সুনামগঞ্জের তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে ওঠা ঘুষ গ্রহণ, চোরাচালান সহায়তা, খনিজ বালি-পাথর লুট ও মামলার আসামির স্বজনের কাছ থেকে টেলিভিশন উপহার নেওয়ার অভিযোগের তদন্ত কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে।
তদন্ত শেষে পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করা ও নানা অনিয়ম-দুর্নীতিতে জড়িত থাকার অভিযোগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রতিবেদনটি সিলেট রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।
বুধবার (৪ মার্চ) পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স ও সিলেট রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
জানা যায়, তাহিরপুর থানায় যোগদানের পর ওসি আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ, সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান সহায়তা, অবৈধভাবে খনিজ বালি ও পাথর উত্তোলনে সহযোগিতা এবং একাধিক মামলার আসামির স্বজনের মাধ্যমে একটি রঙিন টেলিভিশন উপহার নেওয়ার অভিযোগ ওঠে।
এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের নির্দেশে সুনামগঞ্জ জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
কমিটিতে সুনামগঞ্জ জেলা পুলিশের একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, সহকারী পুলিশ সুপার (তাহিরপুর সার্কেল) এবং একজন পুলিশ পরিদর্শককে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
তদন্ত কমিটি গত ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে প্রকাশ্য ও গোপন অনুসন্ধান এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত শুরু করে। পরে গত ২ মার্চ তদন্ত প্রতিবেদন সিলেট রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে পাঠানো হয়।
তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, এক মামলার আসামির স্বজনের কাছ থেকে ভয়ভীতি দেখিয়ে একটি রঙিন টেলিভিশন উপহার নেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে এবং সেই টেলিভিশনটি ওসি আমিনুল নিজেই ব্যবহার করছেন।
এছাড়া থানার এসআই পঙ্কজ দাস, এসআই দীপক চন্দ্র দাস, বাদাঘাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এএসআই আব্দুল মালেক এবং ট্যাকেরঘাট অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই রিপন উদ্দিনসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে বিভিন্ন চোরাকারবারি ও অপরাধপ্রবণ সোর্সদের সঙ্গে সম্পর্ক রেখে অবৈধ কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ তদন্তে উঠে এসেছে।
তদন্তে আরও উল্লেখ করা হয়, সীমান্তবর্তী এলাকায় মাদক কারবারি ও চোরাকারবারিদের সহযোগিতায় ভারতীয় বিড়ি, কয়লা, চুনাপাথর, কসমেটিকস ও গবাদিপশুসহ বিভিন্ন পণ্যের চোরাচালান এবং জাদুকাটা ও অন্যান্য সীমান্ত নদীতে অবৈধ ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে বালু-পাথর উত্তোলনের সুযোগ দিয়ে মাসোহারা আদায়ের একটি সিন্ডিকেট গড়ে তোলার অভিযোগ রয়েছে।
এ ধরনের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হচ্ছে বলেও তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তদন্ত কমিটি তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে ওসি আমিনুলের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ সংক্রান্ত অডিও রেকর্ডও সংগ্রহ করেছে বলে জানা গেছে।
এদিকে অভিযোগ রয়েছে, এর আগে হবিগঞ্জ ডিবিতে কর্মরত অবস্থায় প্রতিপক্ষের কাছ থেকে অর্থ নিয়ে এক প্রবীণ ব্যক্তিকে ইয়াবা মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগও উঠেছিল ওসি আমিনুলের বিরুদ্ধে। পরে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ওই ব্যক্তি অব্যাহতি পান। এ ঘটনায় পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে অভিযোগ হলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলাও হয়েছিল।
তবে ওসি আমিনুল ইসলাম সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত নন।
এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ জেলা পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার (তাহিরপুর সার্কেল) প্রণয় রায় বলেন, তদন্ত কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার পর তদন্ত প্রতিবেদন সিলেট রেঞ্জ ডিআইজি মহোদয়ের কাছে পাঠানো হয়েছে।
পড়ুন:বিয়ের পর বড় ঘোষণা দিলেন রাশমিকা-বিজয়
দেখুন:ঝিনাইদহ-৪ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিলেন রাশেদ খান |
ইমি/


