১৫/০২/২০২৬, ৩:১০ পূর্বাহ্ণ
18 C
Dhaka
১৫/০২/২০২৬, ৩:১০ পূর্বাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

বাগেরহাটে নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় নিহত ১, আহত ১০

বাগেরহাটের বিভিন্ন স্থানে নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় দুই গ্রুপের সংঘর্ষে একজন নিহত ও অন্তত ১০ জনের গুরুতর আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।

বিজ্ঞাপন

কচুয়ায় বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের মাঝে নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় আহত স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থক ওসমান সরদার নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এর আগে শনিবার সন্ধ্যায় কচুয়া উপজেলার ধোপাখালী ইউনিয়নের ছিটাবাড়ি গ্রামে বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে ওসমান সরদারসহ উভয় পক্ষের ১০ জন আহত হয়। নিহত ওসমান সরদার বাগেরহাট সদর উপজেলার পাড়-নওয়াপাড়া গ্রামের শাহজাহান সরদারের ছেলে।

স্থানীয়রা জানান, তুচ্ছ একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে কথাকাটি হয়, ধানের শীষ ও ঘোড়া প্রতীকের সমর্থকদের সাথে। এক পর্যায়ে রামদা দিয়ে ওসমানের মাথায় আঘাত করে ধানের শীষের সমর্থকরা। এমময় গুরুতর অবস্থায় বাগেরহাট সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য চিকিৎসকেরা খুলনায় পাঠান। শনিবার বেলা সাড়ে ১১টায় চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষনা করেন।

একই ঘটনায় ঘোড়া প্রতীকের সমর্থকদের আঘাতে ধানের শীষের বেশ কয়েকজন সমর্থক আহত হয়েছে। সংসদ নির্বাচনে বাগেরহাট-২ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ছিলেন শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন। একই আসনে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও বাগেরহাট-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এম এ এইচ সেলিম।

নিহত ওসমান সরদারের মা বলেন, ” আমরা কোন কিছু বুঝে ওঠার আগেই ১০-১২ জন লোক এসে আমার ছেলেকে ঘিরে ফেলে। মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাথাড়ি ভাবে পেটাতে থাকে। আমার ছেলে হত্যার বিচার চাই।

এছাড়া ওসমানের ভাই বলেন, আহত অবস্থায় তাকে মেডিকেলে আনা হলেও মাথা সহ শরীরের স্পর্শকাতর জায়গায় গুরুতর আঘাত পাওয়ায় মৃত্যুবরণ করে। সাবেক বিএনপি নেতা এম এ আব্দুস সেলিমের পক্ষে কাজ করায় হত্যা করা হয়েছে তার ভাইকে। সরকারের নিকট ভাইয়ের হত্যার বিচারের দাবি জানান তিনি।

এছাড়া ঘোড়া প্রতীকের সমার্থককর্তৃক ধানের শীষের সমর্থকদের পাল্টা আক্রমণে গুরুতর আহত হয়েছেন অনেকে। আহতরা জানান, সনাতন ধর্মাবলম্বী কয়েকজন ভোটার ধানের শীষে ভোট দেওয়ায়, স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকরা উচ্চ-বাচ্য শুরু করে। তর্ক বিতর্কের এক পর্যায়ে ধানের শীষের সমর্থকদের মারপিট করে।

তবে, দুই প্রার্থীকেই বড় ব্যবধানে হারিয়ে আসনটিতে বিজয়ী হয়েছেন জামায়াত মনোনীত প্রার্থী শেখ মনজুরুল হক রাহাদ।

এদিকে বাগেরহাট-৪ আসনের মোড়লগঞ্জ) জামাত ও বিএনপি সমর্থকদের মাঝে সংঘর্ষে নারীসহ প্রায় সাত জন আহত হয়েছে। অন্যান্য সকলে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা নিলেও, অবস্থার অবনতি হওয়ায় আহত ওই নারীকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

আহত নারীর স্বজনেরা জানান, কেন্দ্রে ভোট দেওয়া নিয়ে জামায়াত ও ধানের শীষ প্রার্থীর সমর্থকদের মাঝে বাক বিতন্ডা শুরু হয়। তর্কাতর্কির এক পর্যায়ে রূপ নেয় মারামারিতে।

খবর পেয়ে মোড়লগঞ্জ ও শরনখোলার নবনির্বাচিত জামায়াতের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ আব্দুল আলীম গতকাল রাতে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আহতদের দেখতে আসেন।

তিনি বলেন,”অতি উৎসাহী একদল কর্মী অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরী করেছে। আমি বিএনপি’র নেতাকর্মীদের নিকট উদাত্ত আহ্বান জানাবো, জয় পরাজয় ভুলে গিয়ে, আসুন আমরা একসাথে কাজ করি। “

তবে, শরণখোলায় ও বাগেরহাট সদর সহ বিভিন্ন স্থানে সংগঠিত সংঘর্ষের বিষয়ে এখনো কোন মামলা দায়ের হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পড়ুন : বাগেরহাটে ৩টিতে জামায়াত, একটি আসনে বিএনপি বিজয়ী

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন