চলছে পবিত্র রমজান মাস। এ মাসে ধর্মপ্রাণ মুসলিমরা রোজা পালন করেন। রোজা হচ্ছে ইসলাম ধর্মের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। তবে এটি শুধু খাদ্য ও পানীয় থেকে বিরত থাকার অনুশীলন নয়; বরং এটি আত্মসংযম, ধৈর্য, সহমর্মিতা এবং মানসিক শুদ্ধতার এক গভীর চর্চা। আধুনিক জীবনযাত্রার ব্যস্ততা, প্রতিযোগিতা ও মানসিক চাপে বিপর্যস্ত মানুষের জন্য রমজান হতে পারে আত্মসমালোচনা ও মানসিক পুনর্গঠনের একটি অনন্য সুযোগ।
মানসিক স্বাস্থ্যের গুরুত্ব নিয়ে বিশ্বব্যাপী সচেতনতা বাড়ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) বারবার উল্লেখ করেছে, মানসিক সুস্থতা শারীরিক স্বাস্থ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এই প্রেক্ষাপটে রোজা মানসিক প্রশান্তি অর্জনের একটি কার্যকর উপায় হতে পারে। তবে তা যদি সঠিকভাবে ও সচেতনতার সঙ্গে পালন করা হয়।
রমজানে মানসিক প্রশান্তির জন্য আত্মসংযম থেকে আত্মশুদ্ধির ব্যাপারে চ্যানেল 24 অনলাইনের সঙ্গে কথা বলেছেন প্রিভেন্টিভ মেডিসিন চিকিৎসক ডা. রিফাত আল মাজিদ। এ চিকিৎসক বলেন―
রোজার মাধ্যমে আত্মনিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধি পায়, রাগ ও হঠকারিতা কমে, সহানুভূতি ও কৃতজ্ঞতার অনুভূতি গভীর হয়। একই সঙ্গে এটি মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়ক এবং আত্মবিশ্বাস ও আত্মসম্মান বাড়াতে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে সবাই একইভাবে রোজার অভিজ্ঞতা লাভ করেন না।
ডা. রিফাত আল মাজিদ বলেন, দীর্ঘসময় না খেয়ে থাকার ফলে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কমে গিয়ে খিটখিটে মেজাজ বা রাগ বাড়তে পারে। ঘুমের সময়সূচির পরিবর্তনের কারণে মনোযোগের ঘাটতি ও ক্লান্তি দেখা দিতে পারে। যারা আগে থেকেই উদ্বেগ বা বিষণ্নতায় ভুগছেন, তাদের ক্ষেত্রে অস্থিরতা বাড়ার আশঙ্কা থাকে।
তিনি আরও বলেন, সাহরি ও ইফতারের সময়ের পরিবর্তন ঘুমের ছন্দ নষ্ট করে অনিদ্রার সমস্যা তৈরি করতে পারে। পর্যাপ্ত পানি পান না করলে ডিহাইড্রেশনজনিত মাথাব্যথা ও মানসিক অস্বস্তিও দেখা দিতে পারে। এ ক্ষেত্রে গুরুতর মানসিক অসুস্থতায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া গুরুত্বপূর্ণ বলে জানিয়েছেন এই প্রিভেন্টিভ মেডিসিন চিকিৎসক।
ডা. রিফাত আল মাজিদ বলেন―
রোজায় মানসিক সুস্থতা বজায় রাখার জন্য কিছু করণীয় রয়েছে। সাহরিতে জটিল কার্বোহাইড্রেটসমৃদ্ধ সুষম খাবার গ্রহণ, পর্যাপ্ত পানি পান এবং অতিরিক্ত চা–কফি এড়িয়ে চলা প্রয়োজন। অন্তত ৬–৭ ঘণ্টা ঘুম নিশ্চিত করা এবং সম্ভব হলে স্বল্প সময়ের বিশ্রাম নেয়া উপকারী। দৈনন্দিন কাজ ও ইবাদতের একটি নির্দিষ্ট রুটিন বজায় রাখা মানসিক স্থিতি আনে। গভীর শ্বাস-প্রশ্বাসের অনুশীলন, ইফতারের পর হালকা হাঁটা এবং কৃতজ্ঞতার চর্চা মানসিক চাপ কমাতে সহায়ক।
পরিবারের সঙ্গে ইফতার করা বা ইতিবাচক আলোচনায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে সামাজিক সংযোগ বজায় রাখাও মানসিক প্রশান্তি বাড়ায়।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন। রোজাকে কষ্ট হিসেবে না দেখে আত্মশুদ্ধির সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করলে মানসিক উপকারিতা বহুগুণে বৃদ্ধি পায়। নিজের প্রতি সহানুভূতিশীল থাকা, প্রতিদিন ছোট লক্ষ্য নির্ধারণ করা, অপ্রয়োজনীয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার কমানো এবং প্রয়োজনে কাউন্সিলিং গ্রহণের মতো পদক্ষেপগুলো মানসিক ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়ক।
রমজান মাসে মানসিক প্রশান্তি জোর করে অর্জন করা যায় না; এটি আসে সচেতনতা, সংযম ও জীবনযাপনের মাধ্যমে। নিজের শরীর ও মনকে বুঝে চলাই প্রকৃত সুস্থতার চাবিকাঠি।
পড়ুন:স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে নবনিযুক্ত ৬ সিটি প্রশাসকের সৌজন্য সাক্ষাৎ
দেখুন:আরাভকে দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে: আইজিপি
ইমি/


