নেত্রকোনা সদর উপজেলার রৌহা ইউনিয়নে একটি রাস্তার নির্মাণকাজে নিম্নমানের ইট ও নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের প্রতিবাদ করায় এক ব্যক্তিকে এবং তাকে বাঁচাতে আসা তার স্ত্রী ও ছেলেকে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার ৯৯৯-এ কল এবং নেত্রকোনা মডেল থানা পুলিশকে মৌখিকভাবে অবগত করার কথা জানান।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১২টার দিকে সরেজমিনে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, রাস্তায় বিছানো ইটগুলো ১নং মানের না দিয়ে তার পরিবর্তে অত্যন্ত নিম্নমানের এবং ইটের সলিংয়ের নিচে তিন ইঞ্চি পরিমাণ বালু দেওয়ার নিয়ম থাকলেও তা পাওয়া যায়নি।
এরআগে গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে আসরের নামাজের সময় রৌহা ইউনিয়নের কারলি মধ্যপাড়া জামে মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় ভুক্তভোগী পরিবারকে মারধরের ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মো. খায়রুল আমিন আজ (বুধবার) থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করবেন বলে জানান প্রতিবেদককে।
ভুক্তভোগী মো. খায়রুল আমিন (৫৬) জানান, উপজেলা পরিষদের অধীনে কারলি মধ্যপাড়া মসজিদের সমানের রাস্তার কাজ চলছিল। কিন্তু শুরু থেকেই সেখানে নাম্বারবিহীন ইট এবং নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছিল। তিনি এলাকার একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে এই কাজের প্রতিবাদ করেন এবং শ্রমিকদের কাজ বন্ধ রাখতে বলেন। এরপর তিনি বিষয়টি উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলীকে জানান।
খায়রুল আমিনের অভিযোগ, উপজেলা প্রকৌশলী ঘটনাস্থল পরিদর্শনে এলে রৌহা ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি নুর মোমেন তার দলবল নিয়ে সেখানে উপস্থিত হন। পরে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।
বাবার ওপর হামলার খবর পেয়ে ছেলে হেদায়েতুল সানি (২৩) তাকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে হামলাকারীরা তার ওপর চড়াও হয়। সানি বলেন, “আমার বাবাকে মারধর করতে দেখে আমি আটকাতে যাই। তখন তারা সাত-আট জন মিলে আমাকে ধরে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি মারে।”
ভুক্তভোগীর স্ত্রী মাহমুদা আমিন (৪৫) কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আসরের নামাজের সময় ঘটনাটি ঘটে। আমার ছেলের মুখে, নাকে এবং হাতের কবজায় মেরে চামড়া তুলে ফেলেছে। আমি আমার স্বামীকে বাঁচাতে গেলে আমাকেও লাথি দিয়ে ফেলে দেয়। প্রায় ৫০ জন মানুষ সেখানে উপস্থিত থাকলেও কেউ আমাদের বাঁচাতে আসেনি।” তিনি এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।
তবে মারধরের অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত রৌহা ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি নুর মোমেন। তিনি দাবি করেন, “আমি এই কাজের ঠিকাদার নই, ঠিকাদার হলেন আরেকজন। আমি শুধু কাজের তদারকি করতে এসেছিলাম। খায়রুল আমিন এসে কাজে বাধা দেন এবং শ্রমিকদের কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা না পেয়ে তিনি মিথ্যা অভিযোগ করছেন।” নিম্নমানের ইটের বিষয়ে তিনি বলেন, “ইট হয়তো ২ বা ৩ নম্বর হতে পারে, সেটা ইঞ্জিনিয়ার দেখবেন। কিন্তু কাজের স্বার্থে আমি তাকে বাধা দিয়েছি, কোনো মারধর করিনি।”
এ বিষয়ে এলজিইডি’র সদর উপজেলা প্রকৌশলী মো. সোয়াইব ইমরানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “এটি উপজেলা পরিষদের এডিপি ফান্ডের কাজ। স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা জানতে পেরেছি, সেখানে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে এবং ঢালাইয়ের আগে সঠিক স্পেসিফিকেশন মানা হয়ছে কিনা তা যাচাই ও খতিয়ে দেখা হবে।”
তিনি আরও বলেন, “রাস্তায় ১ নম্বর ইট দেওয়ার কথা। আমরা সাইট পরিদর্শন করে যদি দেখি নিম্নমানের ইট ব্যবহার করা হয়েছে, তবে অবশ্যই ঠিকাদারকে সেই ইট পরিবর্তন করে নতুন ইট দিতে বাধ্য করব।”
পড়ুন:দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে ২ জন নিহত
দেখুন:পিরোজপুরে নিজ ঘরে বৃদ্ধা সাথে যা ঘটলো
ইমি/


