১২/০২/২০২৬, ১৬:০০ অপরাহ্ণ
28 C
Dhaka
১২/০২/২০২৬, ১৬:০০ অপরাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশে ‘নারীর স্বাধীনতা হুমকিতে’

ঘড়ির কাঁটা যখন মধ্যরাত ছুঁল, তখন নারীরা হাতে মশাল উঁচিয়ে ঢাকার রাস্তায় মিছিল করলেন। যানবাহনের প্রচণ্ড শব্দ ছাপিয়ে তাদের জোরালো কণ্ঠ শোনা যাচ্ছিল। তারা স্লোগান দিচ্ছিলেন, ‘রক্ত দিল জনতা, এবার চাই সমতা’।

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশের অনেক মানুষের কাছে গত কয়েক সপ্তাহ ছিল আনন্দের উপলক্ষ। ১৭ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি পেয়েছেন তারা। 

আজ বৃহস্পতিবার এ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ। ২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্রদের নেতৃত্বে এক রক্তক্ষয়ী আন্দোলনে শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটে। ওই আন্দোলনে সহস্রাধিক মানুষ প্রাণ হারান।

গতকাল বুধবার দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। এতে বলা হয়, দীর্ঘদিন নির্যাতনের শিকার ও কারাবন্দি থাকা বিরোধী নেতারা এবার প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। বহু বছর পর অবাধে জনসভা করছেন তারা। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বর্তমানে ভারতে নির্বাসিত আছেন। বাংলাদেশে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডের মুখোমুখি তিনি। তাঁর দল আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অগ্রভাগে থাকা নারীরাসহ দেশের অনেক নারীর কাছে নির্বাচন ঘিরে আশাটা এখন হতাশা আর ভয়ে পরিণত হয়েছে। রক্ষণশীল ইসলামপন্থি রাজনীতির পুনরুত্থান ও নির্বাচনে নারী প্রার্থীদের সংখ্যা কম থাকার বিষয়টি নারী অধিকারকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

২৫ বছর বয়সী সাবিহা শারমিন সম্প্রতি মধ্যরাতে নারীদের ওই মিছিলে অংশ নিয়েছিলেন। তিনি বলেন, ‘এ নির্বাচন তো পরিবর্তন ও সংস্কারের প্রতীক হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু এখন আমরা দেখছি– নারীদের পদ্ধতিগতভাবে উপেক্ষা করা হচ্ছে এবং তাদের অধিকার হুমকির মুখে। আমাদের শঙ্কা– এ নির্বাচন দেশকে ১০০ বছর পিছিয়ে দিতে পারে।’

শেখ হাসিনার শাসনামলে সবচেয়ে দমনপীড়নের শিকার রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল জামায়াতে ইসলামী। ওই সময় নির্বাচনে কারচুপি হতো এবং বিরোধীদের ওপর দমনপীড়ন চলত। জামায়াতে ইসলামী একটি ইসলামপন্থি দল, যারা বাংলাদেশে শরিয়াহ আইন প্রবর্তনে বিশ্বাসী। শেখ হাসিনার শাসনামলে দলটির নেতাদের কেউ কারাবন্দি হয়েছিলেন, কেউ গুমের শিকার আবার কেউ মৃত্যুদণ্ডের মুখোমুখি হয়েছিলেন।

শেখ হাসিনার পতনের পর জামায়াতে ইসলামী নজিরবিহীন উদ্যমে সক্রিয় হয়ে উঠেছে এবং নিজেকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে উপস্থাপন করছে। অথচ আগে ধারণা করা হচ্ছিল, নির্বাচনে বিএনপি সহজ জয় পাবে। সীমিত সংখ্যক জরিপের ফলাফলও ইঙ্গিত দিচ্ছে, বিএনপি সম্ভবত নির্বাচনে জয়ী হবে। তবে জামায়াতে ইসলামী নির্বাচনে অতীতের যে কোনো সময়ের তুলনায় বেশি ভোট পাবে। দলটি নির্বাচনের পর গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হবে।

ক্রাইসিস গ্রুপের বাংলাদেশবিষয়ক সিনিয়র কনসালট্যান্ট টমাস কিন বলেন, বড় বিরোধী দল হিসেবে হোক, কিংবা ক্ষমতাসীন সরকার হিসেবেই হোক, বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে একটি প্রভাবশালী ইসলামপন্থি দল কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করবে বলে মনে হচ্ছে। সমালোচকরা বলছেন, ইতোমধ্যে সমাজে রক্ষণশীল ইসলামপন্থি রাজনীতির উত্থান ঘটেছে। গ্রামাঞ্চলে মেয়েদের ফুটবল খেলায় ধর্মীয় নেতাদের বাধা দিতে দেখা গেছে। তারা নারীদের ফুটবল খেলাকে ‘অশ্লীল’ বলে উল্লেখ করেছেন। এ ছাড়া নারীরা অভিযোগ করেছেন, মাথার চুল ঢেকে না রাখা ও পোশাককে কেন্দ্র করে তাদের সহিংসতা ও হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে।

জামায়াতে ইসলামী সংস্কার, হয়রানি থেকে নারীদের নিরাপত্তা দেওয়া ও সুষ্ঠু রাজনীতির প্রতিশ্রুতি দিলেও দলটির পক্ষ থেকে একজন নারী প্রার্থীও নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন না। এ বিষয়ে দলের নেতা শফিকুর রহমানের বক্তব্যে প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। 

আলজাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শফিকুর রহমান বলেন, কোনো নারী কখনোই দলটির নেতা হতে পারবেন না। কারণ এটা অনৈসলামিক। এ ছাড়া গত বছর তাঁর করা একটি মন্তব্য নিয়ে আবারও আলোচনা তৈরি হয়েছে। তিনি বৈবাহিক ধর্ষণের অস্তিত্ব থাকার কথা অস্বীকার করেছিলেন। তিনি তখন দুজন অসৎ নারী-পুরুষের বিবাহবহির্ভূত যৌন সম্পর্ককে ‘ধর্ষণ’ বলে উল্লেখ করেছিলেন।

ঢাকায় মধ্যরাতের ওই মিছিলে অংশ নেওয়া ২১ বছর বয়সী পদার্থবিজ্ঞানের ছাত্রী জায়বা তাহজীব বলেন, ‘এ ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি ও নীতিমালার কথা আপনি ইরান ও আফগানিস্তানে শুনতে পাবেন। নারীর সার্বভৌমত্ব, আমাদের মুক্তি, আমাদের স্বাধীনতা– সবই এ নির্বাচনে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।’

জামায়াতে ইসলামীর প্রস্তাবিত নীতিগুলোর একটি হলো নারীদের কর্মঘণ্টা আট ঘণ্টা থেকে কমিয়ে পাঁচ ঘণ্টা করা। বাকি তিন ঘণ্টার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে ভর্তুকি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের কর্মজীবী জনসংখ্যার ৪৪ শতাংশ নারী, যা দক্ষিণ এশিয়ায় সর্বোচ্চ।

পড়ুন:এশিয়ায় ‘রক্ষণশীলদের’ জয়, সংস্কার নাকি স্থিতিশীলতা কী চাইছেন ভোটার

দেখুন:নির্বাচন ঘিরে রাজধানীতে নিরাপত্তা জোরদার 

ইম/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন