ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট উৎসবের অপেক্ষায় রয়েছে দেশবাসী। অন্তর্বর্তী সরকার ইঙ্গিত দিয়েছে, নির্বাচনের ব্যালট পেপার, গণভোট ও পোস্টাল ব্যালট প্রথমে আলাদা করা হবে। এরপর শুরু হবে গণনা। ফলে ভোট গণনায় সময় বেশি লাগতে পারে। এরই মধ্যে এই সুরে কথা বলেছে নির্বাচন কমিশনও (ইসি)। কিন্তু ফলাফল ঘোষণায় বিলম্ব হওয়া নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করছেন বিশ্লেষকরা।
তবে এই যুক্তি মানতে নারাজ নির্বাচন সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, জনবল বাড়ানো হলে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় আরও আগেই ফলাফল ঘোষণা সম্ভব। দীর্ঘদিন পর ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। এই পর্যায়ে ফলাফল ঘোষণায় বিলম্ব হলে সব আয়োজনই প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে। সেই সঙ্গে সারা দেশে বিশৃঙ্খলার আশঙ্কার কথাও বলছেন বিশ্লেষকরা।
নির্বাচন বিশ্লেষক জেসমিন টুলি বলেন, ‘এবার সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একই দিন অনুষ্ঠিত হবে। ভোট গ্রহণ শেষে গণভোটটা আলাদা গণনা করা যেতে পারে। পাশাপাশি জাতীয় সংসদের ভোট গণনা করা যেতে পারে। দুটি একইসঙ্গে চালানো গেলে। সেইসঙ্গে রিটার্নিং কর্মকর্তা পোস্টাল ব্যালটগুলো গণনা করে ফেলবেন। তাহলে খুব একটা বেশি সময় লাগবে বলে মনে হয় না।’
তিনি আরও বলেন, ‘ফলাফল দিতে যত দেরি হবে, তত উত্তেজনা বাড়বে। যেহেতু আস্থাহীনতার একটা ব্যাপার রয়েছে, এজন্য সহজে কারচুপির অভিযোগ উঠতে পারে। প্রার্থী যদি কর্মী সমর্থকদের আশ্বস্ত করতে পারে যে, ফলাফল গণনা পর্যন্ত আমরা অপেক্ষা করব, তাহলে বিশৃঙ্খলার সুযোগটা থাকে না।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সাব্বির আহমেদ বলেন, ‘ভোট গণনা যেন স্বচ্ছতার ভিত্তিতে হয়, যেখানে সব দলের প্রতিনিধিরা থাকবেন।’
তবে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ফলাফল ঘোষণায় অনিয়মের কোনো সুযোগ নেই। এই সময়ের মধ্যে যেন কোনো ধরনের গুজব ছড়িয়ে না পড়ে, সে জন্য আগেভাগেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টার সিনিয়র সহকারী প্রেস সচিব ফয়েজ আহম্মদ বলেন, ‘ভোট গণনায় যখনই খনিকটা সময় বেশি প্রয়োজন হবে বলে তাদের কাছে মনে হবে, নির্বাচনের বাস্তবতায় নানানভাবে গুজব ছড়িয়ে পড়তে পারে। যারা গণনা প্রক্রিয়ার সঙ্গে থাকবেন, তাদের প্রস্তুত থাকতে হবে। এই প্রস্তুতি প্রার্থীদের পাশাপাশি কর্মী সমর্থকদেরও থাকতে হবে।’
নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার জানান, এরই মধ্যে ভোটের সার্বিক প্রস্তুতি নিয়েছে কমিশন। সময়মতো ফলাফল ঘোষণায় আশাবাদী তিনি।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা থেকে শুরু হয়ে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত চলবে ভোটগ্রহণ। এতে অংশ নেবেন প্রায় সাড়ে ১২ কোটি ভোটার।
পড়ুন: বরিশালে জামায়াতের জনসভায় মানুষের ঢল
আর/


