নতুন বিএনপি সরকারের সম্ভাব্য মন্ত্রিসভা নিয়ে জোর জল্পনা-কল্পনার মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে একটি বাক্য— ‘বাচ্চারা পড়তে বসো’। গুঞ্জন উঠেছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আবারও দেখা যেতে পারে সাবেক সেই কঠোর শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলনকে। যিনি এর আগে নকলবিরোধী অভিযান ও পরীক্ষায় কড়াকড়ির জন্য ব্যাপক আলোচনায় ছিলেন। যদিও এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি, তবুও সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন ঘিরে শিক্ষার্থী থেকে অভিভাবকসহ সব মহলেই তৈরি হয়েছে কৌতূহল আর আলোচনার মিশেল।
জানা গেছে, মিলন দীর্ঘদিন ধরেই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। ছাত্ররাজনীতি থেকে জাতীয় পর্যায়ে উঠে এসে তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং পরবর্তীতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান। রাজনৈতিক জীবনে তিনি প্রশাসনিক কড়াকড়ি ও শৃঙ্খলাবোধের জন্য পরিচিতি লাভ করেন। তার আগের মেয়াদে সবচেয়ে আলোচিত পদক্ষেপ ছিল পাবলিক পরীক্ষায় নকলবিরোধী কঠোর অভিযান। পরীক্ষা কেন্দ্রগুলোতে নজরদারি বৃদ্ধি, প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে প্রযুক্তিনির্ভর তদারকি এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের সক্রিয় উপস্থিতিসহ বিভিন্ন উদ্যোগের কারণে তিনি ব্যাপকভাবে আলোচনায় ছিলেন।
এদিকে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চাঁদপুর-১ (কচুয়া) আসনে ধানের শীষ প্রতীকে সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বিজয়ী হয়েছেন। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৩৩ হাজার ১৬২ ভোট। এরপর নতুন করে শিক্ষা মন্ত্রী হিসোবে তার নাম আলোচনায় আসতেই ফেসবুকজুড়ে শুরু হয়েছে বিভিন্ন পোস্ট।
এসবের মধ্যে অনেকেই মজার ছলে লিখেছেন — ‘বাচ্চারা আবার পড়তে বসো’, ‘নকল করলে রক্ষা নেই’ ‘উনি যে কি জিনিস আমরা জানি’। আবার অনেকেই স্মৃতিচারণ করে লিখছেন যে, তার সময়েই পরীক্ষা দিয়ে পাশ করেছেন। একইসঙ্গে আবারও তিনি শিক্ষামন্ত্রী হলে বাংলাদেশের শিক্ষার গুণগতমানের পরিবর্তন হবে বলে ও প্রত্যাশা জানিয়েছেন অনেকে।
তবে এরই মধ্যে এক প্রতিক্রিয়ায় সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী এহসানুল হক মিলন নকল ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করা হবে বলে মন্তব্য করেছেন।
নকল ঠেকাতে আবারো কি ফ্লাই হবে কিনা— এমন প্রশ্নের উত্তরে মিলন বলেন, আর হেলিকপ্টার লাগবে না তবে নকল প্রতিরোধ হতেই হবে। আমি যখন মন্ত্রী ছিলাম তখনও দুর্নীতি ছিল না আগামী দিনেও দুর্নীতি থাকতে পারবে না।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা গেছে। একইস্থানে বিকেল ৪টায় শপথ নেবে নতুন সরকারের মন্ত্রিসভা।
রীতি অনুযায়ী মন্ত্রিসভার শপথ বঙ্গভবনের দরবার হলে অনুষ্ঠিত হলেও এবার তা হচ্ছে না। জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজা থেকে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছে।
পড়ুন:৮০ কোটির প্রস্তাব ফেরালেন বিজয়-রাশমিকা
দেখুন:মাদারীপুরে ঘরের তালা ভেঙে বৃদ্ধার ঘরে যা দেখলো পুলিশ
ইম/


