১৬/০২/২০২৬, ১:০৪ পূর্বাহ্ণ
20 C
Dhaka
১৬/০২/২০২৬, ১:০৪ পূর্বাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

কঠোর অভিবাসন বিল অনুমোদন করেছে ইতালির মন্ত্রিসভা

নতুন ও ‘আরও কঠোর’ অভিবাসন বিল অনুমোদন করেছে ইতালির মন্ত্রিসভা। প্রস্তাবিত এই বিলে অভিবাসীবাহী নৌকা ঠেকাতে নৌ অবরোধ আরোপ এবং পারিবারিক পুনর্মিলনের ক্ষেত্রে কঠোর শর্ত আরোপের বিধান রাখা হয়েছে। তবে বিলটি আইন হিসেবে কার্যকর হতে হলে ইতালির পার্লামেন্টের দুই কক্ষের অনুমোদন প্রয়োজন।

গত বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) ইতালির মন্ত্রিসভা বিলটির খসড়া অনুমোদন করে। প্রস্তাবিত আইনে ভূমধ্যসাগরে অভিবাসীবাহী নৌযান ঠেকাতে নৌ অবরোধ জারির সুযোগ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ইতালীর সীমান্তে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সীমান্ত সংস্থা ফ্রন্টেক্সের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার কথা বলা হয়েছে।

বিলে পরিপূরক সুরক্ষা (কমপ্লিমেন্টারি প্রোটেকশন) ও পারিবারিক পুনর্মিলনের ক্ষেত্রে আরও কঠোর শর্ত আরোপ এবং রিপ্যাট্রিয়েশন ডিটেনশন সেন্টারে (সিপিআর) দাঙ্গায় জড়িত ব্যক্তিদের বহিষ্কারের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

নৌ অবরোধ বিলটির অন্যতম কেন্দ্রীয় প্রস্তাব। এর আওতায় ইতালি তার আঞ্চলিক জলসীমায় নৌযান প্রবেশ ৩০ দিনের জন্য নিষিদ্ধ করতে পারবে, যা নবায়নের মাধ্যমে সর্বোচ্চ ছয় মাস পর্যন্ত বাড়ানো যেতে পারে।বিলে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘ব্যতিক্রমী অভিবাসন চাপ সীমান্তের নিরাপদ ব্যবস্থাপনাকে ব্যাহত করলে” অথবা ‘আন্তর্জাতিক জনস্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা’ দেখা দিলে ইতালি অবরোধ জারি করতে পারবে। অতীতে দক্ষিণ ইতালিতে অভিবাসী আগমনের প্রেক্ষাপটে দেশটি অনুরূপ জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছিল।

এই অবরোধ কার্যকর হলে উত্তর আফ্রিকা থেকে নৌকায় করে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেয়া অভিবাসী এবং মধ্য ভূমধ্যসাগরে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনাকারী বেসরকারি সংস্থাগুলোর ওপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়তে পারে। এর ফলে তাদের ইতালীয় উপকূলে ভিড়তে বাধা সৃষ্টি হবে।
অবরোধ ভঙ্গ করলে নৌযানের অপারেটর, মালিক ও স্বত্বাধিকারীকে ১০ হাজার থেকে ৫০ হাজার ইউরো পর্যন্ত জরিমানা করা হবে। পুনরাবৃত্তির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট নৌযান জব্দ করা হতে পারে।

এছাড়া বিলে বলা হয়েছে, নৌযানে থাকা অভিবাসীদের ‘তাদের মূল দেশ বা যাত্রা শুরুর দেশ ছাড়া অন্য তৃতীয় দেশে স্থানান্তর করা যেতে পারে’। এ ছাড়া যেসব দেশের সঙ্গে ইতালির বিশেষ চুক্তি রয়েছে এবং যেখানে সহায়তা, আশ্রয় বা নির্দিষ্ট কেন্দ্রে আটক রাখার ব্যবস্থা আছে–সেখানেও পাঠানো যাবে।

প্রস্তাবিত আইনের মাধ্যমে ইতালিতে অবস্থানরত অভিবাসীদের পরিবারের সদস্যদের দেশে নিয়ে আসার সুযোগ আরও সীমিত করা হবে।
সরকার জানিয়েছে, এক্ষেত্রে ‘আরও কঠোর মানদণ্ড’ প্রবর্তন করা হচ্ছে, যাতে এর ‘অপব্যবহার সীমিত করা যায় এবং সুবিধা কেবল প্রকৃতপক্ষে ঝুঁকিপূর্ণ ও নিজ দেশে পর্যাপ্ত সহায়তাবিহীন ব্যক্তিদের জন্য সংরক্ষিত থাকে’।

পার্লামেন্টে বিলটি পাস হলে পরিপূরক সুরক্ষা পাওয়ার শর্তও কঠোর হবে। এ ক্ষেত্রে চারটি মানদণ্ড পূরণ করতে হবে: অন্তত পাঁচ বছর নিয়মিত বসবাস, ইতালীয় ভাষায় ‘প্রত্যয়িত’ দক্ষতা, স্বাস্থ্য ও স্যানিটারি মানসম্মত আবাসনের প্রমাণ এবং পারিবারিক পুনর্মিলনের জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক সক্ষমতার সমতুল্য সম্পদ।

এই বিলের ফলে কোনো বিদেশি নাগরিককে বহিষ্কার বা অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হলে কোনো ইইউ নাগরিককে অপসারণের আদেশ দেয়া বিচারকদের জন্য সহজ হবে।

এখন পর্যন্ত অভিবাসন বিলটি কেবল ইতালির সরকারের প্রস্তাব হিসেবে রয়েছে। আইন হিসেবে কার্যকর হতে হলে ইতালির পার্লামেন্টের উভয় কক্ষের অনুমোদন প্রয়োজন।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : ইরানে শাসন পরিবর্তনই ‘সেরা সমাধান’, বললেন ট্রাম্প

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন