১৩/০২/২০২৬, ০:২৪ পূর্বাহ্ণ
20 C
Dhaka
১৩/০২/২০২৬, ০:২৪ পূর্বাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

লাঠির ভর, এক পা আর অদম্য ইচ্ছাশক্তি সবুর মিয়ার ভোট যেন গণতন্ত্রের নীরব জয়গান

ভোট কেন্দ্রের পথে প্রতিটি ধাপ যেন কষ্টের গল্প। এক পা নেই, শরীর ক্লান্ত, বয়স ৭৫। তবু থামেননি আব্দুর সবুর মিয়া। লাঠিতে ভর করে তিনি এসেছেন শুধু একটি কারণে, ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য। কারণ তার কাছে ভোট মানে কাগজে সিল নয়, ভোট মানে জীবনের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে নিজের অস্তিত্বের স্বীকৃতি।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টার দিকে ধামরাই উপজেলার কাইটামারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে হঠাৎ সবার দৃষ্টি আটকে যায় একজন বৃদ্ধের দিকে। ধীরে, খুব ধীরে এগিয়ে আসছেন তিনি। প্রতিটি পা ফেলার সঙ্গে সঙ্গে মুখে ফুটে উঠছে কষ্টের ছাপ, তবু চোখে দৃঢ় সংকল্প।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শারীরিক অক্ষমতা ও নানা প্রতিকূলতায় দীর্ঘ ১৭ বছর ভোট দেওয়া হয়নি তার। সেই না-পারার বেদনা যেন আজ ভোটকক্ষে ঢোকার আগেই চোখের কোণে জমে ওঠে।

ভোটাধিকার প্রয়োগ শেষে সবুর মিয়া বলেন,
এই কষ্টের কাছে হার মানিনি। আজ ভোট দিতে পেরে শান্তি পেয়েছি। মনে হচ্ছে বহুদিনের দেনা শোধ হলো।

তার কথায় কাঁপুনি ছিল, চোখে ছিল অশ্রু। আশপাশে থাকা অনেক ভোটারও আবেগ সামলাতে পারেননি। কেউ কেউ বলছিলেন, এই বৃদ্ধই আজ ভোটের প্রকৃত মানে বুঝিয়ে দিলেন।

শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট দিতে আসা অন্যান্য ভোটারদের মাঝেও সবুর মিয়ার উপস্থিতি এক অনন্য বার্তা ছড়িয়ে দেয়। গণতন্ত্র বেঁচে থাকে তখনই, যখন একজন মানুষ সমস্ত কষ্টের ঊর্ধ্বে উঠে নিজের অধিকার আদায় করতে জানে।
আব্দুর সবুর মিয়ার এই ভোট শুধু একটি ব্যালট নয়, এটি সাহস, ধৈর্য আর নাগরিক চেতনার এক জীবন্ত দলিল।

পড়ুন- সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হওয়ায় জাতির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রধান উপদেষ্টার

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন