১২/০২/২০২৬, ১৬:০৭ অপরাহ্ণ
28 C
Dhaka
১২/০২/২০২৬, ১৬:০৭ অপরাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশের বাজার হারাচ্ছে ইউক্রেন, দাপট বাড়ছে যুক্তরাষ্ট্রের

বাংলাদেশে সস্তা গম আমদানির বড় দুই উৎসের একটি ছিল ইউক্রেন। কিন্তু রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর দেশটি ধীরে ধীরে বাংলাদেশের বাজার হারাচ্ছে। অন্যদিকে বাজার হিস্যা কমলেও বাংলাদেশে গম আমদানির প্রধান উৎস এখনো রাশিয়া। পুরোনো এই দেশের পাশাপাশি দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশে গম সরবরাহের বাজারে ফিরেছে যুক্তরাষ্ট্র।

বিজ্ঞাপন

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আমদানির তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বৈশ্বিক যুদ্ধ ও বাণিজ্যনীতির পরিবর্তনের প্রভাবে বাংলাদেশে গম সরবরাহের দেশভিত্তিক অংশীদারিতে বড় ধরনের রদবদল হয়েছে।

এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত প্রায় সাত মাসে বাংলাদেশে গম আমদানি হয়েছে ৪০ লাখ টন। গত অর্থবছরের একই সময়ে আমদানি হয়েছিল ৩২ লাখ ৯২ হাজার টন। এক বছরে গম আমদানি বেড়েছে প্রায় ২১ দশমিক ৫ শতাংশ। এ সময়ে গম আমদানিতে ব্যয় হয়েছে ১১১ কোটি ৮৪ লাখ মার্কিন ডলার। সরবরাহকারী দেশগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা বাড়লেও মূল্য সাশ্রয় ও সরবরাহ সক্ষমতাই গমের বাজারে মূল নির্ধারক হয়ে উঠেছে বলে জানান আমদানিকারকেরা।

বাংলাদেশে মূলত দুই ধরনের গম আমদানি হয়। কম আমিষযুক্ত গম ব্যবহৃত হয় কেক, বিস্কুটসহ বেকারিশিল্পে, যা আসে কৃষ্ণসাগর অঞ্চল ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলো থেকে। আর উচ্চ আমিষযুক্ত গম পরোটা, পাস্তা ও নুডলস তৈরিতে ব্যবহার হয়। এই গম আমদানি করা হয় কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়া থেকে। এই দুই ধরনের গম মিশিয়েই তৈরি হয় আটা–ময়দা। পাশাপাশি প্রাণিখাদ্য হিসেবেও গমের ব্যবহার বাড়ছে।

শীর্ষে ফিরেছে রাশিয়া

রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর আগে রাশিয়াই ছিল বাংলাদেশের গম সরবরাহের সবচেয়ে বড় উৎস। যুদ্ধ শুরুর পর ২০২২–২৩ অর্থবছরে দেশটি শীর্ষস্থান হারালেও এক বছরের ব্যবধানে আবারও শীর্ষে ফিরে এসেছে। এই ধারা অব্যাহত আছে চলতি অর্থবছরেও। চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে রাশিয়া থেকে আমদানি হয়েছে ১৫ লাখ ৩৮ হাজার টন গম, যা মোট আমদানির প্রায় ৩৮ শতাংশ। গড়ে টনপ্রতি ২৬৫ ডলারে এই গম আমদানি হয়েছে। আগের অর্থবছরের তুলনায় আমদানির পরিমাণ কিছুটা কমলেও বাজারে রাশিয়ার অবস্থান এখনো শক্তিশালী।

বাজার হারাচ্ছে ইউক্রেন

যুদ্ধের আগে ইউক্রেন থেকে প্রতিবছর বাংলাদেশের মোট গম আমদানির ২৩ থেকে ৩০ শতাংশ আসত। কিন্তু যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই দেশটি ধারাবাহিকভাবে এ দেশের বাজার হারাচ্ছে। গত ২০২৪–২৫ অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে ইউক্রেন থেকে আমদানি হয়েছিল ৬ লাখ ১৯ হাজার টন গম, যা ছিল ওই সময়ের মোট আমদানির প্রায় ১৯ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের একই সময়ে দেশটি থেকে আমদানি নেমে এসেছে ১ লাখ ৬১ হাজার টনে, যা মোট আমদানির মাত্র ৪ শতাংশ। এক বছরের ব্যবধানে প্রায় ১৫ শতাংশ বাজার হারিয়েছে ইউক্রেন।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাবর্তন

দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশের গম আমদানিতে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ছিল দুর্বল। গত অর্থবছরে দেশটি থেকে কোনো গম আমদানি হয়নি। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পাল্টা শুল্ক ঘিরে বৈশ্বিক বাণিজ্যে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়। এর প্রভাবে বাংলাদেশ সরকার বাণিজ্যঘাটতি কমানোর উদ্যোগ নেয়। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে গত বছরের জুলাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের গম রপ্তানিকারকদের সংগঠন ইউএস হুইট অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সই করে বাংলাদেশ। চুক্তি অনুযায়ী, পাঁচ বছরে প্রতিযোগিতামূলক দামে বছরে সাত লাখ টন করে গম আমদানির কথা রয়েছে। এর ফলে দীর্ঘ বিরতির পর আবারও যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের গম সরবরাহের বাজারে ফিরেছে।

এনবিআরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি হয়েছে ৩ লাখ ৬৯ হাজার টন গম, যা মোট আমদানির প্রায় ৯ শতাংশ। এতে দেশটি এখন বাংলাদেশের তৃতীয় বৃহত্তম গম সরবরাহকারী। সরকারি আমদানির পাশাপাশি বেসরকারি খাতেও যুক্তরাষ্ট্র থেকে গম আসতে শুরু করেছে। ঢাকার জহির গ্রুপ সম্প্রতি প্রায় ১৬ হাজার টনের একটি চালান আমদানি করেছে।

ফিরেছে ব্রাজিল–আর্জেন্টিনাও

যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি এবার ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা থেকেও গম আমদানি হয়েছে। গত অর্থবছরে দেশ দুটি থেকে কোনো গম আসেনি। চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে এই দুই দেশ থেকে মোট ৩ লাখ ৮৮ হাজার টন গম আমদানি হয়েছে। দেশ দুটি থেকে আগে অনিয়মিতভাবে গম আমদানি হতো।

প্রতিযোগিতানির্ভর বাজার

দেশে গমের মোট চাহিদার মাত্র ১৪–১৫ শতাংশ স্থানীয় উৎপাদন থেকে আসে। বাকি ৮৫ শতাংশই আমদানিনির্ভর। এক দশক আগে গম আমদানিতে বছরে প্রায় ১০০ কোটি ডলার ব্যয় হতো। চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই ব্যয় এখন দেড় থেকে দুই বিলিয়ন বা ১৫০ থেকে ২০০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে।

গত ২০২৩–২৪ অর্থবছরে গম আমদানিতে ব্যয় হয়েছিল ২০৫ কোটি ডলার। বিশ্ববাজারে দাম কম থাকায় গত অর্থবছরে এই খরচ কমে নেমে আসে ১৬৩ কোটি ডলারে। আর চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে গম আমদানি হয়েছে ১১১ কোটি ডলারের।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডেল্টা অ্যাগ্রো ফুড ইন্ডাস্ট্রির ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমিরুল হক প্রথম আলোকে বলেন, ‘যে দেশ থেকে প্রতিযোগিতামূলক দামে গম পাওয়া যায়, আমদানি স্বাভাবিকভাবেই সেদিকেই ঝুঁকে পড়ে। এ কারণেই গম আমদানিতে উৎস দেশ বদলাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র থেকে দাম প্রতিযোগিতামূলক থাকলে সেখান থেকে আমদানি আরও বাড়বে।’

পড়ুন:এশিয়ায় ‘রক্ষণশীলদের’ জয়, সংস্কার নাকি স্থিতিশীলতা কী চাইছেন ভোটার

দেখুন:নির্বাচন ঘিরে রাজধানীতে নিরাপত্তা জোরদার 

ইম/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন