২৫/০২/২০২৬, ২০:৩৪ অপরাহ্ণ
27.6 C
Dhaka
২৫/০২/২০২৬, ২০:৩৪ অপরাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

দামুড়হুদায় দিন দুপুরে নৃশংস সশস্ত্র হামলা নিহত ১

চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা খাঁ পাড়ায় এক তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে একদল সশস্ত্র যুবকের বর্বরোচিত হামলায় ও প্রতিনিয়ত বিভিম্ন হুমকিতে একটি পরিবার আজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে।

বিজ্ঞাপন

ওই গ্রামের জাহিদুল মেম্বারের ভাড়াটে বাহিনীর এই নৃশংসতায় বর্তমানে ঢাকার দুটি হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছেন সাজু ও রাজু নামে দুই ভাই। এঘটনার প্রতিবাদে আসামীদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে ভুক্তভোগী পরিবারটি এলাকাবাসীকে সাথে নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও অবস্থান ধর্মঘট করেছে। এসময় দামুড়হুদা উপজেলা শহর যানযটের শহরে পটিনত হয়।

মারাত্নক ভাবে আহত সাজু ও রাজু দামুড়হুদা খাঁপাড়ার বাবলু খাঁর দু’ছেলে।

এবিষয়ে সাজু ও রাজুর চাচা খসরু খাঁ বাদীহয়ে ৭ নাম উল্লেখ সহ আরো ৮/১০ জনকে অজ্ঞত আাসামী করে ২২ ফেব্রুয়ারী দামুড়হুদা মডেল থানায় একটি মামলা করলেও ওই মামলায় পুলিশ কাউকে আটক করতে সক্ষম হয়নি।

এদিকে, গ্রামবাসীদের প্রতিরোধে হামলাকারীদের এক যুবক সাজু (৩০) গণপিটুনিতে মারাত্মক ভাবে আহত হয়ে ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় দু’দিন পর (২৩ ফেব্রুয়ারী) মারা যায়। তার মৃত্যুর পর ঘটনাটি ভিন্নদিকে মোড় নেওয়ায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে ভুক্তভোগী পরিবারটি।
এই পরিস্থিতিতে প্রকৃত আসামীদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে ভুক্তভোগী পরিবারটি এলাকাবাসীকে সাথে নিয়ে বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারী) সকালে দামুড়হুদা উপজেলা সদরের জিরো পয়েন্ট চৌরাস্তা মোড়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন তারা। এর আগে তারা উপজেলা সদরের প্রধান প্রধান সড়কে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ মিছিল করেন।

প্রসঙ্গ: গত শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারী) বিকেলে দামুড়হুদা খাঁ পাড়ার বাবলু খাঁর বাড়িতে নেমে আসে অতর্কিত এক নারকীয় তাণ্ডব। প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, চুয়াডাঙ্গা থেকে মোটরসাইকেল যোগে আসা একদল হেলমেটধারী যুবক রামদা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বাবলু খাঁর বাড়ির দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। হামলাকারীরা বাবলু খাঁর দুই ছেলে সাজু ও রাজুকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। ঘরের মেঝেতে জমে থাকা জমাট বাঁধা রক্ত আর ভাঙা আসবাবপত্র এখনো সেই বীভৎসতার সাক্ষী দিচ্ছে।

হামলায় গুরুতর আহত দুই ভাইয়ের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। বর্তমানে একজন ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে এবং অন্যজন ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ নিউরোসায়েন্স ও হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন।

হামলার কারণ হিসেবে জানা গেছে, একটি গরু চুরির ভিডিও ধারণকে কেন্দ্র করে স্থানীয় জাহিদুল মেম্বারের সাথে বিরোধের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে মোবাইল ভাঙা এবং সেই মোবাইল কিনে দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধ চরম আকার ধারণ করলে জাহিদুল মেম্বার ক্ষিপ্ত হয়ে ভাড়াটে বাহিনী দিয়ে এই হামলা চালান বলে অভিযোগ উঠেছে।

ঘটনার সময় সাজু, রাজু ও তার পরিবারের চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে আসলে ভাড়াটে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে গেলেও সাজু নামে তাদের একজনকে ধাওয়া করে ধরে গণপিটুনি দিয়ে রক্তাক্ত করে রাস্তায় ফেলে রাখে।

সংবাদ পেয়ে পুলিশ তাকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে পাঠান। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সাজুকে ঢাকায় পাঠালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ২৩ ফেব্রুয়ারী তার মৃত্যু হয়। পুলিশের কাছে দেওয়া স্বীকারোক্তিতে সাজু জানিয়েছিল, জাহিদুল মেম্বারই তাদের ভাড়া করে এনেছিলেন।

হামলার কয়েক দিন পার হলেও মূল অভিযুক্ত জাহিদুল মেম্বার এখনো গ্রেফতার না হওয়ায় ক্ষোভে ফুঁসছে এলাকাবাসী। উল্টো পরিবারটিকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রশাসনের নির্লিপ্ততার প্রতিবাদে এবং বিচারের দাবিতে ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী রাজপথে অবস্থান নিলে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে প্রশাসনের আশ্বাসে তারা অবস্থান ধর্মঘট তুলে নিলে প্রায় দু’ঘন্টা পর যানবাহন চলাচল সাবাভিক হয়।

দামুড়হুদা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ মেসবাহ উদ্দিন ঘটনার সত্যতা করে জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ কাজ করছে এবং অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

একটি তুচ্ছ ঘটনা থেকে শুরু হওয়া এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ এখন চুয়াডাঙ্গার অন্যতম আলোচিত ও ভীতিকর বিষয়ে পরিণত হয়েছে। বাবলু খাঁর পরিবার এখন কেবল তাদের ছেলেদের সুস্থতা নয়, বরং এই বর্বরোচিত হামলার পরিকল্পনাকারী জাহিদুল মেম্বার ও তার বাহিনীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চায়।

পড়ুন- নতুন গভর্নর কে এই মোস্তাকুর রহমান?

দেখুন- রমজানে পর্যটকশূন্য কক্সবাজার!

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন