বিজ্ঞাপন

নোয়াখালীতে ইউপি প্রশাসনিক কর্মকর্তার অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে ক্ষুদ্ধ এলাকাবাসী

নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলার নরোত্তমপুর ইউনিয়ন পরিষদ প্রশাসনিক কর্মকতা মো. মেশকাতুর রহমানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠেছে।

বিজ্ঞাপন

সোমবার দুপুরে স্থানীয় এলাকাবাসী নরোত্তমপুর ইউনিয়ন পরিষদের সামনে মেশকাতুর রহমানের দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান। পরে ক্ষুদ্ধ এলাকাবাসী ওই ইউনিয়ন প্রশাসনিক কর্মকর্তার কার্যালয়ে অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন দুর্নীতি ও অনিয়মের প্রশ্নের মুখোমুখি করেন তাকে।

কবিরহাট উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক আহবায়ক মহসিন রিয়াজ’সহ ক্ষুদ্ধ এলাকাবাসী অভিযোগ করে বলেন, জুলাই গনঅভ্যুত্থানের পর থেকে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান একেএম সিরাজ উল্লাহ কয়েকটি মামলায় আসামী হয়ে পলাতক অবস্থায় রয়েছেন, আসতে পারেন না ইউনিয়ন পরিষদে। আর এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ইউনিয়ন পরিষদ প্রশাসনিক কর্মকতা মো. মেশকাতুর রহমান বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পে নয়ছয় করে বিপুল টাকা আত্মসাৎ করেছেন। এছাড়াও তিনি জন্মনিবন্ধন ও পারিবারিক সনদ’সহ বিভিন্ন নাগরিক সেবা প্রদানে সরকারি ফি’র বাহিরে অতিরিক্ত টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন নিচ্ছেন।

তাঁরা আরো বলেন, জুলাই গনঅভ্যুত্থানের পর কোন জবাবদিহিতা না থাকায় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যলয় থেকে বরাদ্দকৃত ২ লাখ ৭০ হাজার টাকার প্রকল্পে মেশকাতুর রহমান তার কার্যালয়ের সামনে নামে মাত্র সিসি ঢালাইয়ের কাজ দেখান। যা খুবই নিন্মমানের, মাত্র এক বছরের মাথায় ওই সিসি ঢালাই নষ্ট হয়ে ওঠে গেছে। এছাড়া উপজেলাও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে নরোত্তমপুর ইউনিয়নে ২০২৪-২৫, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বরাদ্ধকৃত প্রকল্পে নামে মাত্র কাজ দেখিয়ে বরাদ্দের বৃহৎ অংশ হরিলুট করে নেয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ- এই ইউনিয়ন পরিষদে সরকারি বরাদ্দ যত প্রকল্প অনুমোদন হয়েছে, তার কোনটির টেকসই উন্নয়ন হয়নি। সরকারি উন্নয়নের নামে করা হয়েছে লুটপাট। নরোত্তমপুর ইউনিয়ন পরিষদ প্রশাসনিক কর্মকতা মো. মেশকাতুর রহমানের এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির সঠিক তদন্তপূর্বক তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের দাবি জানান তারা।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে নরোত্তমপুর ইউনিয়ন পরিষদ প্রশাসনিক কর্মকতা মো. মেশকাতুর রহমান তাঁর বিরুদ্ধে আনিত অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, এটা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন অভিযোগ। স্থানীয় কিছু নেতৃবৃন্দ ঈদুল ভিতর ও ঈদুল আযহার সময় বিতরণকৃত বিজিএফ কার্ডের সুবিধা না পেয়ে এসব অভিযোগ তুলছেন। আমি সরকারি বিধি মেনে সর্বোচ্চ সেবা আমি দিয়ে যাচ্ছি।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) রেজাউল করিম বলেন- এইগুলো তো গত অর্থবছরের কাজ, এই মুহুর্ত্বে এসব প্রকল্পের বিষয়ে কিছু বলা যাচ্ছে না। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। সেই ক্ষেত্রে অনিয়ম পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পড়ুন- নৌ-পুলিশের প্রধানসহ ৫ অতিরিক্ত আইজিপি বাধ্যতামূলক অবসরে

দেখুন- শিক্ষায় এগিয়ে নারী, কিন্তু কর্মক্ষেত্রে কেন পিছিয়ে? |

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন