পশ্চিম তীরের ভূমি নিবন্ধনের একটি প্রক্রিয়ার অনুমোদন দিয়েছে ইসরায়েল। যেটিকে ‘জমি দখল’ হিসেবে অ্যাখ্যা দিয়েছেন সমালোচকরা। তীব্র নিন্দা জানিয়েছে আরব রাষ্ট্রগুলো। সতর্ক করে বলা হয়েছে, এটি ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডকে ইসরায়েলের অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করবে।
ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই পদক্ষেপ ‘আইনি বিরোধ নিষ্পত্তি ও অধিকারের স্বচ্ছতা স্পষ্ট করবে।’ তবে মিশর, কাতার ও জর্ডান পদক্ষেপটিকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন বলে সমালোচনা করেছে। এক বিবৃতিতে মিশরের সরকার বলেছে, বিপজ্জনক পদক্ষেপটির মাধ্যমে অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রণ সুসংহত করা হবে।
কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পশ্চিম তীরের জমিকে তথাকথিত ‘রাষ্ট্রীয় সম্পত্তিতে’ রূপান্তরের সিদ্ধান্তের নিন্দা জানিয়েছে। বলেছে, ‘এর মাধ্যমে ফিলিস্তিনি জনগণকে তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হবে।’ আর ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ (পিএ) আন্তর্জাতিক হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়ে বলেছে, এটি ‘ভূখণ্ড দখল প্রক্রিয়ার শুরু ও ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের ভিত্তি নষ্ট করার শামিল।’
ইসরায়েলি বসতি স্থাপনের বিরোধীতাকারী পর্যবেক্ষণ সংস্থা হলো ‘পিস নাউ’। তেল আবিবের নেওয়া রোববারের এই পদক্ষেপকে তারা ‘বিশাল ভূমি দখল’ মূলক কর্মকাণ্ড বলে অভিহিত করেছে। দেশটির গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৬৭ সালে মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের পর প্রথমবারের মতো পশ্চিম তীরে ভূমি নিবন্ধন চালু করতে যাচ্ছে নেতানিয়াহু প্রশাসন।
ইসরায়েলি গণমাধ্যম আরও জানিয়েছে, এই প্রক্রিয়াটি কেবল ‘সি-এলাকা’ হিসেবে চিহ্নিত অংশে কার্যকর হবে। এই অংশটি পশ্চিম তীরের প্রায় ৬০ শতাংশ এলাকা। বর্তমানে সেখানে নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে ইসরায়েল।
ফিলিস্তিনিরা পশ্চিম তীরকে তাদের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রের ভিত্তি হিসেবে দেখে। কিন্তু ইসরায়েলের অনেক ধর্মীয় কট্টরপন্থীরা এই ভূখণ্ড দখল করতে চায়। সম্প্রতি ইসরায়েলের অতি-ডানপন্থী মন্ত্রীদের সমর্থিত বেশ কিছু পদক্ষেপ অনুমোদন দেয় মন্ত্রিসভা। যেটির লক্ষ্য ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের শাসিত এলাকাগুলোতে নিয়ন্ত্রণ আরও জোরাল করা।
দখলকৃত পূর্ব জেরুজালেম বাদে বর্তমানে পশ্চিম তীরের বসতি ও আউটপোস্টগুলোতে ৫ লক্ষাধিক ইসরায়েলি বাস করে। যা আন্তর্জাতিক আইনে অবৈধ। এই ভূখণ্ডে প্রায় ৩০ লাখ ফিলিস্তিনির বসবাস।
পড়ুন:গণঅভ্যুত্থানের পর এশিয়ার আরেক দেশে নির্বাচন, প্রচারণা শুরু
দেখুন:পিরোজপুরে ভোটারদের মাঝে টাকা বিতরণের অভিযোগ হাতপাখা সমর্থকের বিরুদ্ধে |
ইমি/


