প্রথমবার চাঁদে পাড়ি দেয়ার ৫০ বছর পার হলেও এখন পর্যন্ত কোনো মহাকাশচারী চাঁদে যায়নি। তবে এবার মানুষকে চাঁদে পাঠানোর কঠিন মিশন হাতে নিয়েছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। পাঁচ দশক পর মানুষকে চাঁদের চারপাশে পাঠানোর লক্ষ্যে মিশনের দিনও ঘোষণা করেছে সংস্থাটি।
নাসা জানিয়েছে, আগামী ৬ মার্চ রকেট উৎক্ষেপণের মধ্য দিয়ে শুরু হবে আর্টেমিস–২ মিশন। তবে নাসা কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, বাকি প্রস্তুতির অগ্রগতির ওপর ভিত্তি করে এই তারিখ পরিবর্তিতও হতে পারে। এই মিশনে চন্দ্রযানটি চাঁদের মাটিতে অবতরণ করবে না, শুধু চারপাশে ঘুরে তথ্য সংগ্রহ করবে। ফলে যেসব মহাকাশচারী অভিযানে অংশ নেবেন তারা শুধুমাত্র চাঁদকে খুব কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করতে পারবেন।
মিশনের আগে গুরুত্বপূর্ণ এক ধাপ সম্পন্ন করেছে নাসা। চাঁদ অভিযানের জন্য প্রস্তুত বিশালাকৃতির রকেটে জ্বালানি ভরে পূর্ণ উৎক্ষেপণের মহড়া চালানো হয়েছে। এই মহড়াটি ‘ওয়েট ড্রেস রিহার্সাল’ নামে পরিচিত, যা উৎক্ষেপণের আগে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) নাসার প্রশাসক জ্যারেড আইজ্যাকম্যান জানান, চলতি মাসের শুরুতে প্রথম কাউন্টডাউন মহড়ায় হাইড্রোজেন লিকের কারণে যে সমস্যা দেখা দিয়েছিল, দ্বিতীয় মহড়ায় তা কাটিয়ে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে সম্পন্ন হওয়া দ্বিতীয় পরীক্ষায় বড় কোনো জ্বালানি লিক দেখা যায়নি।
তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ‘এই পরীক্ষা ছিল চাঁদের পরিবেশে আমেরিকার প্রত্যাবর্তনের পথে একটি বড় অগ্রগতি।’ উৎক্ষেপণ সফল হলে শুরু হবে প্রায় ১০ দিনের মহাকাশযাত্রা। এ সময় নভোচারীরা প্রথমে পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করবেন, এরপর চাঁদের চারপাশে ফিগার-এইট আকৃতির পথে উড়াল দেবেন। এই মিশনের মাধ্যমে অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় পর মানবজাতি আবার চাঁদের কক্ষপথে ফিরে যাবে।
নাসার এক বিবৃতিতে জানানো হয়, ‘প্রকৌশলীরা রকেটে ৭ লাখ গ্যালনেরও বেশি তরল জ্বালানি ভরেছেন। উৎক্ষেপণপ্যাডে একটি ক্লোজআউট দল পাঠিয়ে ওরিয়ন মহাকাশযানের হ্যাচ বন্ধের মহড়া দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে উৎক্ষেপণ কাউন্টডাউনের শেষ ধাপ ‘টার্মিনাল কাউন্ট’ দু’বার সম্পন্ন করা হয়েছে। আর্টেমিস–২ মিশনের নভোচারীরাও নাসার কেনেডি স্পেস সেন্টারের লঞ্চ কন্ট্রোল সেন্টার থেকে পরীক্ষার একটি অংশ পর্যবেক্ষণ করেন।’
এই অভিযানে অংশ নেয়া নভোচারীরা পৃথিবী থেকে মানুষের ইতিহাসে সবচেয়ে দূরে ভ্রমণকারী হিসেবে রেকর্ড গড়তে পারেন। এটি হবে নাসার স্পেস লঞ্চ সিস্টেম রকেট ও ওরিয়ন ক্যাপসুলের প্রথম মানববাহী উড্ডয়ন।
মিশনে অংশ নিচ্ছেন চারজন নভোচারী। তারা হলেন- রিড ওয়াইজম্যান, ভিক্টর গ্লোভার, ক্রিস্টিনা কোচ এবং কানাডিয়ান স্পেস এজেন্সির নভোচারী জেরেমি হ্যানসেন। এই যাত্রার মাধ্যমে ১৯৭২ সালে অ্যাপোলো–১৭ মিশনের পর প্রথমবারের মতো মানুষ আবার চাঁদের কাছে যাবে।
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

