প্যালিয়েটিভ কেয়ার বিষয়টি অনেকেরই অজানা এবং এ বিষয়ক সচেতনতার আহ্বান জানিয়ে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল এ সম্পর্কিত সেনসিটাইজেশন অনুষ্ঠান।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি)প্যালিয়েটিভ কেয়ার সোসাইটি অব বাংলাদেশ এবং গ্রেগরীয়ানস অব নর্থ আমেরিকার উদ্যোগ ও সেন্ট গ্রেগরীজ স্কুল ও কলেজ কর্তৃপক্ষের সার্বিক সহায়তায় সেন্ট গ্রেগরীজ স্কুল ও কলেজ ক্যাম্পাসে ছাত্র-শিক্ষকদের জন্যে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল প্যালিয়েটিভ কেয়ার সম্পর্কে সচেতনতামূলক সেনসিটাইজেশন অনুষ্ঠান। সেন্ট গ্রেগরীজ স্কুল ও কলেজ প্রিন্সিপাল ব্রাদার প্লাসিড রিবেরু’র সভাপতিত্বে ও ছাত্র-শিক্ষকদের ব্যবস্হাপনায় এই অনুষ্ঠানে মূল বক্তা ছিলেন বাংলাদেশ মেডিকেল ইউনিভার্সিটির প্যালিয়েটিভ কেয়ার বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক ডা. নিজামউদ্দীন আহমেদ, বাংলাদেশ প্যালিয়েটিভ কেয়ার সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ডা. সানজিদা শাহরিয়া এবং আমেরিকার জন্স হপকিন্স স্কুল অব মেডিসিনের গবেষক- চিকিৎসক ও সেন্ট গ্রেগরীজ স্কুলের প্রাক্তন ছাত্র ডা. মোহাম্মাদ নাকিবউদ্দীন।
স্বাগত বক্তব্যে ব্রাদার প্লাসিড রিবেরু প্যালিয়েটিভ কেয়ার বিষয়টি অনেকেরই অজানা বলে মন্তব্য করেন এবং এ’নিয়ে অধিকতর সচেতনতার আহ্বান জানান।
অধ্যাপক ডা. নিজামউদ্দীন আহমেদ তাঁর বক্তব্যে প্যালিয়েটিভ কেয়ার বিষয়টির ব্যাপক পরিসর তুলে ধরেন যার মধ্যে শারীরিক, মানসিক, সামাজিক ও আধ্যাত্মিক স্বাস্থ্যসেবা অন্তর্ভুক্ত। ছাত্রদের কেন প্যালিয়েটিভ কেয়ার সম্পর্কে জানা প্রয়োজন এ বিষয়টি তিনি সুন্দরভাবে তুলে ধরেন।
অধ্যাপক সানজিদা শাহরিয়া তাঁর বক্তব্যে চমৎকারভাবে প্যালিয়েটিভ কেয়ারে বাংলাদেশে অপ্রতুল ব্যবস্হার কথা তুলে ধরেন এবং এটি নিরসনে কমিউনিটির ভূমিকা কি হতে পারে, সে’ব্যপারে গুরুত্ব আরোপ করেন, ছাত্রদের করণীয় কি হতে পারে তা তুলে ধরেন। তিনি ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে হতাশা, মাদকাসক্তি ইত্যাদি প্রতিরোধে এগিয়ে আসতে আহ্বান জানান।
ডা. নাকিবউদ্দীন জীবন থেকে নেয়া ঘটনা তুলে ধরে পরিবারে ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্যালিয়েটিভ কেয়ার কীভাবে পরিচালিত হতে পারে এই বিষয়ে আলোকপাত করেন। তিনি ছাত্রদের মানসিক সুস্বাস্থ্যের প্রয়োজনীয়তার ব্যাপারে বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন।
বক্তব্য পরবর্তী প্রশ্নোত্তর পর্বে ছাত্র-শিক্ষক এবং উপস্হিত অতিথিদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি অত্যন্ত প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছিল। সেন্ট গ্রেগরীজ স্কুল ও কলেজের ছাত্রদের বুদ্ধিদীপ্ত প্রশ্নে বক্তারা মুগ্ধ হন। নিজেকে জানার উপায় কি হতে পারে, সুখ কাকে বলে এমন দার্শনিক প্রশ্নের পাশাপাশি প্যালিয়েটিভ কেয়ার বা প্রশমন সেবা বিষয়টি সম্পর্কে আরও জানতে ছাত্রদের আগ্রহ ছিল চোখে পড়ার মতো। ডা. নাকিব অনুষ্ঠানের সারসংক্ষেপ করতে এসে পরিবারে সহমর্মিতা, বন্ধুদের একে অপরকে সহায়তা, এবং সমাজে অন্যের প্রয়োজনে হাত বাড়িয়ে দেবার বিষয়ে গুরুত্ব আরোপ করেন।
অনুষ্ঠানে সেন্ট গ্রেগরীজ স্কুল ও কলেজ কর্তৃপক্ষ উৎসাহী ছাত্র শিক্ষকদের জন্য প্যালিয়েটিভ কেয়ার বিষয়টি নিয়ে প্যালিয়েটিভ কেয়ার সোসাইটি বাংলাদেশের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হবে বলে জানানো হয়।
পড়ুন:ট্রাম্প প্রশাসনের বিরুদ্ধে এপস্টেইন ফাইল ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগ হিলারির
দেখুন:মাদারীপুরে ঘরের তালা ভেঙে বৃদ্ধার ঘরে যা দেখলো পুলিশ |
ইমি/


