০২/০৩/২০২৬, ১৩:৪৭ অপরাহ্ণ
31 C
Dhaka
০২/০৩/২০২৬, ১৩:৪৭ অপরাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

চট্টগ্রামে ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রমে ‘জিরো এরর’ ঘোষণা ডিসি জাহিদের

চট্টগ্রাম জেলায় সরকারের অগ্রাধিকারভিত্তিক প্রকল্প ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রমে নির্ভুলতা নিশ্চিত করতে ‘জিরো এরর’ কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। পরীক্ষামূলকভাবে চট্টগ্রাম মহানগরের ৪১ নম্বর ওয়ার্ডে ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ শুরু হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

রোববার (১ মার্চ) সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে জেলা প্রশাসক সংশ্লিষ্টদের কঠোর নির্দেশনা দেন—তথ্য সংগ্রহে কোনো ধরনের গাফিলতি বরদাশত করা হবে না।

পরিদর্শনকালে তিনি কয়েকটি বাসায় গিয়ে তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন এবং সেবাগ্রহীতাদের সঙ্গে কথা বলেন। পতেঙ্গার বাটারফ্লাই এলাকায় অবসরপ্রাপ্ত নাবিক নুর বক্সের বাসায় গিয়ে তথ্যফরম পূরণের অগ্রগতি দেখেন। এ সময় নুর বক্স বলেন, “কখনো ভাবিনি ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য যাচাই করতে ডিসি স্যার আমার বাসায় আসবেন। তাঁর আচরণে আমরা মুগ্ধ।”

রমজান মাসের কারণে আপ্যায়ন করতে না পারার কথা জানালে জেলা প্রশাসক তাদের আশ্বস্ত করে বলেন, রাষ্ট্রীয় সেবা নিশ্চিত করাই তাঁর প্রধান দায়িত্ব।

জেলা প্রশাসক বলেন, “প্রত্যেক পরিবারের আর্থসামাজিক অবস্থা সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ চিত্র রাষ্ট্রের সামনে তুলে ধরাই আমাদের লক্ষ্য। সেই উদ্দেশ্যেই ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে। প্রাথমিকভাবে আর্থিকভাবে দুর্বল পরিবারগুলো অগ্রাধিকার পাবে; পরে ধাপে ধাপে সবাই এ কার্যক্রমের আওতায় আসবে।”

তিনি তথ্য সংগ্রহকারীদের উদ্দেশে বলেন, সঠিক তথ্য ছাড়া সঠিক সিদ্ধান্ত সম্ভব নয়। কোনো পরিবার যেন ভুল তথ্যের কারণে সেবা থেকে বঞ্চিত না হয়, সে বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে নিশ্চিত করতে হবে।

এক পর্যায়ে রোকেয়া বেগম নামের এক নারী তথ্য প্রদান করছিলেন। তাঁকে প্রকল্পের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করে জেলা প্রশাসক বলেন, “আপনি যদি আর্থিকভাবে অসচ্ছল হন, রাষ্ট্র আপনাকে সহায়তা করবে। তবে অবশ্যই সঠিক তথ্য দিতে হবে। কোনো ভুল বা অতিরিক্ত তথ্য দেওয়া যাবে না।”

তিনি আরও বলেন, “বর্তমান যুগে ভুল তথ্য দিয়ে পার পাওয়া সম্ভব নয়। আমরা ‘জিরো এরর’ চাই। কোনো ধরনের বানানো বা অনুমানভিত্তিক তথ্য গ্রহণযোগ্য হবে না।”

৯০০ কর্মীর মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম

জেলা প্রশাসন ও জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উদ্যোগে পরিচালিত এ পরীক্ষামূলক কার্যক্রমে প্রায় ৯০০ কর্মী বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করছেন। জেলা প্রশাসক বলেন, “দেশের স্বার্থে কিছু কষ্ট স্বীকার করতেই হবে। আমরা সরকারকে আশ্বস্ত করেছি—এই কার্যক্রমে কোনো ভুল থাকবে না।”

পরিদর্শনকালে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক গোলাম মাঈনউদ্দীন হাসান, সিভিল সার্জন জাহাঙ্গীর আলম, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন-এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা প্রণয় চাকমা এবং জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক ফরিদুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

জেলা প্রশাসক বলেন, “ঐতিহাসিক নির্বাচন সফলভাবে সম্পন্ন করার মতোই এই প্রকল্পও সরকারের একটি অগ্রাধিকারমূলক উদ্যোগ। দেশের প্রতিটি পরিবারকে একটি সঠিক ও পূর্ণাঙ্গ ডাটাবেজের আওতায় আনাই আমাদের লক্ষ্য। ‘পারব না’ নয়—আমাদের বলতে হবে, ‘আমাদের পারতেই হবে।’”

পড়ুন: ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট আহমাদিনেজাদ বেঁচে আছেন: উপদেষ্টা

আর/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন