খেজুর বিতরণকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা–সমালোচনার মধ্যে পিরোজপুর–১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ সাঈদী ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়েছেন। সেখানে তিনি সৌদি আরব সরকারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশে পাঠানো খেজুর বিতরণ নিয়ে বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরেন।
ফেসবুক পোস্টে মাসুদ সাঈদী উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ সরকার সরাসরি কাউকে খেজুর দেয় না। বরং দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরব সরকারের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের জনগণের জন্য উপহার হিসেবে খেজুর পাঠানো হয়ে থাকে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ১৯৮০–এর দশক থেকে এই সহায়তা অব্যাহত রয়েছে। এবারও সৌদি সরকার বাংলাদেশে খেজুর পাঠিয়েছে।
পোস্টে তিনি জানান, পিরোজপুর জেলায় মোট ১৩৯ কার্টুন খেজুর এসেছে। এর মধ্যে পিরোজপুর সদর উপজেলায় ১৮ কার্টুন, নাজিরপুর উপজেলায় ২৪ কার্টুন এবং জিয়ানগর উপজেলায় ১৪ কার্টুন খেজুর বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসক ও সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে অসহায় ও দুঃস্থ মানুষ, মাদ্রাসা ও এতিমখানায় এসব খেজুর বিতরণের লক্ষ্যে তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। তিনটি উপজেলার জন্য মোট ৫৬ কার্টুন খেজুর বরাদ্দ রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
পোস্টে মাসুদ সাঈদী দাবি করেন, অতীতে তাঁর নির্বাচনী এলাকায় খেজুর বিতরণে দুর্নীতির কোনো অভিযোগ তাঁর জানা নেই। তবুও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিটি ওয়ার্ডে উপযুক্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে যেন খেজুর পৌঁছে যায়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।
এদিকে খেজুর বিতরণের বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় আসার পর পিরোজপুরে বিভিন্ন মহলে এ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। পিরোজপুর–১ আসনের বরাদ্দ পাওয়া খেজুর নিয়ে সাধারণ মানুষ, স্থানীয় বিভিন্ন সংগঠন ও সামাজিক কর্মীরাও ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন। এসব পোস্টকে কেন্দ্র করে এলাকায় আলোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, খেজুরের বরাদ্দ, বণ্টন প্রক্রিয়া ও প্রকৃত উপকারভোগীদের বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন মতামত প্রকাশ করা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের স্বচ্ছতার দাবিও তুলেছেন কেউ কেউ।
পড়ুন: স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারকে শপথ পড়ালেন রাষ্ট্রপতি
আর/


