১৭/০২/২০২৬, ০:১০ পূর্বাহ্ণ
20 C
Dhaka
১৭/০২/২০২৬, ০:১০ পূর্বাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের প্রতিবাদে আটকে গেল ডিজিটাল ব্যাংকের অনুমোদন

নতুন সরকার গঠনের আগের দিন তড়িঘড়ি করে ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্স দেওয়ার উদ্যোগের প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক অফিসার্স ওয়েলফেয়ার কাউন্সিল। এ বিষয়ে প্রতিবাদ জানিয়ে আজ সোমবার সকালে তারা পর্ষদ সভা স্থগিতের দাবি জানায়।

দুপুরে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভা হলেও ডিজিটাল ব্যাংকের অনুমোদন হয়নি। শেষ মুহূর্তে সভার কার্যসূচি বদলে পর্ষদ সভায় জানানো হয়, ডিজিটাল ব্যাংকের জন্য আবেদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো কে কত নম্বর পেয়েছে।

ফলে প্রতিবাদের মুখে আটকে যায় ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্স বা অনুমোদন দেওয়ার উদ্যোগ। এ নিয়ে আজ বাংলাদেশ ব্যাংকের দিনভর উত্তেজনা চলে।

সকালে অফিসার্স ওয়েলফেয়ার কাউন্সিল সংবাদ সম্মেলন করার পর বিকেলে বাংলাদেশ ব্যাংক অফিস আদেশে জানায়, বাংলাদেশ ব্যাংকের অনুমোদন ছাড়া কোনো কর্মচারী ব্যক্তিগতভাবে বা ঘরোয়া বৈঠকে, জনসভায়, সংবাদ সম্মেলনে ব্যাংকসংক্রান্ত বা নীতিমালার বিষয়ে বক্তব্য রাখতে পারবেন না।

আজ সকালে অফিসার্স ওয়েলফেয়ার কাউন্সিল আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নেতারা বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর যখন নবনির্বাচিত প্রতিনিধিদের শপথ ও সরকার গঠনের প্রক্রিয়া চলছে, ঠিক সেই সময় মাত্র এক দিনের নোটিশে ১৬ ফেব্রুয়ারি একটি জরুরি পর্ষদ সভা ডাকা হয়। এই উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বচ্ছতা ও পেশাদারত্ব ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ সভার মূল উদ্দেশ্য একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে ডিজিটাল ব্যাংকের লাইসেন্স দেওয়া, যা নিয়ে ব্যাপক প্রশ্ন ও উদ্বেগ রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, যাকে লাইসেন্স দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, বর্তমান গভর্নর অতীতে সেই গোষ্ঠীর একটি ব্যাংকের চেয়ারম্যান ছিলেন। কাউন্সিলের মতে, এটি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিরপেক্ষতার মৌলিক নীতির পরিপন্থী।

এ ছাড়া গভর্নরের ঘনিষ্ঠ পরিচয়ের সূত্রে যোগ্যতাহীন ব্যক্তিদের পরামর্শক ও নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে যুক্ত করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়। এমনকি বোর্ডের অনুমোদন ছাড়াই বহিরাগত ব্যক্তিকে কার্ড ইস্যু ও গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়ার ঘটনাকে নজিরবিহীন অনিয়ম হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

কাউন্সিল আরও জানায়, ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুযায়ী একটি ব্যাংক অন্য ব্যাংকের সাবসিডিয়ারি হতে পারে না। পাশাপাশি ১০ শতাংশের বেশি শেয়ার ধারণের ক্ষেত্রে সরকারের অনুমোদন বাধ্যতামূলক। বর্তমান রাজনৈতিক অন্তর্বর্তী সময়ে এমন বড় নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া আইন ও প্রথা—উভয়েরই লঙ্ঘন। এই উদ্যোগের মাধ্যমে ব্যাংকিং খাতে একটি একচেটিয়া বাজার তৈরির ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে, যা আর্থিক ব্যবস্থার জন্য অশনিসংকেত।

কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে ৬১টি তফসিলি ব্যাংক ও অসংখ্য আর্থিক প্রতিষ্ঠান থাকলেও খেলাপি ঋণের হার ৩৬ শতাংশ ছাড়িয়েছে (সেপ্টেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত)। অনেক ব্যাংক আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দিতেও হিমশিম খাচ্ছে। এই বাস্তবতায় নতুন ডিজিটাল ব্যাংকের প্রয়োজনীয়তা গভীর ও স্বচ্ছ পর্যালোচনার দাবি রাখে।

সংবাদ সম্মেলন থেকে কাউন্সিলের পক্ষ থেকে দাবি জানানো হয়—বিতর্কিত ডিজিটাল ব্যাংক লাইসেন্স প্রদানের প্রক্রিয়া অবিলম্বে বন্ধ, ১৬ ফেব্রুয়ারির জরুরি পর্ষদ সভা স্থগিত, স্বার্থের সংঘাত ও স্বজনপ্রীতির নিরপেক্ষ তদন্ত, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসন ও পেশাদারত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং প্রয়োজনে নেতৃত্বে পরিবর্তনের মাধ্যমে আস্থা ফিরিয়ে আনা।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন অফিসার্স ওয়েলফেয়ার কাউন্সিলের সভাপতি সভাপতি এ কে এম মাসুম বিল্লাহ, সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা শ্রাবণসহ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শীর্ষ পর্যায়ের একাধিক কর্মকর্তা।

এদিকে গতকাল দুপুরে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের জরুরি সভা গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ডিজিটাল ব্যাংকের জন্য যারা আবেদন করেছে, তাদের বিষয়ে অগ্রগতি প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়।

জানা যায়, প্রথমে ডিজিটাল ব্যাংক অনুমোদনের জন্য কার্যসূচি উপস্থাপন করতে বলা হলেও সভার আগমুহুর্তে তা বদলে ফেলা হয়। তখন কর্মকর্তাদের জানানো হয়, আবেদনকারী কোনো প্রতিষ্ঠান কত নম্বর পেয়েছে, সেই নথিপত্র উপস্থাপন করতে হবে। পরিচালনা পর্ষদের একাধিক সদস্য এই বিষয়ে জরুরি সভা ডাকায় ক্ষুব্ধ হন বলে একটি সূত্র নিশ্চিত করে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ১৩টি প্রতিষ্ঠান ডিজিটাল ব্যাংক স্থাপনের জন্য আবেদন করেছে। এগুলো হলো ব্রিটিশ বাংলা ডিজিটাল ব্যাংক পিএলসি। আরও চায় ডিজিটাল ব্যাংকিং অব ভুটান, এর উদ্যোক্তা ভুটানের ডিকে ব্যাংক; আমার ডিজিটাল ব্যাংকের উদ্যোক্তা ২২টি ক্ষুদ্রঋণ দাতা সংস্থা; ৩৬ ডিজিটাল ব্যাংক পিএলসির উদ্যোক্তা ১৬ ব্যক্তি; বুস্টের উদ্যোক্তা রবি আজিয়াটা লিমিটেড; আমার ব্যাংকের উদ্যোক্তা কয়েকটি বেসরকারি সংস্থা; অ্যাপ ব্যাংকের উদ্যোক্তা যুক্তরাজ্যপ্রবাসী কয়েক ব্যক্তি।

এ ছাড়া নোভা ডিজিটাল ব্যাংকের উদ্যাক্তা বাংলালিংকের মূল প্রতিষ্ঠান ভিওন ও স্কয়ার; মৈত্রী ডিজিটাল ব্যাংক পিএলসির উদ্যোক্তা ক্ষুদ্রঋণ দাতা সংস্থা আশা; জাপান বাংলা ডিজিটাল ব্যাংকের উদ্যেক্তা ডিবিএল গ্রুপ; মুনাফা ইসলামী ডিজিটাল ব্যাংকের উদ্যোক্তা আকিজ রিসোর্স; বিকাশ ডিজিটাল ব্যাংকের উদ্যোক্তা বিকাশের শেয়ারধারীরা এবং উপকারী ডিজিটাল ব্যাংকের উদ্যোক্তা আইটি সলিউশন লিমিটেড।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : নতুন সরকার গঠনের আগেই শেয়ারবাজার চাঙ্গা

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন