ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। যেকোনো সময় শুরু হতে পারে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ। মার্কিন গণমাধ্যম CBS News জানিয়েছে, আগামী শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) মধ্যেই তেহরানে সম্ভাব্য হামলার প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে ওয়াশিংটন। এ বিষয়ে নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
আরেক মার্কিন গণমাধ্যম ওয়ালস্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্য হতে পারেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি–সহ দেশটির শীর্ষ নেতৃত্ব। একই সঙ্গে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিতে হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সবুজ সংকেতের অপেক্ষায় রয়েছে ইসরায়েল।
পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে জেনেভায় ওয়াশিংটন–তেহরান বৈঠক শেষ হওয়ার পরই নিজেদের সামরিক সক্ষমতার প্রদর্শন করেছে ইরান। চীন ও রাশিয়া–কে সঙ্গে নিয়ে ওমান সাগর ও ভারত মহাসাগরে যৌথ নৌ মহড়া আয়োজন করে তেহরান।
এর আগে হরমুজ প্রণালীতে নৌ মহড়া চালায় ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। ইরানের এমন প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যম সামনে নিয়ে আসে বিস্ফোরক তথ্য। সিবিএসের তথ্যমতে, আগামী শনিবারের মধ্যেই ইরানে সামরিক হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।
প্রায় এক সপ্তাহব্যাপী এ হামলা চলতে পারে। এ বিষয়ে হোয়াইট হাউসের সিচুয়েশন রুমে শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
মার্কিন গণমাধ্যম এক্সিওসের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্ভাব্য হামলার সম্ভাবনা প্রায় ৯০ শতাংশ। একইসঙ্গে বার্তাসংস্থা রয়টার্সের তথ্যমতে, মধ্যপ্রাচ্য থেকে কিছু সেনা সদস্যকে ফেরত নিয়ে আসার পাশাপাশি ইউরোপে পাঠিয়ে দিয়েছে পেন্টাগন।
ওয়ালস্ট্রিট জার্নালের তথ্যমতে, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন হামলার চূড়ান্ত লক্ষ্যই শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন। এ হামলায় সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়োতুল্লাহ আলি খামেনিসহ ইরানের শীর্ষনেতৃত্ব ও সামরিক কর্মকর্তাদের হত্যার পরিকল্পনা করছে ট্রাম্প প্রশাসন। যদিও কূটনৈতিক চাপের মাধ্যমে পারমাণবিক ও ব্যালিস্টিক কর্মসূচি গুটিয়ে নিতে তেহরানকে বাধ্য করার পথও খোলা রেখেছেন ট্রাম্প।
ইসরাইলের গণমাধ্যম কেএনএন জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি সবুজ সংকেত দেয়, তবে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতায় হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসরাইল। যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে পারে ইসরাইলি সেনাবাহিনী।
একই সময়ে আরেক গণমাধ্যম হারেৎজ জানিয়েছে, ওয়াশিংটন-তেহরান সাম্প্রতিক আলোচনায় বড় ফাঁক রয়ে গেছে, বিশেষ করে নিজ ভূখণ্ডে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধের মার্কিন দাবিতে অনড় রয়েছে ইরান।
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বিনইয়ামিন নেতানিয়াহু হোম ফ্রন্ট কমান্ড ও উদ্ধার সংস্থাগুলোকে সম্ভাব্য যুদ্ধের প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দিয়েছেন। একইসঙ্গে, বিভিন্ন নিরাপত্তা সংস্থায় সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
গেল একদিনে ইরানের কাছাকাছি এফ-৩৫, এফ-২২ এবং এফ-১৬ মিলিয়ে ৫০ টির বেশি যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ২০০৩ সালে ইরাকে হামলার সময় যে পরিমাণ মার্কিন সেনা মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন ছিল। তার চেয়ে বেশি সংখ্যক সেনা বর্তমানে অঞ্চলটিতে রয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস।
পড়ুন : যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার পরই রাশিয়ার সাথে সামরিক মহড়ায় ইরান


