গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-১৩, সদর কোম্পানী, রংপুর এর একটি চৌকস আভিযানিক দল আজ রংপুর জেলার তারাগঞ্জ থানাধীন ফকিরপাড়া গ্রামে আসামি মজিদুল ইসলামের বসতবাড়ীতে অভিযান পরিচালনা করে তারাগঞ্জ থানার আলোচিত জোড়া হত্যা মামলার পলাতক আসামি মজিদুল ইসলাম (২৪), পিতা-আলতাফ হোসেন, সাং-ফকিরপাড়া, থানা-তারাগঞ্জ, জেলা-রংপুর’কে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
আজ ১৩ মার্চ ( শুক্রবার) দুপুরে র্যাব-১৩ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সিনিয়র সহকারী (মিডিয়া) বিপ্লব কুমার গোস্বামী এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
বিবৃতিতে বলা হয় ভিকটিম রুপলাল রবিদাস (৪০) বাদীর স্বামী এবং প্রদীপ লাল (৪৫) সম্পর্কে ভাতিজী জামাই। গত ০৯ আগষ্ট ২০২৫ তারিখ রাতের বেলা ভ্যান নিয়ে রংপুর জেলা, মিঠাপুকুর থানা, সাং- গোপালপুর ছরান বালুয়া থেকে বাদীর বাড়ীতে আসার পথে ঐ দিন রাতে ০৫ নং সয়ার ইউনিয়নের বুড়িরহাট বটতলা মোড়ে পৌঁছালে ভিকটিমদ্বয়কে সন্দেহ করে ঐ এলাকার কিছু মানুষ ভিকটিমদ্বয়কে জিজ্ঞাসাবাদ করে। জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে ভিকটিমদ্বয়ের সঙ্গে থাকা ব্যাগ তল্লাশী করে ব্যাগের ভিতরে থাকা দুর্গন্ধযুক্ত পানীয় পাওয়া যায়। সেই পানির গন্ধে উপস্থিত কয়েকজন তাৎক্ষনিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়লে উত্তেজিত জনতা ভিকটিমদ্বয়কে বুড়িরহাট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে নিয়ে গিয়ে লাঠি-সোটা ও লোহার রড দ্বারা পিটুনি দিলে একপর্যায়ে ভিকটিমদ্বয় গুরুতর জখমপ্রাপ্ত হয়। ভিকটিমের অবস্থা আশংকাজনক দেখে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় তাদেরকে তারাগঞ্জ উপজেলা স্থাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ভিকটিম রুপলালকে মৃত বলে ঘোষনা করেন এবং ভিকটিম প্রদীপ লালকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রংপুর প্রেরণ করেন। ভিকটিম প্রদীপলাল গত ১০ আগষ্ট ২০২৫ তারিখ ভোরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন।
পরবর্তীতে এ ঘটনায় রুপলাল এর স্ত্রী বাদী হয়ে রংপুর জেলায় তারাগঞ্জ থানায় পেনাল কোডের একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন ।
এর প্রেক্ষিতে ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় আসামিদের গ্রেফতারের লক্ষ্যে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি র্যাব গোয়েন্দা তৎপরতা শুরু করে এবং আসামি গ্রেফতারে সচেষ্ট হয়।
এবং পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গ্রেফতারকৃত আসামিকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানানো হয়।


