১৫/০২/২০২৬, ১৭:৪২ অপরাহ্ণ
28 C
Dhaka
১৫/০২/২০২৬, ১৭:৪২ অপরাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

সংগীত শিল্পী আবদুল মান্নান রানা’র জন্মদিন আজ!

‘যেখানেই যাও ভালো থেকো’ গানটি খ্যাত জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পী আবদুল মান্নান রানা’র আজ জন্মদিন।

বিজ্ঞাপন

১৬ ফেব্রুয়ারি ১৯৫৮ সালের আজকের দিনে জন্মগ্রহণ করেছিলেন গুণী এ শিল্পী। তিনি চট্টগ্রাম বন্দরথানাধীন ৩৬ নং ওয়ার্ডের গোসাইলডাঙ্গা এলাকার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী হাজী আবদুল আজিজ ও আম্বিয়া খাতুনের সন্তান।
শৈশব থেকেই খেলাধুলার পাশাপাশি সংগীত ও সুরের সাথে সখ্যতা গড়ে ওঠে প্রিয় এই শিল্পীর। শিল্পী আবদুল মান্নান রানা ১৯৭৪ সালে বাংলাদেশ বেতার এবং ১৯৭৫ সালে বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) সর্বোচ্চ মানের শিল্পী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন।

একাধিক পুরষ্কার প্রাপ্ত ছবি “প্রিন্সেস টিনা খান” সিনেমার গানে ১৯৮১ সালে শেখ সাদীর সংগীত পরিচালনায় “বিয়াশাদীর ব্যাপার সেতো আল্লাহর হাতে” সিনেমার গানে প্রথম কন্ঠ দেন।তার গাওয়া বেশ কিছু গান কালজয়ী জনপ্রিয়তা পেয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে:
“চিঠি এলো জেলখানাতে অনেক দিনের পর”: এটি তার সবচেয়ে জনপ্রিয় গান, যা ১৯৯৬ সালের সুপারহিট ছবি ‘সত্যের মৃত্যু নেই’-তে ব্যবহৃত হয়েছিল।
‘মাগো আমার মাথা ছুঁয়ে দোয়া করে দাও’,
“যেখানেই যাও ভালো থেকো”
“আমি কি স্বপ্ন দেখছিনাতো”
এই গানগুলি মানুষের মনে আলোড়ন সৃষ্টি করে।
“কইলজার ভিতর গাঁথি রাইখ্যুম তোঁয়ারে”: চট্টগ্রামের এই আঞ্চলিক গানটিও তার কণ্ঠে বেশ পরিচিত।
আবদুল মান্নান রানা’র অন্যতম অ্যালবাম জাহিদ ইলেকট্রনিকস চট্টগ্রাম থেকে প্রকাশিত ‘যেখানে যাও ভালো থেকো’, এটিএন মিউজিক থেকে প্রকাশিত ‘ডায়রী’, লেজার ভিশনের ‘দেশের জন্য’ ও ‘তুমি প্রেম দিয়ে পোড়ালে’সহ প্রায় ৮টি অ্যালবাম বেরিয়েছে।
দীর্ঘ সঙ্গীত জীবনে তিনি গেয়েছেন অনেকের সঙ্গে। রুনা লায়লার সঙ্গে দ্বৈতকণ্ঠে ‘চাঁদনী’ ছবিতে, ‘কত দিন পরে দেখা হলো দুজনাতে’ সাবিনা ইয়াসমিনের সাথে ‘আমার দেহ আছে প্রাণ নাইরে’ গানগুলি বেশ হিট হয়েছিল। তাছাড়া আবদুল জব্বার, আনজুমান আরা, ফেরদৌসী রহমান, বশীর আহমদ, সৈয়দ আবদুল হাদী, সুবীর নন্দী এবং সমসাময়িক এন্ড্রু কিশোরসহ অনেকের সঙ্গে নাটক, সিনেমা্র গানে কন্ঠ দেয়ার পাশাপাশি অভিনয়ও তিনি ছিলেন পারদর্শী। দেশের সবচেয়ে আলোচিত ও জনপ্রিত সিরিজ নাটক ‘জোনাকি জ্বলে’ নাটকে ৮ পর্বে অভিনয় করেছেন, করেছেন তিনটি সাপ্তাহিক নাটক।
শিল্পী আবদুল মান্নান রানার প্রথম ওস্তাদ চট্টগ্রাম বেতারের শিল্পী ও সংগীত পরিচালক মোহাম্মদ সেকান্দার। এরপর ওস্তাদ মিহির লালা, ওস্তাদ নীরদ বরণ বড়ুয়া। এ ছাড়া ঢাকার সেতার বাদক আবিদ হোসেন খান এবং সুরবন্দু অশোক চৌধুরীর কাছেও তিনি তালিম নেন।
উনার প্রিয় শিল্পীর তালিকায় রয়েছেন, মান্না দে, মোহাম্মদ রফি, কিশোর কুমার, সুবীর নন্দী,জগজিৎ সিং, সনু নিগম প্রমুখ এবং বাংলাদেশের মাহমুদুন্নবীর কণ্ঠমাধুর্য ।

আবদুল মান্নান রানা শিল্পী হিসেবে বেশ সুনাম কুড়ালেও ব্যবসার ভুবনেও তিনি বনেদি। রপ্তানিমুখী পোশাক কারখানা আজিজ গার্মেন্টস লিমিটেড, ডি. ভি হাজী আবদুল আজিজ এন্ড কো:, এলাইড মটরস, এম.এ মালেক এন্ড কো:,এশিয়া স্পেয়ার অ্যান্ড এক্সেসরিস ও নিপুন রেকর্ডিং স্টুডিওর কর্ণধার তিনি। পাশাপাশি চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি, চিটাগাং ক্লাব, চট্টগ্রাম বেতার ও টেলিভিশন শিল্পী সমিতির সভাপতি,বিজিএমইএ, মা ও শিশু হাসপাতালসহ বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জড়িত আছেন আবদুল মান্নান রানা।

সংগীতের পাশাপাশি সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত রয়েছেন এ গায়ক। বিএনপির দু:সময়ে তিনি কেন্দ্রীয় জাসাসের সহ সভাপতি ও চট্টগ্রাম মহানগর জাসাসের সভাপতির দায়িত্ব নিয়েছিলেন এই পদবীগুলিই তার সংগীত জীবনের কাল হয়ে দাঁড়িয়েছিল।দীর্ঘ ১৫ বছর তাঁকে কালো তালিকাভুক্ত করে রাখা হয়। বঞ্চিত করা হয় জাতীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ের সাংস্কৃতিক অংগন থেকে। টিভি, রেডিও, মঞ্চ কোথাও তাকে পারফরম্যান্স করতে দেয়া হয়নি।
এ বিষয়ে আবদুল মান্নান রানা বলেন,ফ্যাসিস্ট সরকার শুধু সংগীত ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান নয়, দেশের সকল প্রতিষ্ঠান দুর্নীতি ও দলীয়করণ প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেছিল। তাছাড়া তিনি সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কেন্দ্রীয় জাসাস থেকে দায়িত্ব প্রাপ্ত গণসংযোগ কমিটির জাসাস চট্টগ্রাম মহানগরের প্রধান সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেন। নগর জাসাসের শিল্পী ও নেতা কর্মীদের নিয়ে চট্টগ্রাম মহানগরীর প্রত্যেক আসনে প্রার্থীদের পক্ষে ধানের শীষের সমর্থনে ডোর টু ডোর ও ভ্রাম্যমাণ বিরামহীন প্রচারণা চালিয়েছেন।

পড়ুন:ভোলায় কোস্টগার্ডের অভিযানে গাঁজাসহ এক মাদক ব্যবসায়ী আটক

দেখুন:মাদারীপুরে ঘরের তালা ভেঙে বৃদ্ধার ঘরে যা দেখলো পুলিশ

ইমি/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন