শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জে দেশীয় প্রজাতির মাছ ও শামুক রক্ষায় নিবন্ধিত প্রান্তিক জেলেদের বিকল্প কর্মসংস্থানের আওতায় বকনা বাছুর বিতরণ করা হয়েছে। দেশীয় প্রজাতির মাছ এবং শামুক সংরক্ষণ ও উন্নয়ন প্রকল্প এর অর্থায়নে এবং উপজেলা মৎস্য দপ্তরের ব্যবস্থাপনায় রবিবার (১ মার্চ) সকালে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে সামনে থেকে অনুষ্ঠানিক ভাবে ৬০ জন জেলের হাতে একটি করে স্বাস্থ্যবান বকনা বাছুর তুলে দেন অতিথিবৃন্দ।
এরপূর্বে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা নির্বাহী অফিসার হাফিজুল হক এর সভাপতিত্বে বিতরন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন শরীয়তপুর -২ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব সফিকুর রহমান কিরণ। স্বগত বক্তব্য রাখেন উপজেলা মৎস্য অফিসার মোঃ আব্দুল্লাহ আল ইমরান। বিশেষ অতিথি ছিলেন সহকারি কমিশনার ভুমি কেএম রাফসান রাব্বি, উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ তাহমিনা আক্তার।
প্রধান অতিথি সংসদ সদস্য সফিকুর রহমান কিরণ বলেন,সরকার জাটকাসহ দেশী মাছ রক্ষায় জেলেদের জন্য প্রয়োজনীয় সম্ভব সব কিছু করছে।জেলেদের ও করনীয় আছে। তারা জাটকা রক্ষা করে দেশের সমৃদ্ধিতে ভুমিকা রাখবে বলে বিশ্বাস করি। নিশিধ্য সময়ে সরকারে সহায়তা নিয়ে নদীতে মাছ ধরলে আইনের মুখমুখি হতে হবে। জেল জরিমান পরেও আল্লাহর কাছে কি জবাব দিবেন? তাই সকারের আইনমানা আমাদের জন্য ফরজ মেলে কাজ করবেন।
উপজেলা মৎস্য অফিসার আব্দুল্লাহ আল ইমরান জানান, জেলেরা যেন শুধুমাত্র মাছ ধরার ওপর নির্ভরশীল না থাকেন, সেজন্যই এই উদ্যোগ। বিশেষ করে মাছের প্রজনন মৌসুমে যখন নদীতে মাছ ধরা নিষিদ্ধ থাকে, তখন অভাবের তাড়নায় জেলেরা যেন মাছ বা শামুক নিধন না করেন, তা নিশ্চিত করতে এই বিকল্প আয়ের সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। বাছুরগুলো লালন পালনের মাধ্যমে জেলেরা দুগ্ধ উৎপাদন ও বিক্রয় করে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারবেন।
উপকারভোগী জেলেরা সরকারের এই সহায়তা পেয়ে আনন্দ প্রকাশ করেছেন। তারা জানান, মাছ ধরার পাশাপাশি গবাদি পশু পালন তাদের সংসারে বাড়তি আয়ের যোগান দেবে। এতে করে নিষিদ্ধ সময়ে মাছ ধরা থেকে বিরত থাকা তাদের জন্য সহজ হবে এবং জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে।


