বছরে একবার আসে পবিত্র রমজান মাস। এ মাসে ধর্মপ্রাণ মুসলিমরা সাহরিতে খাবার গ্রহণ করেন এবং সন্ধ্যায় মাগরিবে ইফতারের মাধ্যমে রোজা পালন করেন। পাশাপাশি পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়সহ অন্যান্য ইসলামিক নিয়ম ও সুন্নাহ পালন করেন মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায়। আর এ মাসে সাহরি ও ইফতার নিয়ে অনেকটা আনন্দের আমেজ সৃষ্টি হয়।
রমজান মাসে শুধু প্রাপ্ত বয়স্ক নারী-পুরুষরা রোজা রাখেন না। অনেক সময় বাড়ির ছোট ছোট কোমলমতি শিশুদের মধ্যেও রোজা রাখার প্রবণতা দেখা যায়। এ ক্ষেত্রে অভিভাবকদের সচেতন থাকা জরুরি। তাদের খাদ্যতালিকা ও শরীরের প্রতি বিশেষ খেয়াল রাখার দায়িত্ব অভিভাবকদেরই।
ইসলাম অনুযায়ী বালেগ হওয়ার আগে রোজা ফরজ নয়। মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘অপ্রাপ্তবয়স্ক শিশু বালেগ হওয়া পর্যন্ত তার ওপর দায়িত্ব লেখা হয় না।’ (আবু দাউদ, তিরমিজি)। তবে শারীরিকভাবে সক্ষম হলে ধীরে ধীরে রোজার অভ্যাস করানো যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে শিশু-কিশোরদের সাহরি ও ইফতার কেমন হওয়া উচিত, সেই সম্পর্কে চ্যানেল 24 অনলাইনের সঙ্গে কথা বলেছেন রাজধানীর লালবাগের উদয় ডক্টর কনসালটেন্সি অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের শিশুস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ এবং ডিএনসিসি ডেডিকেটেড কোভিড–১৯ হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. আইভি আক্তার।
➤ বালেগ হওয়ার লক্ষণ:
ছেলেদের ক্ষেত্রে স্বপ্নদোষ বা বীর্যপাত শুরু হওয়া এবং মেয়েদের ক্ষেত্রে ঋতুস্রাব শুরু হওয়া। তবে এসব না হলেও সাধারণত ১৫ বছর বয়স থেকে বালেগ ধরা হয়। আর বালেগ হওয়ার পরই রোজা ফরজ হয়।
➤ পুষ্টির সঠিক ভারসাম্য:
সাহরি ও ইফতার মিলিয়ে খাদ্যের অনুপাত হওয়া উচিত— কার্বোহাইড্রেট ৫০ থেকে ৫৫ শতাংশ, প্রোটিন ১৫ থেকে ২০ শতাংশ ও ফ্যাট ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ।
➤ ভালো খাবারের উদাহরণ:
কমপ্লেক্স কার্বোহাইড্রেট: মস্তিষ্কে দ্রুত শক্তি যোগায় এবং দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখে এমন সব খাবার খেতে হবে। যেমন- লাল চাল, আটার রুটি, ওটস, ডাল, ছোলা ও শাকসবজি।
প্রোটিন: পেশি বৃদ্ধি ও শক্তির অনন্য উৎস হচ্ছে প্রোটিন। এ জন্য ডিম, মাছ, মুরগি, দুধ, ডাল, বাদামজাতীয় খাবার খেতে হবে।
স্বাস্থ্যকর ফ্যাট: হজমে সময় লাগে, বেশিক্ষণ পেট ভরা রাখে স্বাস্থ্যকর ফ্যাট। যেমন- বাদাম, তিল, অলিভ অয়েল, সরিষার তেল ও সামান্য ঘি।
➤ সাহরি ও ইফতার:
সাহরি: লাল চালের ভাত বা রুটি, সঙ্গে সামান্য ঘি, ডিম, ডাল বা মাছ-মাংস, চিয়া সিডসহ দুধ বা দই (চিয়া সিড শরীরে পানি ধরে রাখে), সামান্য কিছু বাদাম, একটি কলা, একটি বা দুটি খেজুর ও পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে। কলা ও খেজুরে পটাশিয়াম থাকে, যা খাওয়া হলে পানির তৃষ্ণা কম এসে থাকে।
ইফতার: খেজুর ও পানি, ফল, স্যুপ, ছোলা, হালকা ভাত, পোলাও বা রুটি এবং এর সঙ্গে মাছ বা মুরগি রাখুন ইফতারে। ভাজাপোড়া কম খাওয়া ভালো। যদি বাচ্চারা খুব করে খেতে চায়, তখন সামান্য একটু তেল দিয়ে বাসায় বানানো এক-দুটি পেঁয়াজু বা আলুর চপ ভেজে দিতে পারেন। এ ক্ষেত্রে সম্ভব হল অলিভ ওয়েল ব্যবহারের চেষ্টা করবেন।
➤ সতর্কতা:
সবশেষ ডা. আইভি আক্তার সতর্কতা হিসেবে বলেন, অতিরিক্ত দুর্বলতা, মাথা ঘোরা বা বমি হলে রোজা ভাঙা বৈধ। ডায়াবেটিস, অ্যাজমা বা অপুষ্টি থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। রোজা শুধু পানাহার থেকে বিরত নয়—এটি ধৈর্য, সংযম ও তাকওয়ার শিক্ষা। শিশুদের ক্ষেত্রে ধর্মীয় শিক্ষা ও সঠিক পুষ্টির সমন্বয়ই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
পড়ুন:রাজধানীর ফিলিং স্টেশনগুলোতে আজও জ্বালানি তেলের জন্য দীর্ঘ লাইন
দেখুন:আর্থিক প্রশাসনিকভাবে ক্ষমতায়িত হবে বিচার বিভাগ: কাজল
ইমি/


