ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনার ছয়টি সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করা ৩৮ প্রার্থীর মধ্যে ২৬ জনই জামানত হারিয়েছেন। নির্বাচন কমিশনের বিধান অনুযায়ী, প্রদত্ত মোট ভোটের এক অষ্টমাংশ (৮ ভাগের ১ ভাগ) ভোট না পেলে প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। ঘোষিত বেসরকারি ফলাফলে দেখা গেছে, ১২ জন প্রার্থী ছাড়া বাকিরা প্রয়োজনীয় ভোটসংখ্যা অর্জন করতে পারেননি।
বৃহস্পতিবার রাতভর ভোট গণনা শেষে জেলা প্রশাসক ও খুলনা-১, ২, ৪, ৫ ও ৬ আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তা আ স ম জামসেদ খোন্দকার এবং খুলনা-৩ আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ফয়সল কাদের পৃথকভাবে ফল ঘোষণা করেন।
ফলাফল অনুযায়ী খুলনা-১ আসনে ১২০টি কেন্দ্রে মোট ভোটার ৩ লাখ ৭ হাজার ১০৩ জন। ভোট পড়েছে ২ লাখ ১০ হাজার ৮৯৯টি। এ আসনে জামানত রক্ষায় প্রয়োজন ২৬ হাজার ৩৬২.৩৭৫টি ভোট। এ আসনে বিএনপির আমির এজাজ খান ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ২১ হাজার ৩৫২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর কৃষ্ণ নন্দী দাঁড়িপাল্লায় পেয়েছেন ৭০ হাজার ৩৪৬ ভোট।
এ আসনে ৮ ভাগের এক ভাগ ভোট না পেয়ে জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে- ইসলামী আন্দোলনের হাতপাখা প্রতীকের আবু সাইদ ৫৬১৯ ভোট, জাতীয় পার্টির জাহাঙ্গীর হোসেন লাঙ্গল প্রতীকে ৬৩০ ভোট, ইসলামী ফ্রন্টের সুনীল শুভ রায় মোমবাতি প্রতীকে ৮৮১ ভোট, সিপিবির কিশোর কুমার রায় কাস্তে প্রতীকে ৪৭৪২ ভোট, কলস প্রতীকের গোবিন্দ হালদার ৮৯৪ ভোট, গণঅধিকার পরিষদের জি এম রোকনুজ্জামান ট্রাক প্রতীকে ৮৪ ভোট, বিএমজেপির রকেট প্রতীকে প্রবীর গোপাল রায় ৫৬৭ ভোট, তাঁরা প্রতীকে জেএসডির প্রসেনজিৎ দত্ত ৫১৩ ভোট, ঘোড়া প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী অচিšন্ত কুমার ৭১০ ভোট, বিইপির দোয়াত কলম প্রতীকে সুব্রত মন্ডল ১৬৯ ভোট।
খুলনা-২ আসনে ১৫৮টি কেন্দ্রে মোট ভোটার রয়েছেন ৩ লাখ ৩৫ হাজার ২৪৩ জন। ভোট পড়েছে ১ লাখ ৮৯ হাজার ২৮৪টি। জামানত রক্ষায় প্রদত্ত মোট ভোটের ৮ ভাগের এক ভাগে আসে ২৩ হাজার ৬৬০.৫টি ভোট। নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর মহানগর সেক্রেটারি শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ৯৩ হাজার ৭৮৯ ভোট ও তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির নজরুল ইসলাম মঞ্জু ধানের শীষ প্রতীকে ৮৮ হাজার ১৯৭ ভোট পান। এ আসনে নিয়ম অনুযায়ী ভোট না পেয়ে জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমানল্লাহ ৭ হাজার ২৯৮ ভোট।
খুলনা-৪ আসনে ১৪৫টি কেন্দ্রে ৩ লাখ ৭৮ হাজার ৪৫৩ জন ভোটার। প্রদত্ত ভোট ২ লাখ ৪৬ হাজার ৮১৬টি। জামানত রক্ষায় ৮ ভাগের এক ভাগ হয় ৩০ হাজার ৮৫২টি ভোট। এ আসনে বিএনপির কেন্দ্রীয় তথ্য বিষয়ক সম্পাদক এস কে আজিজুল বারী হেলাল ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ২৩ হাজার ১৬২ ভোট ও তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী খেলাফত আন্দোলনের মাওলানা সাখাওয়াত হোসেন দেয়াল ঘড়ি প্রতীকে ১ লাখ ৯ হাজার ৫৩০ ভোট পান। নিয়ম অনুযায়ী ভোট না পাওয়ায় জামানত হারিয়েছেন ইসলামী আন্দোলনের ইউনুস আহমেদ শেখ হাতপাখা প্রতীকে ১৩ হাজার ৩৪৫ ভোট ও স্বতন্ত্র প্রার্থী ফুটবল প্রতীকে এস এম আজমল হোসেন পেয়েছেন ৮৫৯ ভোট।
খুলনা-৫ আসনে ১৫১টি কেন্দ্রে মোট ভোটার ৪ লাখ ২ হাজার ৭৯৮টি। প্রদত্ত ভোট ২ লাখ ৯৮ হাজার ২০৯ ভোট। জামানত রক্ষায় ৮ ভাগের ১ ভাগে প্রয়োজন ৩৭ হাজার ২৭৬.১২৫টি ভোট। বিএনপির আলী আসগর লবী ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৪৮ হাজার ৮৫৪ ভোট ও তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর মিয়া গোলাম পরওয়ার দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১ লাখ ৪৬ হাজার ২৪৬ ভোট। এ আসনে প্রয়োজনীয় ভোট না পেয়ে জামানত হারিয়েছেন লাঙ্গল প্রতীকে শামীম আরা পারভিন ১৩১৯ ভোট, চিত্তরঞ্জন গোলদার কাস্তে প্রতীকে ১৭৯০ ভোট।
খুলনা-৬ আসনে ১৫৬ কেন্দ্রে ভোটার ৪ লাখ ২৩ হাজার ৩৩২ জন। ভোট পড়েছে ২ লাখ ৮৮ হাজার ১৯১টি। জামানত রক্ষায় প্রয়োজন ৮ ভাগের এক ভাগ হয় ৩৬ হাজার ২৩.৮৭৫টি ভোট। জামায়াতের আবুল কালাম আজাদ দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ১ লাখ ৫০ হাজার ৭২৪ ভোট ও তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির এস এম মনিরুল ইসলাম বাপ্পী ধানের শীষে ১ লাখ ২৪ হাজার ৭১০ ভোট। এ আসনে প্রত্যাশিত এক অষ্টমাংস ভোট না পেয়ে জামানত হারিয়েছেন সিপিবির প্রশান্ত কুমার মন্ডল কাস্তে প্রতীকে ১৫৭১ ভোট, ইসলামী আন্দোলনের আসাদল্লাহ ফকির হাতপাখা প্রতীকে ২৯৫০ ভোট ও জাতীয় পার্টির মোস্তফা কামাল জাহাঙ্গীর লাঙ্গল প্রতীকে ২৭১৭ ভোট।
খুলনা-৩ আসনের রিটার্নিং অফিসার ও আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ফয়সল কাদের বলেন, এ আসনের ১১৬টি কেন্দ্রে মোট ভোটার ২ লাখ ৫৪ হাজার ৪০৯। ভোট পড়েছে ১ লাখ ৫২ হাজার ২৪৫টি। শতকরা হার ৫৯.৮২ শতাংশ। জামানত রক্ষায় প্রয়োজন ১৯ হাজার ৩০.৬২৫টি ভোট। বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা রকিবুল ইসলাম বকুল ধানের শীষ প্রতীকে ৭৪ হাজার ৮৪৫ ভোট ও তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ৬৬ হাজার ১০ ভোট। এ আসনের প্রয়োজনীয় ভোট না পেয়ে জামানত হারিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আবদুল আউয়াল হাতপাখা প্রতীকে ৫ হাজার ৭০৫ ভোট, জাতীয় পার্টির আব্দল্লাহ আল মামুন লাঙ্গল প্রতীকে ১০৭০ ভোট, স্বতন্ত্র প্রার্থী আরিফুর রহমান মিঠু হরিন প্রতীকে ৮৩৭ ভোট, বাসদের জনার্দন দত্ত মই প্রতীকে ২৪৬ ভোট, মইন মোহাম্মদ মায়াজ ফুটবল প্রতীকে ৯৮ ভোট, আবুল হাসনাত সিদ্দিক জাহাজ প্রতীকে ৬৮ ভোট, মুরাদ খান লিটন ঘুড়ি প্রতীকে ৮৩ ভোট, এনডিএম এর শেখ আরমান হোসেন সিংহ প্রতীকে ১৪১ ভোট।
পড়ুন- পাথরঘাটায় পাবলিকের গণপিটুনির পরে চোখ তুলে যুবককে হত্যা


