নরসিংদী সদর উপজেলার মাধবদী থানার বিলপাড় এলাকায় ১৫ বছর বয়সী কিশোরী আমেনাকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় জড়িত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বাকি আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন নরসিংদী-১ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য খায়রুল কবির খোকন।
শুক্রবার সকালে তিনি নিহত আমেনাদের ভাড়া বাসায় গিয়ে পরিবারের খোঁজখবর নেন এবং ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় খায়রুল কবির খোকন বলেন, আমেনার পরিবার যেন ন্যায়বিচার পায়, তা নিশ্চিত করতে তিনি সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন এবং কোনো অপরাধীকেই ছাড় দেওয়া হবে না। তিনি আরও বলেন, আমেনা হত্যায় জড়িতদের পক্ষে যেন কোনো আইনজীবী না দাঁড়ান-এ বিষয়ে নরসিংদী আইনজীবী সমিতির সভাপতির সম্মতিক্রমে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে ঘটনাস্থল ও মাধবদী থানা পরিদর্শন করেন ঢাকা জোনের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক এবং নরসিংদীর পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ আল ফারুক। তাঁরা নিহতের পরিবারকে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন।
ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক বলেন, মো. এবাদুল্লাহ (৪০), মো. আইয়ুব আলী (৩০), সাবেক ইউপি সদস্য আহাম্মদ আলী দেওয়ান (৬৫), তাঁর ছেলে মো. ইমরান দেওয়ান (৩২) এবং গাফফার (৩৪) এই পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর মধ্যে গাফফার ও এবাদুল্লাহ সরাসরি ধর্ষণের সঙ্গে জড়িত বলে এজাহারে উল্লেখ রয়েছে। মূল অভিযুক্ত নূর মোহাম্মদ ওরফে নূরাসহ অন্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
স্থানীয় লোকজন ও পরিবারের অভিযোগ, প্রায় দুই সপ্তাহ আগে স্থানীয় যুবক নূর মোহাম্মদ ওরফে নূরার নেতৃত্বে ছয়জন আমেনাকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করেন। এ ঘটনায় স্থানীয় ইউপি সদস্যসহ কয়েকজন বিচার করার দায়িত্ব নেন। তবে অভিযোগ রয়েছে, চার ধর্ষকের কাছ থেকে আট হাজার টাকা নিয়ে ভূক্তভোগি পরিবার দেয় বিএনপি নেতা আহম্মদ আলী, এই প্রহসন দেখিয়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে আপস করে মোটা অঙ্কের অর্থ আত্মসাৎ করা হয় এবং ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার পরিকল্পনা করেন। পাশাপাশি ভুক্তভোগীর পরিবারকে গ্রাম ছাড়তে চাপ দেওয়া হয়।
অভিযোগ রয়েছে, ঘটনার বিচার না হওয়ায় অভিযুক্তরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। গত বুধবার তাঁরা আমেনাকে তাঁর বাবার সামনে থেকে তুলে নিয়ে যান। পরদিন সকালে কোতোয়ালীরচর দড়িকান্দী এলাকায় শরিষা ক্ষেত থেকে পুলিশ কিশোরী আমেনার মরদেহ উদ্ধার করে নরসিংদী সদর হাসপাতালে মর্গে পাঠায়। পরে আজ শুক্রবার দুপুরে ময়না তদন্ত শেষে পরিবারের নিকট মরদেহ বুঝিয়ে দেয় পুলিশ। তারা পারিবাবির লাশ দাফন করেন।
ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতে নিহত আমেনার মা বাদি হয়ে ৯জনের বিরোদ্ধে মাধবদী থানায় মামলা জুরু করেন, এতে কোতোয়ালীরচর মাদুর বাড়ী এলাকার শাহজাহানের ছেলে নূর মোহাম্মদ ওরফে নূরা (২৮)কে প্রধান আসামী করা হয়। অন্যান আসামীরা হলো মাধবদী পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ড কোতোয়ালীরচর সাদু খলিফার বাড়ির মৃত শাহাবুদ্দিনের ছেলে জামায়াদের কর্মী মো. এবাদুল্লাহ (৪০), কোতোয়ালীরচর মাদুর বাড়ীর হান্নান মুন্সির ছেলে হযরত আলী (৪০), কোতোয়ালীরচর এলাকার অজ্ঞাত পিতার ছেলে গাফফার (৩৭), কোতোয়ালীরচর বাঘের বাড়ী মহল্লার নাজির দেওয়ানের ছেলে মহিষাশুড়া ইউনিয়র বিএনপির সহ-সভাপতি আহাম্মদ আলী মেম্বার ওরফে আহাম্মদ আলী দেওয়ান (৬৫), তাঁর ছেলে মো. ইমরান দেওয়ান (৩২), কোতোয়ালীরচর দেওয়ান বাড়ীর মৃত শাহজাহানের ছেলে যুবদলের কর্মী ইছাহাক ওরফে ইছা (৪০), কোতোয়ালীরচর মাদুর বাড়ী এলাকার দেওয়ান আলীর ছেলে আবু তাহের (৫০) এবং কোতোয়ালীরচর বিলপাড় মহল্লার মো. আজগর আলীর ছেলে মো. আইয়ুব আলী (৩০)।
এদিকে আমেনা হত্যার সঙ্গে জড়িতদের ফাঁসি এবং বাকি আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে শুক্রবার বাদ জুমা মাধবদী বাজার বড় মসজিদ থেকে মুসল্লিরা বিক্ষোভ মিছিল করেন। মিছিলটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়। নরসিংদী শহরেও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেন।
এ ছাড়া আমেনা হত্যার বিচারের দাবিতে খায়রুল কবির খোকনের ভূমিকার প্রশংসা করে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ইব্রাহীম ভূইয়া বলেন, এই হত্যার ঘটনা সারা দেশে আলোড়ন তুলেছে। তিনি বলেন, এমন নৃশংসতা আর দেখতে চান না তাঁরা। তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান, ঘটনাটি যেন অন্য কোনো ঘটনার আড়ালে চাপা না পড়ে।


