২৫/০২/২০২৬, ০:০৩ পূর্বাহ্ণ
23.2 C
Dhaka
২৫/০২/২০২৬, ০:০৩ পূর্বাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল অফিসের কর্মকর্তা রাশেদুল নিজেই ঠিকাদার

টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল অফিসের কর্মকর্তা নিজেই ঠিকাদারি কাজে সাথে জড়িত বলে অভিযোগ উঠেছে। এভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ভবন নির্মাণের সময় মূল ঠিকাদারের কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছেন কোটি কোটি টাকা। এ নিয়ে পুরো বিশ্ববিদ্যালয় জুড়ে শুরু হয়েছে সমালোচনা। তবে ওই কর্মকর্তা ঠিকাদারির সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করলেও তার নামে কোন লাইসেন্স নেই বলেও জানান তিনি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০১৬ সালের ২৫ অক্টোবর একনেক হতে ৩৪৫ কোটি ৭৭ লাখ টাকা বরাদ্দ পায় ‘মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শক্তিশালীকরণ’-শীর্ষক প্রকল্প। প্রকল্পটি ১ জুলাই ২০১৬ হতে ৩০ জুন ২০১৯ মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য অনুমোদিত হয়। পরবর্তীতে (আরডিপিপি) সংশোধনীতে প্রকল্পের মেয়াদ দুই বছর বাড়িয়ে জুন ২০২১ মেয়াদে অনুমোদিত হয়। বিগত ২০২১ সালের ২৯ জুন নির্মাণকাজের গুনগতমান নিশ্চিত করাসহ ০৫ টি শর্তে আবারও প্রকল্পটির মেয়াদ বাড়িয়ে জুন ২০২২ পর্যন্ত করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বহির্ভূতভাবে রাজস্ব বাজেট হতে ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে ৫ কোটি ৭৩ লাখ ৪৩ হাজার ৭৭২ টাকা প্রকল্প খাতে নেওয়া হয়, যা অডিট আপত্তি হয়। টেন্ডার ডকুমেন্ট ও পিপিআর-২০০৮ সম্পূর্ণভাবে অমান্য করে ৬টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন ব্যক্তির নামে ২০১৯ সালের ৩০ জুন পাঁচ কোটি ৭৩ লাখ ৪৩ হাজার ৭৭২ টাকা অগ্রিম প্রদান করা হয় তাতেও অডিট আপত্তি হয়। ৬টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলো মধ্যে ১০ তলা প্রশাসনিক ভবন, ১২ তলা একাডেমিক ভবন, মালটিপারপাস কাজ এই তিন ভবনের কাজ করেন নূরাণী কনস্ট্রাকশন, আসবাবপত্র ক্রয় করেন বনশিল্প কর্পোরেশন,২য় ছাত্রী হল এবং সিনিয়র শিক্ষক ভবনের কাজ করেন মের্সাস ভাউয়াল কনস্ট্রাকশন নামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। আর এই নূরাণী কনস্ট্রাকশনের কাছ থেকে ১০ তলা প্রশাসনিক ভবন এবং ১২ তলা একাডেমিক ভবনের সাব ঠিকাদারি হিসেবে কাজ নেন প্রকৌশল অফিসের সহকারি টেকনিক্যাল অফিসার এস এম রাশেদুল ইসলাম রাসেল।

এদিকে কাজ শেষ হওয়ার পর প্রকৌশল অফিসের এস এম রাশেদুল ইসলাম রাসেলকে না জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব শাখা থেকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নূরাণী কনস্ট্রাকশনকে বিল দিয়ে দেয়ায় তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন। পরবর্তীতে এ নিয়ে এস এম রাশেদুল ইসলাম রাসেল বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব পরিচালককে লাঞ্ছিত করার চেষ্টা করেন।

এ বিষয়ে প্রকৌশল অফিসের সহকারি টেকনিক্যাল অফিসার এস এম রাশেদুল ইসলাম রাসেল ঠিকাদারি কাজের সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে জানান, তিনি একা কাজ করেননি। তিন জন মিলে কাজগুলো করেছিলেন। তাদের এখনো ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছে ৩২ লাখ টাকা বকেয়া রয়েছে। এর মধ্যে তার নিজের ২১ লাখ, মিঠু নামের একজনের আট লাখ এবং এক গ্রীল মিস্ত্রির দুই লাখ টাকা রয়েছে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) মুহাম্মদ ফারুক হোসাইন জানান, এস এম রাশেদুল ইসলামের নিজের কোন ঠিকাদারি লাইসেন্স নেই। তিনি নুরাণী কনস্ট্রাকশনের কাছ থেকে সাব ঠিকাদার হিসেবে যে কাজ করেছেন তার বিল এখনো ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পরিশোধ করেনি। তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের জামানত এখনো রয়ে গেছে। পরবর্তীতে জামানতের টাকা ফেরত দেওয়ার সময় এস এম রাশেদুল ইসলাম রাশেদের টাকা পরিশোধ করে দিতে পারে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি। তবে কিভাবে একজন কর্মকর্তা ঠিকাদারি কাজ করে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অনেক বিষয় আছে, এসব কথা ফোনে বলা যাবে না।

বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) মোহাম্মদ মহিউদ্দিন জানান, লাইসেন্সটি হচ্ছে তারেক নামের এক ব্যক্তির। তাদের বিলে কোন সমস্যা ছিল না এ কারণে তাদের বিল পরিশোধ করা হয়েছে। তবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের আরো বেশ কয়েকটি বিল রয়েছে সেখান থেকে সাব ঠিকাদাররা বিল রিকভারি করতে পারবে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. আনোয়ারুল আজিম আকন্দ এ বিষয়ে কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : নেত্রকোনায় দ্রুতগতির অটোরিকশা কেড়ে নিল শিশুর প্রাণ

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন