যুক্তরাজ্যের রাজা তৃতীয় চার্লসের ছোট ভাই অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসরকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ছেড়ে দেওয়া হলেও তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে টেমস ভ্যালি পুলিশ। সরকারি দায়িত্ব পালনকালে যুক্তরাষ্ট্রের কুখ্যাত যৌন নিপীড়ক জেফরি এপস্টেইনের কাছে সরকারের গোপন নথি পাচারের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারের পর অ্যান্ড্রুকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয়। পরে তাঁকে নরফোকের স্যান্ড্রিংহ্যাম এস্টেটে ফিরতে দেখা যায়। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত চলমান থাকায় প্রয়োজনে তাঁকে আবার জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হতে পারে।
দ্য গার্ডিয়ানের খবর অনুসারে, অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসর গত বৃহস্পতিবার ৬৬ বছরে পদার্পণ করেন। জন্মদিনেই তাঁকে টেমস ভ্যালি পুলিশের গোয়েন্দারা দিনভর জিজ্ঞাসাবাদ করে। পরে বার্কশায়ার ও নরফোকের একাধিক ঠিকানায় তল্লাশি চালানো হয়। পুলিশ জানায়, অ্যান্ড্রুর সাবেক বাসভবন রয়্যাল লজসহ বিভিন্ন স্থানে অনুসন্ধান অভিযান চলছে। টেমস ভ্যালি পুলিশ জানিয়েছে, স্যান্ড্রিংহ্যাম এস্টেটে অ্যান্ড্রুর বর্তমান বাসভবনে তল্লাশি শেষ হলেও উইন্ডসর এস্টেটে অবস্থিত তাঁর সাবেক বাসভবন রয়্যাল লজে গতকাল শুক্রবার দ্বিতীয় দিনের মতো অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
যে কারণে গ্রেপ্তার করা হয় অ্যান্ড্রুকে
পুলিশ জানিয়েছে, অ্যান্ড্রুকে ‘সরকারি দায়িত্বে অসদাচরণ’ সন্দেহে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তদন্তকারীদের ধারণা, ২০০১ থেকে ২০১১ সালের মধ্যে যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য দূত হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি সংবেদনশীল সরকারি নথি ও বাণিজ্যিক তথ্য দণ্ডপ্রাপ্ত যৌন নিপীড়ক এপস্টেইনের কাছে পাঠিয়েছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের প্রকাশিত নথিতে কিছু ই-মেইলের উল্লেখ পাওয়া গেছে। এসব মেইলের তথ্য থেকে ধারণা করা হচ্ছে, অ্যান্ড্রু সরকার-সংক্রান্ত গোপন তথ্য এপস্টেইনের কাছে ফরোয়ার্ড করেছিলেন। তবে এসব অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করে আসছেন অ্যান্ড্রু। ব্রিটিশ গণমাধ্যম জানিয়েছে, গ্রেপ্তারের আগে রাজা চার্লস বা বাকিংহাম প্যালেসকে বিষয়টি জানানো হয়নি। টেমস ভ্যালি পুলিশ দাবি করেছে, তারা সরাসরি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অবহিত করেনি। তবে জাতীয় পুলিশপ্রধানদের কাউন্সিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে ৩০ মিনিট আগে জানায়। এ বিষয়ে অ্যান্ড্রুর বড় ভাই রাজা তৃতীয় চার্লস বলেন, ‘আইন তার নিজস্ব পথে চলবে।’
আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আধুনিক ইতিহাসে রাজপরিবারের কোনো জ্যেষ্ঠ সদস্যকে গ্রেপ্তার করার ঘটনা নজিরবিহীন। সর্বশেষ ১৬৪৭ সালে ইংল্যান্ডের গৃহযুদ্ধের সময় রাজা প্রথম চার্লসকে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন প্রভাষক ক্রেইগ প্রেসকট বলেন, ‘আধুনিক যুগে এটি রাজপরিবারের কোনো সদস্যের সবচেয়ে বড় অধঃপতন।’ এর আগে ২০০২ সালে রাজকন্যা অ্যানকে বিপজ্জনক কুকুর আইনে জরিমানা করা হয়েছিল। তবে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। প্রিন্স ফিলিপের ক্ষেত্রেও ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, রাজা চার্লসের ছোট ভাই অ্যান্ড্রুর গ্রেপ্তার ব্রিটিশ রাজপরিবার ও রাজতন্ত্রের ভাবমূর্তির জন্য বড় ধাক্কা।
এপস্টেইনের সম্পত্তি থেকে ভুক্তভোগীদের ক্ষতিপূরণ
এপস্টেইনের সম্পত্তি থেকে ভুক্তভোগীদের ক্ষতিপূরণ হিসেবে সর্বোচ্চ তিন কোটি ৫০ লাখ ডলার দেওয়ার বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে বলে আদালতের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এই অর্থ ১৯৯৫ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে এপস্টেইনের যৌন নির্যাতন বা মানব পাচারের শিকার ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে এএফপি।
পড়ুন:সুপ্রিম কোর্টের বিচারকদের লজ্জিত হওয়া উচিত : ট্রাম্প
দেখুন:যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক: কোন দেশ কত পেলো? |
ইমি/


