সাম্প্রতিক আত্মঘাতী ও সন্ত্রাসী হামলার পর আফগানিস্তানের ভেতরে বিমান হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী জানায়, সীমান্তবর্তী এলাকায় সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর ‘ক্যাম্প ও আস্তানা’ লক্ষ্য করেই এ হামলা চালানো হয়েছে।
রোববার চালানো এসব হামলায় আফগানিস্তানের অন্তত দুটি সীমান্ত প্রদেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানিয়েছে আল জাজিরা। সূত্রগুলো জানায়, পাকতিকা প্রদেশে একটি ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ড্রোন হামলা চালানো হয়। পাশাপাশি নানগারহার প্রদেশেও হামলার ঘটনা ঘটে।
পাকিস্তানের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এক্সে (X) দেয়া এক বিবৃতিতে জানায়, দেশটির সামরিক বাহিনী ‘গোয়েন্দাভিত্তিক ও লক্ষ্যভিত্তিক অভিযান’ চালিয়ে সাতটি ক্যাম্প ও আস্তানা ধ্বংস করেছে। এসব স্থাপনা নিষিদ্ধ ঘোষিত পাকিস্তানি তালেবান বা তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) এবং তাদের সহযোগী সংগঠনগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে দাবি করা হয়। একই সঙ্গে সীমান্ত অঞ্চলে আইএস-এর একটি সহযোগী শাখাকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, ইসলামাবাদসহ উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বাজাউর ও বান্নু জেলায় সাম্প্রতিক হামলাগুলোর পেছনে আফগানিস্তানভিত্তিক নেতৃত্ব ও পরিকল্পনাকারীদের ‘সুনির্দিষ্ট প্রমাণ’ রয়েছে। পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরে আফগান ভূখণ্ড ব্যবহার করে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বন্ধে ব্যবস্থা নিতে কাবুলকে আহ্বান জানালেও তালেবান সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি বলে অভিযোগ করা হয়।
পাকিস্তানের এই বিমান হামলা চালানো হয় এমন এক সময়, যখন রোববারই উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় বান্নু জেলায় নিরাপত্তা বাহিনীর একটি বহরে আত্মঘাতী হামলায় একজন লেফটেন্যান্ট কর্নেলসহ দুই সেনা নিহত হন। এর পরদিন সোমবার বাজাউরে বিস্ফোরকভর্তি গাড়ি নিয়ে একটি নিরাপত্তা চৌকিতে হামলায় ১১ জন সেনা ও এক শিশু নিহত হয়। কর্তৃপক্ষ জানায়, ওই হামলাকারী একজন আফগান নাগরিক।
এর আগে ৬ ফেব্রুয়ারি ইসলামাবাদের তাড়লাই কালান এলাকায় অবস্থিত খাদিজাতুল কুবরা মসজিদে জুমার নামাজ চলাকালে আত্মঘাতী বোমা হামলায় অন্তত ৩১ জন মুসল্লি নিহত এবং প্রায় ১৭০ জন আহত হন। এ হামলার দায় স্বীকার করে ইসলামিক স্টেট (আইএস)।
পড়ুন: বিশ্বের সব দেশের ওপর শুল্ক ১০ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করলেন ট্রাম্প
আর/


