নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলায় দাম্পত্য কলহের জেরে লাকি আক্তার (৩০) নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত গৃহবধূ উপজেলার আশুজিয়া ইউনিয়নের হাসুয়ারী এলাকার দ্বীন ইসলামের ছেলে মো. মোজাম্মেল হক ওরফে আরব আলীর স্ত্রী।
রবিবার (১ মার্চ) বিকেলে কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী মাকসুদ এতথ্য নিশ্চিত করেছেন। এরআগে গতকাল শনিবার রাতে উপজেলার আশুজিয়া ইউনিয়নের হাসুয়ারী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শনিবার সন্ধ্যায় মোজাম্মেল হক বাজার থেকে বাড়ি ফিরে স্ত্রীকে ঘরে দেখতে না পেয়ে ডাকাডাকি শুরু করেন। দীর্ঘক্ষণেও কোনো সাড়া না পেয়ে তিনি রান্নাঘরের দিকে যান এবং বাইরে থেকে দরজার খিল খুলে ভেতরে প্রবেশ করেন। এ সময় তিনি দেখতে পান, তাঁর স্ত্রী লাকি আক্তার রান্নাঘরের ধন্নার (আড়ার) সঙ্গে প্লাস্টিকের রশি দিয়ে গলায় ফাঁস নিয়ে ঝুলে আছেন।
স্বামীর চিৎকার শুনে পরিবারের অন্যান্য সদস্য ও প্রতিবেশীরা দ্রুত ছুটে আসেন। গৃহবধূকে জীবিত ভেবে তাঁকে তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার করে উপজেলার আদমপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরবর্তীতে মরদেহটি বাড়িতে ফিরিয়ে আনা হলে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
খবর পেয়ে রাত আনুমানিক ২টার দিকে কেন্দুয়া থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে এবং মরদেহটি উদ্ধার করে।
এ বিষয়ে ওসি বলেন, সাত-আট বছর আগে ওই দম্পতির বিয়ে হয়েছিল, তবে তাঁরা নিঃসন্তান ছিলেন। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরে দাম্পত্য কলহ চলছিল বলে জানা গেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এ কলহের জেরেই তিনি আত্মহত্যা করেছেন। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে এরই মধ্যে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা দায়ের করা হয়েছে জানান তিনি।
নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত থানায় কোনো অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে জানান ওসি।
পড়ুন : সোনারগাঁয়ে ৬ বছর বয়সী শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টা, জনতার হাতে আটক!


