তেহরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের টানা হামলায় বেশ কয়েক দিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যেজুড়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এতে স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় বিপর্যয় নেমে এসেছে।
ব্যবসা-বাণিজ্যে থেকে শুরু করে চলমান সংঘাতের প্রভাব পড়েছে ফুটবলেও। এমন পরিস্থিতিতে আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপের আন্তমহাদেশীয় প্লে–অফ ম্যাচ স্থগিত করার দাবি জানিয়েছেন ইরাকের কোচ গ্রাহাম আর্নল্ড।
চলতি মাসের ৩১ মার্চ মেক্সিকোর মনতেরেতে বিশ্বকাপের আন্তমহাদেশীয় প্লে-অফে বলিভিয়া বা সুরিনামের বিপক্ষে মাঠে নামার কথা রয়েছে ইরাকের। এই ম্যাচের বিজয়ী দল জায়গা করে নিবে বিশ্বকাপে।
তবে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ম্যাচটি আয়োজন নিয়ে উদ্বেগে রয়েছে ইরাক। দেশটির ফুটবল কর্তৃপক্ষের আশঙ্কা, চলমান সংঘাতের কারণে খেলোয়াড় ও কোচিং স্টাফদের মেক্সিকোয় নিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়তে পারে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের প্রথম দফার হামলার পর থেকেই ইরাকের আকাশসীমা বন্ধ রয়েছে। এর জবাবে ইরান ইসরায়েলসহ আশপাশের কয়েকটি দেশে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। এর ফলে পুরো অঞ্চলে বিমান চলাচল সীমিত হয়ে এসেছে।
ইরাকের কোচ আর্নল্ড বলেছেন, দেশের বাইরে খেলা খেলোয়াড়দের নিয়ে দল গঠন করতে হলে ইরাকের শক্তি কমে যাবে। অস্ট্রেলিয়ার সাবেক এই কোচ বলেন, ‘সেটি আমাদের সেরা দল হবে না। অথচ দেশের সবচেয়ে বড় ম্যাচের জন্য আমাদের সেরা দলটিই দরকার।’
আর্নল্ড বলেন, ‘ইরাকের মানুষ ফুটবল নিয়ে ভীষণ আবেগী। প্রায় ৪০ বছর বিশ্বকাপে না খেলতে পারাই সম্ভবত আমাকে এই দায়িত্ব নেওয়ার সবচেয়ে বড় কারণ।’
১৯৮৬ সালের পর আর কখনও বিশ্বকাপে খেলতে পারেনি ইরাক। তাই প্লে-অফ ম্যাচটিকে দেশটির ফুটবলের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলোর একটি হিসেবে দেখছেন আর্নল্ড। তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তে বিমানবন্দর বন্ধ থাকায় আমরা বিকল্প কোনো উপায় খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি।’
গত নভেম্বরে এশিয়া অঞ্চলের বাছাইপর্বের পঞ্চম রাউন্ডে সংযুক্ত আরব আমিরাতকে দুই লেগ মিলিয়ে ৩–২ গোলে হারিয়ে আন্তমহাদেশীয় প্লে–অফে জায়গা করে নেয় ইরাক।
উল্লেখ্য, ২৬ মার্চ প্লে-অফের সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে বলিভিয়া ও সুরিনাম। সেই ম্যাচের বিজয়ী দলই ৩১ মার্চ ইরাকের প্রতিপক্ষ হবে। আর্নল্ডের মতে, ম্যাচটি পিছিয়ে দেওয়া হলে ইরাক দল প্রস্তুতির জন্য আরও সময় পাবে। বললেন, ‘ফিফা যদি ম্যাচটি পিছিয়ে দেয়, তাহলে আমরা ঠিকভাবে প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ পাব।’
ইরাক ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি আদনান দিরজাল এ নিয়ে নিরন্তর কাজ করছেন বলেও জানান আর্নল্ড। তার আশা, দ্রুত সিদ্ধান্ত হলে ইরাকের মানুষের দীর্ঘদিনের বিশ্বকাপ স্বপ্ন পূরণের পথ খুলে যেতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় ১১ জুন শুরু হবে বিশ্বকাপ।
পড়ুন- কাতার, বাহরাইন, সৌদি ও আমিরাতে মুহুর্মুহু হামলা ইরানের


