বিজ্ঞাপন

মুদি দোকানে হঠাৎ উধাও বোতলজাত সয়াবিন তেল

পবিত্র ঈদুল ফিতর সামনে রেখে ভোজ্যতেলের বাজারে অস্থিরতা দিন দিন প্রকট হচ্ছে। রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে হঠাৎ করেই গত সপ্তাহ থেকে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ তলানিতে নেমেছে। বরাবরের মতো সরবরাহ সংকটের সুযোগ নিতে ভুল করছেন না কোম্পানি, ডিলার কিংবা খুচরা বিক্রেতা—কেউই। বিপরীতে সম্মিলিত কৌশলে পকেট কাটা হচ্ছে সাধারণ ভোক্তার। কোনো কোনো ক্ষেত্রে মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে ২০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি ব্যয় করতে হচ্ছে।

রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ মুদি দোকানে বোতলজাত সয়াবিন তেল নেই। কিছু দোকানে অল্প পরিমাণ তেল থাকলেও বাড়তি দামে কেনার অজুহাতে ভোক্তার কাছ থেকে নির্ধারিত দামের চেয়ে লিটারে ৫-১০ টাকা বেশি নেওয়া হচ্ছে। অবশ্য সুপারশপগুলোতে নির্ধারিত দামে বিক্রি হলেও বিক্রয়সীমা (লিমিট) বেঁধে দেওয়া হয়েছে। অনেক শপে বেশ কিছুদিন ধরে কোনো ব্র্যান্ডেরই সয়াবিন তেলের সরবরাহ নেই। এই সুযোগে মুদি দোকানগুলোতে খোলা তেলের বিক্রি বাড়ছে। কোনো কোনো দোকানে খোলা সয়াবিন তেল প্রতি কেজি ২২০ টাকা পর্যন্ত দরে বিক্রি হচ্ছে।

বিক্রেতারা জানান, কোম্পানি থেকে আগের মতো সরবরাহ না পাওয়ায় তারা পর্যাপ্ত বোতলজাত তেল বিক্রি করতে পারছেন না। ডিলাররা বলছেন, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধাবস্থার কারণে কোম্পানি থেকেই সরবরাহ কমিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তা ছাড়া ডিলার পর্যায় থেকে আগে যে কমিশন দেওয়া হতো, এখন তা কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে তারা বোতলের গায়ে নির্ধারিত দামেই কিনছেন। ফলে নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।

তবে রাজধানীর বিভিন্ন বাজারের ডিলারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত সপ্তাহের তুলনায় এ সপ্তাহে কোম্পানি থেকে বোতলজাত সয়াবিন তেলের সরবরাহ বাড়ানো হয়েছে। বরং অনেক খুচরা বিক্রেতা নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বোতলজাত তেল মজুত করে খোলা তেলের বিক্রি বাড়াচ্ছেন। বাড়তি দামে খোলা তেল বিক্রি করে তারা লাভ বেশি পাচ্ছেন। এতে বোতলজাত তেল সরবরাহের সংকট দেখিয়ে খোলা তেলের কারসাজি করছেন খুচরা বিক্রেতারা।

শুক্রবার (১৩ মার্চ) রাজধানীর মুগদা, মানিকনগর, সবুজবাগ, খিলগাঁও ও মতিঝিল এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ মুদি দোকানে বোতলজাত সয়াবিন তেল না থাকলেও খোলা তেল দেদার বিক্রি হচ্ছে। খোলা সয়াবিন তেল সর্বনিম্ন ২১০ টাকা থেকে ২২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। অথচ গত ডিসেম্বরে সরকার নির্ধারিত সর্বশেষ দাম অনুযায়ী, প্রতি কেজি খোলা সয়াবিন তেল খুচরা পর্যায়ে সর্বোচ্চ ১৯৫ টাকা (১৭৬ টাকা লিটার হিসেবে) দরে বিক্রি করার কথা। অর্থাৎ, প্রতি কেজি খোলা সয়াবিন তেলে সরকারি দামের চেয়ে ২৫ টাকা পর্যন্ত বেশি রাখা হচ্ছে। খুচরা বাজারে মাত্র দুই সপ্তাহ আগেও এ তেল ১৯৫ থেকে ১৯৮ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে।

এদিকে মুদি দোকানগুলোতে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের বোতলজাত সয়াবিন তেল সামান্য পরিমাণ দেখা গেলেও লিটারপ্রতি ২০৫ থেকে ২১০ টাকা পর্যন্ত রাখা হচ্ছে। কোনো কোনো দোকানে সয়াবিন তেলের বিকল্প হিসেবে সিটি গ্রুপের ‘তীর’ ব্র্যান্ডের ক্যানোলা অয়েল বিক্রিতে দোকানিদের বেশি আগ্রহ দেখা গেছে। ক্যানোলা অয়েল নির্ধারিত দামের চেয়ে কিছুটা কমে ২১০ থেকে ২১৫ টাকা লিটার দরে বিক্রি হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : বাংলাদেশকে ডিজেল সরবরাহের অনুরোধ বিবেচনা করছে ভারত

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন