দিনলিপি যেন তাঁর শব্দ, সুর আর আলোর মিশেলে লেখা। উপস্থাপনা দিয়ে নিজের আলাদা জায়গা তৈরি করা এই শিল্পী অভিনয় ও লেখালেখিতেও রেখেছেন স্বতন্ত্র ছাপ। বলছি, নীল হুরেজাহানের কথা। সম্প্রতি ভালোবাসা দিবসে মুক্তি পেয়েছে তাঁর অভিনীত নাটক ‘যদি আবার’, যা প্রকাশের পর থেকেই দর্শক মহলে দারুণ সাড়া ফেলেছে।
দীর্ঘ ছয় বছরের অপেক্ষার গল্প জড়িয়ে আছে এই নাটকের সঙ্গে। ‘ক্লোজ-আপ কাছে আসার গল্প’ সিরিজের ফুল লেন্থ নাটক নিয়ে দর্শকের আগ্রহ বরাবরই তুঙ্গে। মাঝখানে স্বল্পদৈর্ঘ্য কাজে এলেও পূর্ণদৈর্ঘ্য নাটক আর আসেনি। অবশেষে ‘যদি আবার’ সেই অপেক্ষার অবসান ঘটায়।
ভালোবাসা ও প্রত্যাবর্তনের গল্প
নীলের শিল্পীজীবন বহুমাত্রিক। তিনি নিয়মিত ক্রিকেট শো উপস্থাপনা করেছেন, আবার করপোরেট অনুষ্ঠানেও পরিচিত মুখ। একুশে টিভির ‘রূপলাবণ্য’ অনুষ্ঠানেও তাঁকে দেখা যায় নিয়মিত। তবে ব্যস্ততার মাঝেও বেছে বেছে কাজ করার অভ্যাস তাঁর পুরোনো।
নীল নিজেই বলেছেন, ‘যদি আবার’ এর গল্প শুনে তাঁর মনে হয়েছিল– এ কাজটির জন্যই যেন এতদিনের অপেক্ষা। রাঙামাটির প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে টানা তিন দিনের শুটিং ছিল তাঁর কাছে এক অন্যরকম অভিজ্ঞতা।
নীল হুরেজাহান বলেন, ‘দর্শক সবসময় ভালো গল্পের কাজ দেখতে চায়। ‘যদি আবার’ নাটকটির মাধ্যমে দর্শকের সে প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে। অনেকেই ‘ক্লোজ-আপ কাছে আসার গল্প’ সিরিজের ফুল লেন্থ নাটক দেখতে মুখিয়ে ছিলেন। নাটকটি মুক্তির পর সামাজিক মাধ্যমে প্রশংসার ঢেউ বইছে, ব্যক্তিগত বার্তায় শুভেচ্ছায় ভরে গেছে মেসেজ বক্স। সব মিলিয়ে এক আবেগঘন প্রাপ্তি। আমাকে এমন একটি ভালো কাজের সঙ্গে যুক্ত করার জন্য নির্মাতাকে ধন্যবাদ জানাই’
সম্প্রতি অভিনয়ে তাঁর উপস্থিতি তুলনামূলক কম– এ নিয়ে নীল হুরেজাহান বলেন, ‘একটু খেয়াল করে দেখবেন শোবিজ ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই অভিনয়ের ক্ষেত্রে বাছবিচার করে পথ চলছি। চাইলেতো অভিনয় নিয়েই ব্যস্ত থাকা যায়। শুধু ব্যস্ত থাকার জন্য কাজ নেওয়ার পক্ষপাতী নই। গল্প, চরিত্রের গভীরতা, নির্মাণভাবনা– সবকিছু মিলেই কাজের প্রতি আকৃষ্ট হতে হবে। সময় ও ব্যক্তিগত প্রস্তুতির সঙ্গেও মিল থাকতে হয়। কখনও দীর্ঘ বিরতি গেছে, আবার কখনও হঠাৎই ভালো লেগেছে বলেই কাজ করছি। চরিত্রের সঙ্গে মানসিক সংযোগ তৈরি না হলে ক্যামেরার সামনে দাঁড়াতে পছন্দ করি না। তাই ভবিষ্যতেও সংখ্যার চেয়ে মানসম্মত কাজেই গুরুত্ব দিতে চাই।
গানের ভুবনে
গানের জগতেও নীল হুরেজাহানের পদচারণা উল্লেখযোগ্য। ব্যান্ড শিরোনামহীন-এর জনপ্রিয় গান ‘এই অবেলায় ২’-এ মডেল হয়ে নতুনভাবে আলোচনায় আসেন। থাইল্যান্ডের একটি দ্বীপে শুটিং হওয়া সেই গানে পানিতে ভেসে থাকার দৃশ্যটি ছিল বিশেষ আকর্ষণ। ছোটবেলা থেকেই পানিতে চিত হয়ে ভেসে থাকতে ভালোবাসেন এই ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাই দৃশ্যটিকে করেছে স্বতঃস্ফূর্ত।
এ ছাড়া অ্যাভয়েড রাফা-র অ্যালবামের জন্য পাঁচটি গান লিখেছেন তিনি। তাঁর কবিতার বই ‘হারিয়ে যাবার শুরু’ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে তৈরি হয়েছে অ্যালবাম। ‘জোছনামাখা গন্ধ’ শিরোনামের গানটি ইতোমধ্যে প্রশংসিত হয়েছে, বাকি গানগুলোও শিগগির প্রকাশের অপেক্ষায়।
ব্যক্তিজীবনের অভিজ্ঞতা, প্রিয় মানুষ হারানোর বেদনা কিংবা সময়– সবই তাঁর সৃষ্টিশীলতায় প্রভাব ফেলে। নীলের ভাষায়, তিনি আবেগই তুলে ধরতে চান নিজের, মানুষের, প্রকৃতির। সেই আবেগ যদি শ্রোতা বা দর্শকের জীবনের সঙ্গে মিলে যায়, তাতেই তাঁর সার্থকতা।
উপস্থাপনা, অভিনয় মডেলিং– মিলিয়ে বছরজুড়ে অন্যরকম ব্যস্ততায় দিন কাটে নীল হুরে জাহানের। উৎসব আয়োজন পর্দায় হাজির হন ভিন্নরূপে। আসছে ঈদ আয়োজনে দর্শক তাঁকে তেমন কিছু আয়োজনে দেখতে পাবেন বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
পড়ুন:রমজানে প্রতিদিনের ধারাবাহিক ‘রহমত’
দেখুন:সচিবালয়ে কর্মচারীদের এক ঘণ্টার কর্মবিরতি, নতুন কর্মসূচি ঘোষণা |
ইমি/


