০৯/০২/২০২৬, ২২:১১ অপরাহ্ণ
22 C
Dhaka
০৯/০২/২০২৬, ২২:১১ অপরাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

নিহত রেজাউলের হত্যা কারীদের আগাম জামিনে, নিহত পরিবারের সংবাদ সম্মেলন

চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে সংঘর্ষে জামায়াত নেতা রেজাউল করিমের মৃত্যুর ঘটনায় করা হত্যা মামলায় বিএনপির প্রার্থী মাহমুদুল হকসহ ৪০ জন নেতা-কর্মীকে ছয় সপ্তাহের আগাম জামিন দেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে নিহতের পরিবার।

বিজ্ঞাপন


২ ফেব্রুয়ারি সোমবার বিকেলে শেরপুর প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে মামলার বাদী ও নিহতের স্ত্রী মার্জিয়া বেগম লিখিত বক্তব্য পাঠ করে এই ক্ষোভ জানান।

মার্জিয়া বেগম লিখিত বক্তব্যে বলেন, গত ২৮ জানুয়ারি ২০২৬ মাহমুদুল হক রুবেলের নির্দেশে স্থানীয় সন্ত্রাসীরা তাঁর স্বামী মাওলানা রেজাউল করিমকে নির্মমভাবে হত্যা করে। এই হত্যাকাণ্ডে পরিবার ও এলাকাবাসী এখনো গভীর শোকের মধ্যে রয়েছে। অথচ হত্যার সঙ্গে সরাসরি জড়িত আসামিদের হাইকোর্ট থেকে আগাম জামিন দেওয়া হয়েছে, যা অত্যন্ত হতাশাজনক।
তিনি বলেন, একজন নাগরিক হিসেবে তিনি এই হত্যার ন্যায়বিচার চান। ফ্যাসিস্ট সরকার পতনের পরও কাদের ইশারায় খুনের আসামিরা জামিন পেল—সে প্রশ্ন তোলেন তিনি। একই সঙ্গে এ বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল অফিস ও রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মার্জিয়া বেগম।
তিনি অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছে অবিলম্বে উচ্চ আদালতে আপিল করে জামিন বাতিলের দাবি জানান। অন্যথায় এটিকে অন্যায়ের সঙ্গে আপস হিসেবে দেখা হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তিনি বলেন, শহীদ মাওলানা রেজাউল করিমের রক্ত বৃথা যেতে পারে না, ন্যায়বিচার না পাওয়া পর্যন্ত তাঁদের প্রতিবাদ চলবে।
সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামীর জেলা আমির হাফিজুর রহমান, নিহতের বাবা আব্দুল আজিজ, সন্তানসহ জামায়াতের কয়েকজন নেতা উপস্থিত ছিলেন।


এ সময় জেলা জামায়াতের আমির হাফিজুর রহমান বলেন, আগাম জামিনে ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তাঝুঁকি বেড়েছে। পাশাপাশি আসন্ন নির্বাচনে জামিনে থাকা এসব আসামি ভোটে প্রভাব বিস্তার করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
এর আগে সোমবার আগাম জামিন চেয়ে করা আবেদনের শুনানি শেষে বিচারপতি মো. কামরুল হোসেন মোল্লা ও বিচারপতি ফয়সাল হাসান আরিফের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ বিএনপির প্রার্থী মাহমুদুল হকসহ ৪০ জন নেতা-কর্মীকে ছয় সপ্তাহের আগাম জামিন দেন।
আদালতে আসামিদের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মো. রুহুল কুদ্দুস, সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী শাহদাত হোসেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শিউলী খানম।


মামলায় ২৩১ জনের নাম উল্লেখ করা হলেও রেজাউল করিমকে কে হত্যা করেছেন, তা সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ নেই। এসব যুক্তিতে আগাম জামিন চাওয়া হয়।


উল্লেখ্য, গত ২৮ জানুয়ারি ঝিনাইগাতী মিনি স্টেডিয়ামে শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী–ঝিনাইগাতী) আসনের প্রার্থীদের ইশতেহার পাঠ অনুষ্ঠানে চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। পরে সন্ধ্যার আগে দ্বিতীয় দফা সংঘর্ষে গুরুতর আহত হন শ্রীবরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি রেজাউল করিম। তাঁকে ময়মনসিংহে নেওয়ার পথে সেদিন রাতেই মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় ৩০ জানুয়ারি রাতে নিহতের স্ত্রী মার্জিয়া বেগম ঝিনাইগাতী থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় বিএনপির প্রার্থী মাহমুদুল হককে প্রধান আসামি করে ২৩১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৪০০ থেকে ৫০০ জনকে আসামি করা হয়।

পড়ুন- ঝুঁকি নিয়ে ইসলামী আন্দোলন এককভাবে নির্বাচন করছে: চরমোনাই পীর

দেখুন- কোথায় কোথায় হা/ম/লা করবে ইরান?

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন