নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলায় ধর্ষণের শিকার ১৪ বছর বয়সী এক প্রতিবন্ধী কিশোরী সম্প্রতি সন্তান প্রসব করেছে। ঘটনার প্রায় পাঁচ-ছয় মাসের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও মূল অভিযুক্ত ধর্ষক গ্রেপ্তার না হওয়ায় চরম অনিশ্চয়তা ও ক্ষোভের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে ভুক্তভোগী পরিবার।
ভুক্তভোগী কিশোরীর বাড়ি উপজেলার সিংধা ইউনিয়নের একটি গ্রামে। এই অমানবিক ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ভুক্তভোগীর পরিবার গত ৩ সেপ্টেম্বর বারহাট্টা থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করে। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ধর্ষণে সহায়তাকারী হিসেবে পারুল আক্তার (৪৫) নামের এক নারীকে গ্রেপ্তার করলেও, ঘটনার মূল অভিযুক্ত কিবরিয়া (২৪) এখনও পলাতক রয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, অভিযুক্ত কিবরিয়া স্থানীয় এক প্রভাবশালী জনপ্রতিনিধির আত্মীয় হওয়ায় তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশের পক্ষ থেকে গড়িমসি করা হচ্ছে। এমনকি ধর্ষক গ্রেপ্তারের বিষয়ে জানতে চাইলে উল্টো ভুক্তভোগী পরিবারের কাছেই অভিযুক্তের অবস্থান জানতে চাওয়া হচ্ছে বলে তারা দাবি করেছেন।
মূল অভিযুক্ত গ্রেপ্তার না হওয়ায় এবং চরম দারিদ্র্যের কারণে পরিবারটি প্রতিবন্ধী কিশোরী ও তার নবজাতককে নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে।
ভুক্তভোগীর মা জানিয়েছেন, অল্প বয়স এবং শারীরিক অক্ষমতার কারণে প্রতিবন্ধী কিশোরী কন্যাটি তার সন্তানকে বুকের দুধ খাওয়াতে পারছে না। ফলে নবজাতক শিশুটি মারাত্মক পুষ্টিহীনতায় ভুগছে। অর্থের অভাবে হতদরিদ্র পরিবারটি শিশুটির চিকিৎসাও করাতে পারছে না।
মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে বারহাট্টা থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা (আইও) উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আরিফুর ইসলাম জানান, আসামিকে ধরার চেষ্টা চলছে এবং পুলিশ তাকে খুঁজছে। তিনি উল্লেখ করেন, এই মামলার মূল ভিত্তি হলো আসামির ডিএনএ (DNA) সংগ্রহ করে শিশুটির ডিএনএ-এর সাথে মিলিয়ে দেখা।
পুলিশের বিরুদ্ধে মামলাটিকে যথেষ্ট গুরুত্ব না দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আইও জানান, তারা এখন পর্যন্ত আসামির কোনো ক্লু পাননি। তিনি আরও বলেন, যেকোনো ব্যক্তির কাছে আসামির বিষয়ে কোনো তথ্য থাকলে তা দিয়ে পুলিশকে সহযোগিতা করা উচিত।
তবে আসামিকে খুঁজে বের করার মূল দায়িত্ব যে পুলিশের, সে বিষয়টি তিনি স্বীকার করেন এবং জানান যে পুলিশের চেষ্টা অব্যাহত আছে।
পড়ুন : ‘কুখ্যাতদের’ মন্ত্রণালয় এখন জনবান্ধব হবে: নেত্রকোনায় ভূমি প্রতিমন্ত্রী


