২৪/০২/২০২৬, ২৩:৫২ অপরাহ্ণ
23.2 C
Dhaka
২৪/০২/২০২৬, ২৩:৫২ অপরাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

১ দিনে সরানো হলো ১২ সচিব, নতুন পদায়নে তোড়জোড়

নতুন সরকার গঠনের পর প্রশাসনে ব্যাপক রদবদলের উদ্যোগ নিয়েছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার। এর অংশ হিসেবে বিগত সরকারের সময় নিয়োগপ্রাপ্ত ৯ জন সচিবের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে। পাশাপাশি তিনজন সচিবকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। শূন্য হওয়া গুরুত্বপূর্ণ এসব পদে চলতি সপ্তাহেই নতুন নিয়োগের প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে।

প্রশাসনিক আদেশে যাদের মূল দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে তারা হলেন—মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব রেহানা পারভীন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সাইফুল্লাহ পান্না এবং ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কামাল উদ্দিন।

অন্যদিকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া যেসব কর্মকর্তার চুক্তি বাতিল হয়েছে তারা হলেন—স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. সাইদুর রহমান, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব শীষ হায়দার চৌধুরী, জাতীয় পরিকল্পনা ও উন্নয়ন একাডেমির মহাপরিচালক সিদ্দিক জোবায়ের, বাণিজ্য আপিল বিভাগের সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ ইউসুফ, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মমতাজ আহমেদ, পরিকল্পনা কমিশনের সিনিয়র সচিব ড. মো. মোখলেসুর রহমান, পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য (সচিব) এম এ আকমল হোসেন আজাদ, ড. কাইয়ুম আরা বেগম এবং বিশ্বব্যাংকের বিকল্প নির্বাহী পরিচালক বেগম শরিফা খান।

সচিবালয়ের একাধিক সূত্র জানায়, শূন্য হওয়া এই ১২টি পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে অতীতে পদোন্নতি ও পদায়নে ‘বঞ্চিত’ বা ‘ক্ষতিগ্রস্ত’ কর্মকর্তাদের প্রাধান্য দেওয়া হতে পারে। বিশেষ করে যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও রাজনৈতিক কারণে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পাননি—এমন কর্মকর্তাদের মধ্য থেকেই নতুন সচিব নির্বাচন করা হতে পারে।

ধারণা করা হচ্ছে, বিএনপি-ঘরানার বা নিরপেক্ষ হিসেবে পরিচিত দক্ষ কর্মকর্তাদের একটি বড় অংশ এ দফায় শীর্ষ পদে আসতে পারেন।

এর মধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের দায়িত্ব পেতে পারেন নবম বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা মো. শামসুল আলম, যিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার এপিএস ছিলেন।

দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে পদায়ন বঞ্চনার শিকার এই কর্মকর্তা ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর রাষ্ট্রপতির আদেশে পুনরায় চাকরিতে বহাল হন। যদিও ২০২২ সালেই তাকে সিনিয়র সচিব পদে পদোন্নতির সারসংক্ষেপ প্রধান উপদেষ্টা ও রাষ্ট্রপতির অনুমোদন পায়, তবুও তাকে পদায়ন করা হয়নি।

সর্বশেষ গত জুলাইয়ে শিক্ষা সচিব সিদ্দিক জোবায়ের অপসারণের পর তাকে পদায়নের আলোচনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত রেহানা পারভীনকে ওই পদে নিয়োগ দেওয়া হয়।

এদিকে তাকে পদায়নের দাবিতে শিক্ষার্থীদের একটি দল বাংলাদেশ সচিবালয়ে গিয়ে অর্থ উপদেষ্টা, স্বরাষ্ট্র সচিব ও মন্ত্রিপরিষদ সচিবের কাছে স্মারকলিপি দেয়। তবে তাতেও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

২০০৮ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময় সাবেক মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যসহ প্রভাবশালী ৬২ জনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে তৎকালীন জিয়া আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ সব সীমান্ত ইমিগ্রেশনে তালিকা পাঠানো হয়েছিল। সে সময় হয়রানির শিকার হন শামসুল আলম।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, নতুন নিয়োগের তালিকা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। সরকারের উচ্চপর্যায়ের অনুমোদন পেলেই যে কোনো সময় প্রজ্ঞাপন জারি করা হতে পারে।

প্রশাসনের এই বড় ধরনের রদবদলকে কেন্দ্র করে সচিবালয়জুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও কৌতূহল বিরাজ করছে।

পড়ুন: কুমিল্লায় গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে নারী-শিশুসহ দগ্ধ ৪

আর/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন