১৬/০২/২০২৬, ২১:১৭ অপরাহ্ণ
23 C
Dhaka
১৬/০২/২০২৬, ২১:১৭ অপরাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

গণঅভ্যুত্থানের পর এশিয়ার আরেক দেশে নির্বাচন, প্রচারণা শুরু

দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনের ফলে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে সরকার পতনের পর আগামী ৫ মার্চ নতুন সংসদ নির্বাচনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে নেপালে। আজ সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) থেকে শুরু হচ্ছে আনুষ্ঠানিক প্রচারণা। এ তথ্য জানিয়েছে সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট।

রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে সাবেক প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কিকে অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। প্রায় তিন কোটি মানুষের হিমালয়ঘেরা দেশটির নেতৃত্ব তিনি নির্বাচন পর্যন্ত সামলাচ্ছেন। অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ডিসকর্ডে হাজারো তরুণ কর্মীর প্রস্তাবের ভিত্তিতে প্রথম তার নাম সামনে আসে।

ভোটের মাধ্যমে ২৭৫ সদস্যের প্রতিনিধি পরিষদ গঠন করা হবে। এর মধ্যে ১৬৫ জন সরাসরি নির্বাচিত হবেন এবং বাকি ১১০ জন দলীয় তালিকা থেকে মনোনীত হবেন। নির্বাচন শেষে অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করবেন।

দীর্ঘদিন ধরে নেপালের রাজনীতিতে প্রবীণ নেতাদের প্রভাব লক্ষ্য করা যায়। এদের অনেকেই ২০০৬ সালে শেষ হওয়া দশ বছরব্যাপী গৃহযুদ্ধের সময় মাওবাদী আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি এখনো কমিউনিস্ট পার্টি অব নেপাল (ইউএমএল)-এর নেতৃত্বে রয়েছেন।

আরেক সাবেক প্রধানমন্ত্রী পুষ্প কমল দাহাল বিভিন্ন কমিউনিস্ট গোষ্ঠীকে একত্র করে নেপাল কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃত্ব দিচ্ছেন। দেশের প্রাচীনতম রাজনৈতিক দল নেপালি কংগ্রেস জানুয়ারিতে ৪৯ বছর বয়সী গগন থাপাকে নেতা নির্বাচিত করেছে, যার মাধ্যমে পাঁচবারের প্রধানমন্ত্রী শের বাহাদুর দেউবার দীর্ঘ নেতৃত্বের অবসান ঘটে।

২০০৮ সালে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক রাজা জ্ঞানেন্দ্র শাহ এখনো কাঠমান্ডুতে অবস্থান করছেন এবং রাষ্ট্রীয় প্রজাতন্ত্র পার্টি (আরপিপি)-এর মাধ্যমে কিছু সমর্থন ধরে রেখেছেন।

প্রবীণ নেতৃত্বের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের কয়েকজন আলোচিত প্রার্থীও নির্বাচনী মাঠে সক্রিয়। টেলিভিশন উপস্থাপক রবি লামিছানে রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টি (আরএসপি)-এর নেতৃত্ব দিচ্ছেন, যা ২০২২ সালে সংসদের চতুর্থ বৃহত্তম দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।

তিনি জোট গড়েছেন র‌্যাপার থেকে মেয়র হওয়া বলেন্দ্র শাহ-এর সঙ্গে, যিনি প্রধানমন্ত্রী পদে প্রার্থী হয়ে ওলির বিরুদ্ধে সরাসরি লড়ছেন। আরেক আলোচিত প্রার্থী কুলমান ঘিসিং, যিনি বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় ভূমিকার জন্য পরিচিত। সেপ্টেম্বরের আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া জেন জেড প্রজন্মের প্রতিনিধিরাও এবার নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন, যাদের মধ্যে অন্যতম সুদান গুরুং।

তরুণ ভোটারদের বড় অংশ অর্থনৈতিক সংস্কারের দাবিতে সরব। বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, নেপালের শ্রমশক্তির প্রায় ৮২ শতাংশ অনানুষ্ঠানিক খাতে কাজ করেন এবং ২০২৪ সালে মাথাপিছু জিডিপি ছিল ১ হাজার ৪৪৭ ডলার।

অর্থনৈতিক চাপের কারণে বিপুল-সংখ্যক নেপালি বিদেশে কর্মরত। সর্বশেষ শুমারি অনুযায়ী, দেশটির প্রায় ৭ দশমিক ৫ শতাংশ মানুষ বর্তমানে বিদেশে বসবাস করছেন। যদিও প্রবাসীরা এবার ভোট দিতে পারবেন না, তাদের পাঠানো রেমিট্যান্স নেপালের মোট জিডিপির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ।

ভারত ও চীনের মাঝামাঝি কৌশলগত অবস্থানে থাকা নেপালের এই নির্বাচন আন্তর্জাতিক মহলেও গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, কারণ দুই দেশই কাঠমান্ডুতে নিজেদের প্রভাব ধরে রাখতে আগ্রহী।

সূত্র: সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : বাংলাদেশের নির্বাচন নিয়ে মন্তব্যের সময় স্পষ্ট করলেন রণধীর জয়সওয়াল

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন