হাওরাঞ্চলে ধানই একমাত্র প্রধান কৃষি ফসল। বছরের ৬ মাস এ অঞ্চল পানির নিচে থাকায় অন্য কোনো সময় কৃষি আবাদ করা প্রায় অসম্ভব। এ জন্য কিশোরগঞ্জের হাওর অধ্যুষিত ইটনা-মিঠামইন ও অষ্টগ্রাম উপজেলার সর্বত্র ভোটের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে এখন হাওরের কৃষি ও কৃষকের উন্নয়ন ভাবনা ঘিরে চলছে চুলচেরা বিশ্নেষণ। ভোটাররাও মেলাচ্ছেন নানা সমীকরণ।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বাকি আর মাত্র দুইদিন। এই মুহুর্তে চলছে নির্বাচনের সর্বশেষ প্রস্তুতি। নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নিশ্চিতের জন্য স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এরই মধ্যে সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও তাদের কর্মী-সমর্থকদেরও যেন দম ফেলার সময় নেই।
জানা গেছে,
কিশোরগঞ্জের ৬টি সংসদীয় আসনের মধ্যে কিশোরগঞ্জ-৪ আসনটি আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কে হবেন এ অঞ্চলের ভবিষ্যত কান্ডারী-এ নিয়ে স্থানীয় ভোটাররা ছাড়াও জেলার সর্বত্র নানা কারণেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। এ আসন থেকে ইতোমধ্যে দলীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে দেশের রাষ্ট্রপতি-স্পিকারের পদ অলংকরনসহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।
অপরদিকে আসছে সংসদ নির্বাচনে কিশোরগঞ্জের ৬টি সংসদীয় আসনের মধ্যে কাজী রেহা কবির সিগমাই একমাত্র স্বতন্ত্র নারী প্রার্থী। তিনি উচ্চ শিক্ষিত-সমাজকর্মী, গবেষক ও উদ্যোক্তা হিসেবে পরিচিত। কিশোরগঞ্জ-৪ আসনে তিনি ছাড়াও আরও সাতজন প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন-বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য-বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর অ্যাডভোকেট রোকন রেজা শেখ, স্বতন্ত্র প্রার্থী ডাঃ শাহীন রেজা চৌধুরী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের বিল্লাল আহমেদ মজুমদার, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের খায়রুল ইসলাম ঠাকুর, ইনসানিয়াত বিপ্লব-বাংলাদেশের নূরুল ইসলাম এবং ন্যাশনাল পিপলস পার্টির জয়নাল আবেদিন।
কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদীয় এলাকায় এবারের সংসদ নির্বাচনে যারা হাওরকে বাঁচিয়ে রেখে উন্নয়ন করবেন, ভোটের দিন সাধারণ জনগণ সেই কাঙ্খিত ব্যক্তিকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবেন-এমনটাই এখন চাউর হচ্ছে চায়ের স্টল থেকে সর্বত্র। এ ক্ষেত্রে ইটনা-মিঠামইন ও অষ্টগ্রাম উপজেলা নিয়ে গঠিত এই সংসদীয় আসনে শিক্ষা-স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান ও সার্বিক উন্নয়নকল্পে পরিবর্তনের প্রত্যাশায় স্বতন্ত্র প্রার্থী কাজী রেহা কবির সিগমার ‘ফুটবল’ মার্কায় আস্থা ভোটারের-এমন গুঞ্জন এলাকায় চাউর হচ্ছে।
‘আলোকিত হাওরের স্বপ্ন’ এই স্লোগানকে ধারণ করে ‘রাজনীতি প্রতিশ্রুতি নয়-পরিবর্তনের অঙ্গীকার’ এমন দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়ে ভবিষ্যতে নিবেদিত হয়ে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতাকারী স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী কাজী রেহা কবির সিগমা। আর সিগমার ভাষ্যমতে, ভোটাররাও পরিবর্তনের প্রত্যাশা করছেন এবং সেই বার্তা ইতোমধ্যে সংসদীয় এলাকার মানুষের কাছে পৌঁছেছে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
হাওরের উন্নয়ন ভাবনা প্রসঙ্গে কাজী সিগমা গণমাধ্যমে বলেন, ‘হাওরাঞ্চলের কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নই তার রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু। এ লক্ষ্যে নদী ও জলমহাল দখলমুক্ত করা, জলাবদ্ধতা নিরসন, আবদ্ধ জলাশয় ও নদী পুনঃখনন এবং কৃষিপণ্যের উৎপাদন ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতে ‘বিশেষ হাওর কৃষি হাব’ বাস্তবায়নের তার পরিকল্পনা রয়েছে। এ জন্য তিনি ‘কৃষি ও কৃষকের উন্নয়ন’, ‘সবার জন্য সুচিকিৎসা’ ‘সবার জন্য শিক্ষা’ ও ‘সামাজিক বুনন ও সম্প্রীতি’ শিরোনামে ১৩ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন।
তিনি বলেন, নারীদের সুসংগঠিত করে এবং তরুণসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষের মন জয় করে এগিয়ে যেতে চাই। আমার বড় শক্তি এলাকার সর্বস্তরের জনগণ। তাই আমি সংসদীয় এলাকার মানুষকে সম্মানের জায়গায় নিয়ে যেতে সকলের সহযোগিতা চাই।
জেলা নির্বাচন অফিসের সর্বশেষ তথ্যমতে, কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সর্বমোট ভোটার সংখ্যা ৪ লক্ষ ৮ হাজার ৩৫২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লক্ষ ১১ হাজার ১৮২ জন এবং নারী ভোটার ১ লক্ষ ৯৭ হাজার ১৬৬ জন। এছাড়া তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছে ৪ জন। এই আসনে সর্বমোট ভোটকেন্দ্র ১৫০টি, ভোটকক্ষের সংখ্যা ৭৯৬টি এবং অস্থায়ী ভোটকক্ষ রয়েছে ৩০টি।
পড়ুন- জামায়াত খুব কৌশলী দল, জনগণ অনেক চালাক: মির্জা ফখরুল
দেখুন- সুনামগঞ্জে স্বামীর নির্বাচনী প্রচারণায় মাঠে নামলেন স্ত্রী


