি হয়।
সূত্র অনুযায়ী, কার্যক্রম নিষিদ্ধ শিবচর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি, নৌকা প্রতীক নিয়ে বিজয়ী বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান ও সাবেক মেয়র ও ছাত্র হত্যা মামলার আসামি আঃ লতিফ মোল্লা, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান দেলোয়ার বেপারী এবং শিবচর পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ছাত্র হত্যা মামলার আসামি তোতা খান সম্প্রতি প্রকাশ্য রাজনৈতিক কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছেন। তারা বিভিন্নভাবে স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে সমর্থন আদায় ও সাংগঠনিক যোগাযোগ রক্ষা করছেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক নেতা জানান, দলীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও এভাবে প্রকাশ্যে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হওয়া রাজনৈতিক শিষ্টাচার ও প্রচলিত বিধি-বিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। অপরদিকে, স্বতন্ত্র প্রার্থী কামাল জামান নুরুদ্দিন মোল্লার পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আসন্ন নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে এ ধরনের তৎপরতা নির্বাচনী সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। তবে নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাদের ভূমিকা নিয়ে নির্বাচন কমিশন বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অবস্থান কী হবে, তা নিয়েও কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
এবিষয়ে কেন্দ্রীয় সহ শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক ও জেলা বিএনপির সদস্য হেলেন জেরিন খান বলেন, আইন বহির্ভূত কাজের দায়িত্বটা প্রশাসনের।যাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা রয়েছে তারা কিভাবে ওপেন এ ঘোরাফেরা করে। বিষয়টা অবশ্যই প্রশাসনের দেখা উচিত।
শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি মোহাম্মদ শরিফুল ইসলাম বলেন,স্বতন্ত্র প্রাপ্তির সাথে নিষিদ্ধ আওয়ামিলীগের নেতাকর্মীরা নির্বাচনের প্রচার প্রচারণা করবে কিনা সেটা তাদের ব্যক্তিগত বিষয়। এই মুহূর্তে এ বিষয় নিয়ে আমাদের কোন চিন্তা নেই। এদিকে তিনি আরো বলেন, তাদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা থাক বা না থাক এটা এখন আমাদের কোন বিষয় না। আমাদের মূল বিষয়টা হল এখন নির্বাচন নিয়ে।
পড়ুন : মাদারীপুরে দেশীয় অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনায় ষড়যন্ত্রের অভিযোগ


