25.3 C
Dhaka
০৫/০৩/২০২৬, ২২:০৫ অপরাহ্ণ
বিজ্ঞাপন

হরমুজ প্রণালী অচল হলে থমকে যাবে বিশ্ব

হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমে বৈশ্বিক তেলের প্রায় ২০ শতাংশ সরবরাহ হয়। দৈনিক প্রায় ৩১ মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল এই সংকীর্ণ নৌপথ ব্যবহার করে বিশ্ববাজারে পৌঁছায়। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আশঙ্কা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে, পারস্য উপসাগরকে ওমান উপসাগর ও আরব সাগরের সঙ্গে যুক্ত করা এই পথটি এখন বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য সবচেয়ে বড় ঝুঁকির কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে আগামী ২০ দিনের মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যের বৃহৎ তেল খনিতে উৎপাদন থেমে যেতে পারে।

বিজ্ঞাপন

এখনই সরবরাহ সংকটের প্রভাব বৈশ্বিক অর্থনীতিতে দৃশ্যমান। জ্বালানি ঘাটতির কারণে মুদ্রাস্ফীতি ৪ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেতে পারে। এলএনজির দাম বাড়তে পারে ৮৫ শতাংশ পর্যন্ত। অপরিশোধিত জ্বালানির বাজারও দামের বাঁধ মেনে চলছে না।

জাপান: দেশের আমদানি করা তেলের প্রায় ৮৫ শতাংশ আসে হরমুজ প্রণালী হয়ে। টোকিওর আনুমানিক আর্থিক ক্ষতি ইতিমধ্যেই আড়াইশ বিলিয়ন ডলারের বেশি। জ্বালানি সংকটের কারণে জাপানের প্রায় ৩.৫ শতাংশ জিডিপি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রভাব পড়ছে দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান ও সিঙ্গাপুরের মতো গুরুত্বপূর্ণ এশিয়ান অর্থনীতিতে।

চীন: দেশটির মোট জ্বালানি তেলের প্রায় ৪০ শতাংশ আসে এই পথ দিয়ে। হরমুজে সরবরাহ বন্ধ থাকলে চীনের পেট্রোকেমিক্যাল ও বিদ্যুৎ খাতে উৎপাদন প্রায় ৪০ শতাংশ কমে যেতে পারে। সংকট তিন মাস স্থায়ী হলে জিডিপি বৃদ্ধি ৫ শতাংশ থেকে নেমে আসবে ৩.৫ শতাংশে। এক বছরের জন্য স্থায়ী হলে অর্থনৈতিক মন্দার শঙ্কা ৬৫ শতাংশে পৌঁছাতে পারে, যার ফলে প্রায় এক ট্রিলিয়ন ডলারের ক্ষতির মুখে পড়তে পারে চীন।

চীনের অর্থনীতিতে আঘাত মানে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে আঘাত। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য কমতে পারে ৪৫০ বিলিয়ন ডলার এবং ইউরোপের সঙ্গে ৩৫০ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত। বৈশ্বিক আমদানি-রপ্তানি সূচকও প্রায় ২৬ শতাংশ কমতে পারে, আর বাজার থেকে হারিয়ে যেতে পারে প্রায় ৬ ট্রিলিয়ন ডলার।

হরমুজ প্রণালীর এই ২০ শতাংশ তেল সরবরাহ এখন বৈশ্বিক অর্থনীতির সবচেয়ে বড় “গলার কাঁটা”। যুদ্ধ ও অস্থিরতা দীর্ঘায়িত হলে শুধু জ্বালানি বাজার নয়, পুরো বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থার ভারসাম্যই পাল্টে যেতে পারে।

পড়ুন: ওমান উপসাগরে ইরানের সব যুদ্ধজাহাজ ধ্বংসের দাবি যুক্তরাষ্ট্রের

আর/

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন