১১/০২/২০২৬, ১:০৩ পূর্বাহ্ণ
19 C
Dhaka
১১/০২/২০২৬, ১:০৩ পূর্বাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

খুলনার ৩৬ আসনে ৩৩ নিবন্ধিত দলই নেই প্রতিদ্বন্দ্বিতায়

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে খুলনা বিভাগে রাজনৈতিক দলগুলোর অংশগ্রহণে বড় ধরনের বৈষম্য স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বিভাগের ৩৬টি সংসদীয় আসনের নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধিত অধিকাংশ রাজনৈতিক দলই নেই। নিবন্ধিত ৬৩টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে বর্তমানে সক্রিয় ৫৯টির মধ্যে মাত্র ২৬টি দল খুলনা বিভাগে প্রার্থী দিয়েছে। অর্থাৎ, ৩৩টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল পুরো বিভাগেই নির্বাচনী প্রতিযোগিতার বাইরে রয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, খুলনা বিভাগের ১০ জেলার ৩৬টি সংসদীয় আসনে এবারের নির্বাচনে মোট প্রার্থী রয়েছেন ২০৩ জন। এর মধ্যে বিএনপি, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি আসনে প্রার্থী দিয়েছে। বিপরীতে জাতীয় পার্টি, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি ও গণঅধিকার পরিষদ সীমিত সংখ্যক আসনে অংশ নিলেও অধিকাংশ নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের কার্যত কোনো উপস্থিতি নেই।

খুলনা আঞ্চলিক নির্বাচন অফিস সূত্র জানায়, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) বিভাগের সবকটি—৩৬টি আসনেই প্রার্থী দিয়েছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ৩৫টি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ৩১টি, জাতীয় পার্টি ২৫টি, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি ৭টি এবং গণঅধিকার পরিষদ (জিওপি) ৬টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে।

এছাড়া বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) ৫টি, আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি পার্টি), জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) ও বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টি (বিএমজেপি) ৪টি করে আসনে অংশ নিয়েছে।

গণফোরাম, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ কংগ্রেস ও বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট—প্রতিটি দলই ২টি করে আসনে প্রার্থী দিয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট (বিএনএফ), বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ, বাংলাদেশ সমঅধিকার পার্টি, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী), বাংলাদেশ রিপাবলিক পার্টি, বাংলাদেশ লেবার পার্টি, বাংলাদেশ জাসদ, জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন (এনডিপি), ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ ও জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা)—এই দলগুলো প্রত্যেকেই মাত্র একটি করে আসনে প্রার্থী দিয়েছে। পাশাপাশি স্বতন্ত্র প্রার্থী রয়েছেন ২৬ জন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কেবল নিবন্ধন থাকলেই রাজনৈতিক দল কার্যকর ও শক্তিশালী হয়ে ওঠে না। জনভিত্তি ও মাঠপর্যায়ের সংগঠন ছাড়া নির্বাচনে অংশগ্রহণ অর্থবহ হয় না। তারা বলছেন, গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে রাজনৈতিক দলগুলোর সক্রিয় অংশগ্রহণ অপরিহার্য, আর সে কারণেই নির্বাচন কমিশনের দল নিবন্ধন প্রক্রিয়া নতুন করে পুনর্মূল্যায়ন জরুরি।

নির্বাচন বিশ্লেষক অ্যাডভোকেট কুদরত-ই-খুদা বলেন, অনেক নিবন্ধিত দলের বাস্তব রাজনৈতিক কার্যক্রম নেই। শুধু কাগজে-কলমে দল থাকলে গণতন্ত্র শক্তিশালী হয় না। নির্বাচন কমিশনের উচিত নিবন্ধন প্রক্রিয়া আরও কঠোর করা। আমাদের দেশে এমন বহু দল রয়েছে, যাদের নাম ও নিবন্ধন আছে, কিন্তু মাঠে কোনো উপস্থিতি নেই।

তিনি আরও বলেন, দল নিবন্ধনের ক্ষেত্রে কেবল কাগজপত্র নয়—দলের সাংগঠনিক সক্ষমতা, জেলা-উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধিত্ব, নিয়মিত রাজনৈতিক কার্যক্রম ও জনগণের সঙ্গে সংযোগ রয়েছে কি না, তা যাচাই করা প্রয়োজন। বাস্তবে অনেক দল এক ব্যক্তিকেন্দ্রিক ‘ওয়ান ম্যান শো’তে পরিণত হয়েছে। নেতা আছেন, কিন্তু কর্মী নেই; অফিস আছে, কিন্তু মাঠ নেই।

কুদরত-ই-খুদার মতে, মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে দাঁড়ানোর মাধ্যমেই রাজনৈতিক দলের জনভিত্তি গড়ে ওঠে। অথচ অধিকাংশ নিবন্ধিত দলের ক্ষেত্রে সেটি অনুপস্থিত। ফলে রাজনীতি ক্রমেই জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে এবং গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতাও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন যদি কঠোর মানদণ্ড নির্ধারণ না করে এবং নিয়মিত অডিট ও মাঠপর্যায়ের যাচাই চালু না করে, তাহলে ভবিষ্যতেও কাগুজে দলের সংখ্যা বাড়তেই থাকবে। তার ভাষায়, নির্বাচন থাকতে পারে, কিন্তু প্রকৃত রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা নিশ্চিত হবে না।

এদিকে, ১৪ দলীয় জোটের শরিক সাম্যবাদী দল, ওয়ার্কার্স পার্টি ও ন্যাপসহ চার-পাঁচটি দল আগেই ঘোষণা দিয়েছে, তারা এবারের নির্বাচনে অংশ নেবে না। অন্যদিকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণের সুযোগ নেই।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : খুলনার ৬টি আসনে প্রতীক পেলেন ৩৮ প্রার্থী

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন