নির্বাচন কেবল একটি রাজনৈতিক প্রক্রিয়া নয়- এটি ক্ষমতা, প্রভাব, কৌশল, আবেগ এবং কখনো কখনো ভয়ংকর ষড়যন্ত্রের গল্পও। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নির্মাতারা বারবার নির্বাচনী রাজনীতিকে তুলে এনেছেন সিনেমার পর্দায়। কোথাও সাংবাদিকতার অনুসন্ধান, কোথাও ভোটার ম্যানিপুলেশন, কোথাও গণতন্ত্র রক্ষার লড়াই- সব মিলিয়ে নির্বাচনভিত্তিক সিনেমাগুলো আজও দর্শক ও বিশ্লেষকদের কাছে সমান গুরুত্বপূর্ণ। আজকের এই আয়োজনে থাকছে নির্বাচন ও রাজনীতি নিয়ে বিশ্বের আলোচিত ১০টি সিনেমা।
অল দ্য প্রেসিডেন্টস মেন (১৯৭৬)
দেশ: যুক্তরাষ্ট্র
পরিচালক: অ্যালান জে পাকুলা
মার্কিন ইতিহাসের সবচেয়ে আলোচিত রাজনৈতিক কেলেঙ্কারি ‘ওয়াটারগেট স্ক্যান্ডাল’-এর ওপর ভিত্তি করে নির্মিত এই সিনেমা। ১৯৭২ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির গুপ্তচরবৃত্তি ও ক্ষমতার অপব্যবহার কীভাবে শেষ পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট রিচার্ড নিক্সনের পদত্যাগে গড়ায়—তার অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার গল্পই এখানে তুলে ধরা হয়েছে। সিনেমাটি দেখায়, একটি নির্বাচন কীভাবে পুরো রাষ্ট্রযন্ত্রকে নাড়িয়ে দিতে পারে এবং সত্য উদ্ঘাটনে গণমাধ্যমের ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ।এতে রবার্ট রেডফোর্ড ও ডাস্টিন হফম্যান অভিনয় করেছেন যথাক্রমে সাংবাদিক বব উডওয়ার্ড ও কার্ল বার্নস্টাইনের ভূমিকায়, যাঁরা দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট–এর হয়ে এই কেলেঙ্কারির অনুসন্ধান করেন।
দ্য আইডস অব মার্চ (২০১১)
দেশ: যুক্তরাষ্ট্র
পরিচালক: জর্জ ক্লুনি
আধুনিক নির্বাচনী রাজনীতির নৈতিক অবক্ষয়ের প্রতিচ্ছবি এই সিনেমা। একজন তরুণ ও আদর্শবাদী ক্যাম্পেইন ম্যানেজার ধীরে ধীরে উপলব্ধি করেন—নির্বাচনে জয় পেতে হলে নৈতিকতা অনেক সময় বিসর্জন দিতে হয়। ভোটার ইমেজ ম্যানেজমেন্ট, গোপন চুক্তি ও রাজনৈতিক বিশ্বাসঘাতকতাই সিনেমাটির মূল থিম।
২০০৮ সালে বিউ উইলিমনের লেখা নাটক ফ্যারাগাট নর্থ অবলম্বনে সিনেমাটির চিত্রনাট্য করেন গ্রান্ট হেসলভ ও বিউ উইলিমন। এতে অভিনয় করেছেন রায়ান গসলিং, জর্জ ক্লুনি, ফিলিপ সেমুর হফম্যান, পল জিয়ামাত্তি, মারিসা টোমেই, জেফরি রাইট ও ইভান র্যাচেল উড।
ওয়াগ দ্য ডগ (১৯৯৭)
দেশ: যুক্তরাষ্ট্র
পরিচালক: ব্যারি লেভিনসন
নির্বাচনের ঠিক আগে প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে কেলেঙ্কারি প্রকাশ হলে তা ঢাকতে তৈরি করা হয় একটি ভুয়া যুদ্ধের গল্প। মিডিয়া, ভয় ও জনমত ব্যবহার করে কীভাবে ভোটারদের মন ঘুরিয়ে দেওয়া যায়—এই সিনেমা তার ভয়ংকর উদাহরণ। ‘ফেক নিউজ’ ও ‘পোস্ট-ট্রুথ পলিটিক্স’-এর যুগে সিনেমাটি আরও বেশি প্রাসঙ্গিক।
ব্যারি লেভিনসন পরিচালিত এই রাজনৈতিক ব্যঙ্গধর্মী সিনেমায় অভিনয় করেছেন ডাস্টিন হফম্যান ও রবার্ট ডি নিরো।
প্রাইমারি কালারস (১৯৯৮)
দেশ: যুক্তরাষ্ট্র
পরিচালক: মাইক নিকোলস
একজন ক্যারিশমাটিক গভর্নরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী প্রচারণাকে কেন্দ্র করে নির্মিত সিনেমাটি বাস্তবে বিল ক্লিনটনের রাজনৈতিক জীবনের ছায়া বহন করে। আদর্শ, ব্যক্তিগত কেলেঙ্কারি ও নির্বাচনী কৌশলের সংঘাত এখানে স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে।
জো ক্লেইনের উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত এই সিনেমায় অভিনয় করেছেন জন ট্রাভোল্টা, এমা থম্পসন, বিলি বব থর্নটন ও অ্যাড্রিয়ান লেস্টার।
গেম চেঞ্জ (২০১২)
দেশ: যুক্তরাষ্ট্র
পরিচালক: জে রোচ
২০০৮ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান দলের ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রার্থী সারা পেইলিনকে কেন্দ্র করে নির্মিত এই সিনেমা। নির্বাচনী রাজনীতির ভেতরের চাপ, সিদ্ধান্তহীনতা ও মানবিক দুর্বলতা তুলে ধরা হয়েছে এখানে।
সিনেমাটিতে অভিনয় করেছেন জুলিয়ান মুর, উডি হ্যারেলসন ও এড হ্যারিস।
নো (২০১২)
দেশ: চিলি
পরিচালক: পাবলো লারাইন
১৯৮৮ সালে চিলির স্বৈরশাসক অগাস্টো পিনোশের ক্ষমতায় থাকার প্রশ্নে অনুষ্ঠিত গণভোটে ‘না’ ভোটের পক্ষে পরিচালিত অভিনব প্রচারণার গল্প নিয়ে নির্মিত সিনেমাটি। বিজ্ঞাপন, স্লোগান ও ইতিবাচক বার্তা কীভাবে একটি জাতির ভাগ্য বদলে দিতে পারে—তা এখানে স্পষ্টভাবে দেখানো হয়েছে।
এই সিনেমাটি ৮৫তম একাডেমি অ্যাওয়ার্ডে সেরা বিদেশি ভাষার চলচ্চিত্র বিভাগে মনোনীত হয়েছিল। প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন গায়েল গার্সিয়া বার্নাল।
সরকার (২০০৫)
দেশ: ভারত
পরিচালক: রাম গোপাল ভার্মা
যদিও ‘সরকার’ সরাসরি নির্বাচনকেন্দ্রিক নয়, তবে ক্ষমতা দখল ও রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের দিক থেকে এটি বলিউডের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সিনেমা। এখানে দেখানো হয়েছে—নির্বাচিত সরকারের বাইরেও কীভাবে একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়ন্ত্রণ করেন।
অভিনয় করেছেন অমিতাভ বচ্চন, অভিষেক বচ্চন, কে কে মেনন, সুপ্রিয়া পাঠক, অনুপম খের ও কোটা শ্রীনিবাস রাও।
দ্য ওয়ার রুম (১৯৯৩)
দেশ: যুক্তরাষ্ট্র
পরিচালক: ডি এ পেনবেকার ও ক্রিস হেজেডাস
এটি একটি তথ্যচিত্র হলেও উত্তেজনার দিক থেকে কোনো থ্রিলার সিনেমার চেয়ে কম নয়। ১৯৯২ সালে বিল ক্লিনটনের প্রথম প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী প্রচারণার সময় তাঁর নির্বাচনী দপ্তর ‘ওয়ার রুম’-এ ক্যামেরা নিয়ে ঢুকে পড়েন নির্মাতারা।
প্রার্থীদের পেছনের কৌশলী দল কীভাবে সংকট সামলায় ও জনমত নিয়ন্ত্রণ করে—এই তথ্যচিত্রে সেই অদৃশ্য রাজনীতির ছবি উঠে এসেছে।
আওয়ার ব্র্যান্ড ইজ ক্রাইসিস (২০১৫)
দেশ: যুক্তরাষ্ট্র
পরিচালক: ডেভিড গর্ডন গ্রিন
২০০২ সালের বলিভিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নির্মিত এই রাজনৈতিক কমেডি-ড্রামা সিনেমায় দেখানো হয়েছে বিদেশি পরামর্শদাতাদের প্রভাব ও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের বাস্তবতা।
সিনেমাটিতে অভিনয় করেছেন স্যান্ড্রা বুলক, বিলি বব থর্নটন ও অ্যান্থনি ম্যাকি।
গুলাল (২০০৯)
দেশ: ভারত
পরিচালক: অনুরাগ কাশ্যপ
ছাত্র রাজনীতি, নির্বাচন ও ক্ষমতার রাজনীতির নিষ্ঠুর বাস্তবতা তুলে ধরেছে ‘গুলাল’। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা রাজনৈতিক দলাদলি, ভোটের হিসাব আর আদর্শের সংঘাত এই সিনেমার মূল বিষয়। সিনেমাটির কাহিনী বর্তমান রাজস্থান, উত্তর-পশ্চিম ভারতের একটি রাজ্যের উপর ভিত্তি করে তৈরি। রাজনীতি এবং আর্থিক কারণে ‘গুলাল’ প্রথমে স্থগিত করা হয়েছিল কিন্তু পরে জি লাইমলাইটের সহায়তায় মুক্তি পায়।
এতে অভিনয় করেছেন রাজ সিং চৌধুরী , কে কে মেনন , অভিমন্যু সিং , দীপক ডোব্রিয়াল , আয়েশা মোহন, জেসি রন্ধাওয়া , পীযূষ মিশ্র এবং আদিত্য শ্রীবাস্তব।
পড়ুন:নিউ ইয়র্কে বিপজ্জনক মাত্রায় নামবে ঠাণ্ডা, সতর্কতা জারি
দেখুন:সরকারিভাবে মালয়েশিয়া গেলেন ৩০ কর্মী, চাহিদা দশ হাজার
ইম/


