অদম্য কাপ চলাকালে বিসিবি প্রেসিডেন্ট বক্সে ফারুক আহমেদ, খালেদ মাসুদ পাইলট ও এম নাজমুলের ছবি তোলায় একটি দৈনিক পত্রিকার ফটো সাংবাদিককে বিসিবির হেড অব সিকিউরিটি ইমেইল পাঠিয়ে অ্যাক্রিডিটেশন বাতিলের হুমকি দেন। তারই প্রতিবাদস্বরূপ আজকের (৯ ফেব্রুয়ারি) ফাইনাল বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ক্রীড়া সাংবাদিকরা।
ঘটনা মূলত অদম্য কাপের দ্বিতীয় দিন অর্থাৎ ৬ ফেব্রুয়ারির। ম্যাচ চলাকালে বিসিবির প্রেসিডেন্ট বক্সে থাকা ফারুক আহমেদ, খালেদ মাসুদ পাইলট ও এম নাজমুলের একটি ছবি তোলেন ডেইলি সান পত্রিকার ফটোসাংবাদিক তানভীন তামিম। ছবিতে ফারুকদের অঙ্গভঙ্গি এবং ক্যাপশন থেকে নাজমুলের সঙ্গে ফারুক এবং পাইলটের একটি দ্বন্দ্বের আভাস মিলেছিল। তাই ছবিটি প্রকাশের পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ সাড়া পড়ে যায়।
তবে এই ছবির বিষয়টি ভালোভাবে নেয়নি বিসিবি। ছবিটি প্রকাশের পরের দিন অর্থাৎ ৭ ফেব্রুয়ারি ডেইলি সানের ওই ফটোসাংবাদিককে অ্যাক্রেডিটেশন বাতিলের হুমকি এবং এমন ছবি তোলা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়ে একটি মেইল পাঠায় বিসিবি৷ শুধু তাই নয়, গতকাল সিসিডিএম কাপের ফাইনাল ম্যাচ দেখতে গিয়ে ফারুক জানান, ছবিটি এআই দিয়ে তৈরি এবং এমন সাংবাদিকতা প্রত্যাশিত নয়।
বিসিবির বারংবার এমন আক্রমণাত্মক বক্তব্যের বিরুদ্ধে এবার প্রতিবাদ জানিয়েছেন ক্রীড়া সাংবাদিকরা। আজ ম্যাচের আগে ক্রীড়া সাংবাদিকরা একটি সংক্ষিপ্ত সভা করে সিদ্ধান্ত নেন প্রতিবাদ জানানোর। ম্যাচ শুরুর আগে প্রেসবক্সের ছাদে একটি ব্যানার নিয়ে প্রতিবাদ জানান তারা।
সেখানে লেখা ছিল, ‘সাংবাদিকতা কোনো অপরাধ নয়। আমরা ক্রীড়া সাংবাদিক, আমাদের চুপ করানোর চেষ্টা করবেন না।’
বিসিবির মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেনকে ম্যাচ শুরুর আগেই জানানো হয়, বিসিবির পক্ষ থেকে বিবৃতি দিয়ে ক্ষমা না চাইলে ম্যাচ বয়কট করতে পারেন ক্রীড়া সাংবাদিকরা। তবে বিসিবির পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া না আসায় শেষমেশ ম্যাচ বর্জনের সিদ্ধান্ত নেন সাংবাদিকরা।
বিভিন্ন ইস্যুতে বর্তমান সময়ে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো যাচ্ছে না গণমাধ্যমকর্মীদের। চলতি মাসের শুরুতেই ‘নিরাপত্তা ইস্যু’তে বিসিবিতে গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতির সময় সংক্ষিপ্ত করা হয়। সেই ইস্যু ধরে গত ৫ ফেব্রুয়ারি বাকবিতণ্ডায় জড়ান সাংবাদিক এবং বিসিবির গ্রাউন্ডস কমিটির চেয়ারম্যান খালেদ মাসুদ পাইলট। সেদিনও সংবাদ সম্মেলন বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন সাংবাদিকরা৷ মাত্র ৪ দিনের ব্যবধানে আবারও বিসিবিতে দেখা গেল বয়কট।
দেশের ক্রিকেট এবং ক্রীড়া সাংবাদিকতার ইতিহাসে এমন ঘটনাকে ন্যাক্কারজনক হিসেবে দাবি করেছেন ক্রীড়া সাংবাদিকরা। তাদের দাবি, বিসিবি স্বাধীন সাংবাদিকতার পথে অন্তরায় তৈরি করছে। প্রতিনিয়ত এমন ঘটনা দেশের ক্রীড়া সাংবাদিকতাকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তারা।
পড়ুন : বাংলাদেশ আমাদের ভাই: বিশ্বকাপে সমর্থন চাইলেন পাকিস্তান অধিনায়ক


