নোয়াখালীর সোনাইমুড়ী উপজেলার ঐতিহাসিক বজরা শাহী মসজিদে দানবাক্স খোলার সময় ভিডিও ধারণ করতে গেলে সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে মসজিদ কমিটির সদস্যদের বিরুদ্ধে।
শুক্রবার জুমার নামাজের পর দানবাক্স খোলার সময় কয়েকজন সাংবাদিক ফুটেজ ধারণের চেষ্টা করেন। এ সময় মসজিদ কমিটির কয়েকজন সদস্য তাদের বাধা দেন এবং একপর্যায়ে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও হামলা করেন।
হামলার শিকার হন গ্লোবাল টেলিভিশনের ক্যামেরাম্যান মাহফুজুর রহমান। লাঞ্ছনার শিকার হন একই প্রতিষ্ঠানের স্টাফ রিপোর্টার আবু রায়হান সরকার, চ্যানেল ২৪ নোয়াখালী জেলা প্রতিনিধি হাসিব আল আমিন, কালবেলা প্রতিনিধি শাহরিয়ার অরুপ এবং নোয়াখালী টিভি প্রতিনিধি মোহাম্মদ ফারুক।
হামলার বিষয়ে মাহফুজুর রহমান বলেন, আমরা কেবল দানবাক্স খোলার প্রক্রিয়াটি ধারণ করতে চেয়েছিলাম, যাতে জনগণের সামনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত হয়। হঠাৎ করেই কয়েকজন আমাদের ওপর চড়াও হয়ে মারধর শুরু করেন। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শাস্তির দাবি জানান তারা।
ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। স্থানীয়দের দাবি, ঐতিহাসিক এই মসজিদের দানবাক্সের অর্থ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি। তাদের ভাষ্য, মসজিদের টাকা আল্লাহর আমানত। এখানে স্বচ্ছতা না থাকলে মানুষের মনে সন্দেহ তৈরি হবে। সাংবাদিকদের মারধর করা কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। এ ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এদিকে, সাংবাদিকদের পেশাগত কাজে বাধা, মারধর ও লাঞ্চনার প্রতিবাদ জানিয়ে ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে বিচার দাবি করেছে নোয়াখালী টিভি জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন। শুক্রবার রাত ৮টার দিকে সংগঠনের যুগ্ম আহবায়ক ও দপ্তর সম্পাদক (অতিঃ দাঃ) মোহাম্মদ সোহেল স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই প্রতিবাদ ও বিচার দাবি করা হয়।
ঘটনা সম্পর্কে জানতে চাইলে সোনাইমুড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাছরিন আক্তার বলেন, অনুমতি ছাড়া সংবেদনশীল বিষয়ে ফুটেজ নেওয়া ঠিক নয়। তবে সাংবাদিকদের মারধরের অভিযোগের বিষয়ে তিনি খতিয়ে দেখবেন বলে জানান।
পড়ুন : ৫২, ৭১, ৯০ আর ২৪ কে ধারন করে এগিয়ে যেতে হবে : মির্জা ফখরুল


