২৬/০২/২০২৬, ১৭:২১ অপরাহ্ণ
31.3 C
Dhaka
২৬/০২/২০২৬, ১৭:২১ অপরাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

আন্তর্জাতিক বাজারে বেড়েছে স্বর্ণের দাম

আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারের দুর্বলতা ও ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তার প্রভাবে বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) স্বর্ণের দাম বেড়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক নীতি এবং ইরান–যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক আলোচনা ঘিরে উদ্বেগ নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের চাহিদা বাড়িয়েছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। খবর রয়টার্স

বাজার তথ্য অনুযায়ী, স্পট গোল্ডের দাম ০.৫ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৫ হাজার ১৯৫.৯৯ ডলারে দাঁড়ায়। এর আগে মঙ্গলবার স্বর্ণের দাম তিন সপ্তাহেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছিল। তবে এপ্রিল ডেলিভারির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণ ফিউচার্স ০.২ শতাংশ কমে ৫ হাজার ২১৩.৫০ ডলারে লেনদেন হয়েছে।

সিঙ্গাপুরভিত্তিক ব্যাংক ওসিবিসি’র কৌশলবিদ ক্রিস্টোফার ওং বলেন, শুল্কসংক্রান্ত নতুন অনিশ্চয়তা, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং দুর্বল ডলারের প্রভাবে স্বর্ণের দামে এই ঊর্ধ্বগতি দেখা যাচ্ছে। তার মতে, বাজার এখন বিভিন্ন অনিশ্চয়তা—ডলারের ওঠানামা, শুল্ক সিদ্ধান্ত এবং মার্কিন মুদ্রানীতির ভবিষ্যৎ—হজম করার পর্যায়ে রয়েছে। ফলে স্বল্পমেয়াদে দামে ওঠানামা অব্যাহত থাকতে পারে।

প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান নাবিদার প্রত্যাশার চেয়ে ভালো আয় বিনিয়োগকারীদের আস্থায় ইতিবাচক প্রভাব ফেললেও, নতুন মার্কিন শুল্কের বিস্তারিত ঘোষণা নিয়ে বাজারে সতর্কতা বজায় রয়েছে। মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার জানিয়েছেন, নতুন করে আরোপিত ১০ শতাংশের পরিবর্তে কিছু দেশের ক্ষেত্রে শুল্কহার ১৫ শতাংশ বা তার বেশি হতে পারে।

ডলার দুর্বল হলে অন্যান্য মুদ্রার বিনিয়োগকারীদের জন্য ডলারভিত্তিক স্বর্ণ তুলনামূলক সস্তা হয়ে পড়ে, যা চাহিদা বাড়াতে সহায়ক হয়।

এদিকে ফেডারেল রিজার্ভের সুদহার নীতি নিয়েও বাজারে জল্পনা রয়েছে। সিএমই গ্রুপের ফেডওয়াচ টুলের তথ্যমতে, চলতি বছরে ২৫ বেসিস পয়েন্ট করে তিন দফা সুদহার কমতে পারে বলে বিনিয়োগকারীরা ধারণা করছেন। এ প্রেক্ষাপটে সাপ্তাহিক বেকারত্ব দাবির তথ্য বাজারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

অন্যদিকে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র জেনেভায় নতুন দফার আলোচনায় বসছে। দীর্ঘদিনের পারমাণবিক বিরোধ নিষ্পত্তি এবং সম্ভাব্য সামরিক উত্তেজনা এড়াতে এই বৈঠক গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে।

বাজার বিশ্লেষণে ডয়েচে ব্যাংক জানিয়েছে, স্বর্ণের তুলনায় সাদা ধাতুর পারফরম্যান্স আবারও শক্তিশালী হচ্ছে। ব্যাংকটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, স্বর্ণ-রুপার অনুপাত ৬০ হলে বছরের শেষে রুপার দাম প্রতি আউন্স ১০০ ডলারে পৌঁছাতে পারে।

সব মিলিয়ে শুল্ক নীতি, ডলারের গতিপ্রকৃতি এবং ইরান–যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার অগ্রগতি—এই তিনটি বিষয়ই আপাতত বৈশ্বিক স্বর্ণবাজারের প্রধান নিয়ামক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম পড়বে ২ লাখ ৬১ হাজার ৪০ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৪৯ হাজার ১৪৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৩ হাজার ৫৬৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭৪ হাজার ৭৮৫ টাকা।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : বাংলাদেশিদের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করলো শিলিগুড়ির হোটেল মালিকরা

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন