ছাত্রী সপ্না খাতুনকে ধর্ষনের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার হাড়াভাঙ্গা এইচ বি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের আলোচিত বরখাস্তকৃত প্রধান শিক্ষক রাজু আহমেদকে জেল হাজতে পাঠিয়েছে আদালত।
দীর্ঘদিন পলাতক থাকার পর গতকাল ২৪ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার মেহেরপুর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জাহিদুর রহমানের আদালতে আত্মসমর্থন করে জামিনের আবেদন করে। বিচারক তার জামিন আবেদন নাম মঞ্জুর করে জেল হাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেয়।নির্দেশনা পাওয়ার পর কোর্ট পুলিশের সদস্যরা বরখাস্তকৃত প্রধান শিক্ষক রাজু আহমেদকে জেলা কারাগারে হস্তান্তর করে।
মেহেরপুর জেলা কারাগার কোর্ট পুলিশের পক্ষ থেকে এ বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এস আই আতোয়ার জানান, সাময়িক বহিস্কৃত প্রধান শিক্ষক রাজু আহমেদের বিরুদ্ধে ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন (সংশোধনী ২০০৩) এর ৭/৯(১)/১০ ধারায় সপ্না খাতুন গত ২৪ নভেম্বর সোমবার মেহেরপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলার আবেদন করেন।বিচারক আলী মাসুদ শেখ আবেদনটি আমলে নিয়ে মামলা নথিভুক্ত করতে গাংনী থানাকে নির্দেশ দিলে গত ২৮ নভেম্বর মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়। গাংনী থানার মামলা নং ৩৪। আদালতের মামলা নম্বর ৩৬৬/২৫ ।
মামলার এজাহারে শিক্ষার্থী স্বপ্না খাতুন বলেছেন, কাজিপুর গ্রামের মৃত আফাজুদ্দিনের ছেলে
এইচ বি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাজু আহমেদ ২০২২ সালের ১৬ই ডিসেম্বর বিজয় দিবসের দিন তার অফিসে একা ডেকে নিয়ে নানা রকম প্রলোভনে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে হাত দেয়। বাধা দিতে গেলে মুখ চেপে ধরে খুন করে ফেলার হুমকি দিয়ে জোর পূর্বক ধর্ষন করে। এভাবে ১০/১১/২০২৫ সাল পর্যন্ত দিনের পর দিন তাকে স্কুলের অফিস রুম সহ বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে ধর্ষন করতে থাকে।
এছাড়া রাজু মাষ্টার তার মোবাইল ফোন থেকে তাকে ফোন করেন এবং যৌনাঙ্গ প্রদর্শন সহ বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গি করে যৌন হয়রানী করতে থাকে দিনের পর দিন। এই ভাবে রাজু আহমেদ বিয়ের প্রলোভনে কুষ্টিয়া শহরে তার এক আত্মীয়ের বাড়ীতে নিয়ে স্ত্রীর পরিচয় দিয়ে দিনের পর দিন ধর্ষন করত। শেষ ঘটনার তারিখ ও সময়ে বিয়ের কথা বলে তার অফিসে স্কুল ছুটির পরে ডেকে নিয়ে দরজা জানালা বন্ধ করে দিয়ে একাধিক বার জোর পূর্বক ধর্ষন করে।
এদিকে গত ২০ নভেম্বর বুধবার প্রধান শিক্ষক রাজু আহমেদের স্থায়ী বহিষ্কার ও আলোচিত ভিডিও কান্ডের ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত চেয়ে গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও গ্রামবাসী।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সপ্নার আত্মীয়-স্বজনরা জানিয়েছেন, বহিস্কৃত প্রধান শিক্ষক রাজু ও তার সহযোগীদের চাপের মুখে রয়েছেন তারা।
অপরদিকে আলোচিত ভিডিও কান্ড ও ধর্ষনের ঘটনা ধাপমাচাপ দিতে বহিস্কৃত প্রধান শিক্ষক রাজু আহমেদ এর লোকজন সপ্নার পরিবারকে ম্যানেজ করতে দৌড়ঝাপ শুরু করেছেন। অর্থবিত্ত আর ক্ষমতার দাপটের কাছে সপ্নার পরিবার অনেকটাই অসহায় হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছে এলাকাবাসী।


