জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এমপি বলেছেন, অতি দ্রুত অবিলম্বে ফ্যাস্টিটের দোসর চুপ্পুকে অভিসংশনের মাধ্যমে অপসারণ করে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে এবং তা গ্রেফতারের আওতায় আনতে হবে। তিনি শপথ ভঙ্গ করেছেন, তার বিরুদ্ধে আর্থিক দুর্নীতি রয়েছে, তিনি গণহত চলাকালে নির্বিকার ভুমিকা রেখেছিলেন। তিনি শুক্রবার বিকেলে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) বিভাগী ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, সংসদকে সম্মান জানিয়ে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং অভিযোগ এবং সমালোচনা থাকা সত্বেও গতকাল আমরা সংসদে গিয়েছিলাম। কারন এত কারচুপির পরেও জনগণ আমাদের এবং ১১ দলীয় জোটের অনেককে নির্বাচিত করেছেন- সংসদের কার্যক্রমকে বাস্তবায়ন করার জন্য, উচ্চ কক্ষকে বাস্তবায়ন করার জন্য, সংবিধান সংস্কার করার জন্য। আমরা সেই উদ্দেশ্যেই এবং সেই কমিটমেন্টেই সংসদে গিয়েছিলাম। আমরা বলেছিলাম, এই সংসদে আমরা কোন ফ্যাসিবাদের দোসরকে চাই না। ফ্যাসিবাদ মুক্ত জাতীয় সংসদ দেখতে চাই। কিন্তু গতকাল খুব ভালোভাবে শুরু হলেও, আমরা আন্তরিকতার সাথে পার্টিসিপেট করলেও, দেখা গেল ফ্যাসিবাদের দোসর রাষ্ট্রপতিকে বক্তব্য দিতে দেওয়া হলো। এটি করে জুলাইয়ের আঙ্খাখার ভিত্তিতে সংসদের সাথে এক ধরণের প্রতারণা করা হলো।
তিনি বলেন, মাননীয় স্পিকারকে বক্তব্য দিতে বলা হয়েছিল কিন্তু সেটি না দিয়ে রাষ্ট্রপতিকে দেয়া হয়। এর ফল স্বরূপ প্রতিবাদ জানিয়ে আমরা ওয়াকআউট দিয়ে চলে এসেছি। অতি দ্রুত অবিলম্বে এই ফ্যাস্টিটের দোসর চুন্নুকে অভিসংশনের মাধ্যমে জীপসারণ করে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে এবং তাকে গ্রেফতারের আওতায় আনতে হবে। তিনি শপথ ভঙ্গ করেছেন, তার বিরুদ্ধে আর্থিক দুর্নীতি রয়েছে, তিনি গণহত্যা চলাকালেStyles
চুন্নুকে অভিসংশনের মাধ্যমে অপসারণ করে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে এবং তাকে গ্রেফতারের আওতায় আনতে হবে। তিনি শপথ ভঙ্গ করেছেন, তার বিরুদ্ধে আর্থিক দুর্নীতি রয়েছে, তিনি গণহত্যা চলাকালে কার ভুমিকা রেখেছিলেন।
তিনি আরো বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে ময়মনসিংহের জুলাই সৈনিক সাইফুল্লাহর বাড়ীতে আগুন লাগিয়ে ফ্যাসিস্ট বাহিনীরা ষড়যন্ত্র অভ্যাহত রেখেছে। আওয়ামী লীগ আসলে এমন একটি দল যারা গুপ্ত হামলা, সন্ত্রাস এবং এরকম দাঙ্গা হাঙ্গামা করে রাজীতিতে সবসময় টিকে থাকতে চেয়েছিল। তাদেরকে ৫ আগস্টে প্রতিহত করেছিল বাংলাদেশের জনগণ।
বৃহত্তর ময়মনসিংহ বাসীর কাছে তিনি আহ্বান রাখেন, আপনারা আওয়ামী লীগকে প্রতিহত করুন। তিনি বলেন আমরা আইনের শাসনে বিশ্বাসী, ফলে আপনারা তাদেরকে পুলিশে ধরিয়ে দিন, গ্রেফতারের ব্যবস্থা করুন।
প্রশাসন যদি ব্যবস্থা গ্রহন না করে তাহলে রাস্তা-ঘাটে সর্বত্রই জনগণ আওয়ামীলীগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। সাইফুল্লার পরিবারকে যে হত্যা চেষ্ঠা করা হলো, তার বাড়ীতে অগ্নিসংযোগ করা হলো আমরা কিছুদিন অপেক্ষা করবো, প্রশাসন, পুলিশ এবং সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্য তারা কি ব্যবস্থা নেয়। তারা যদি ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয় তাহলে আমাদের যা করণীয় আমরা সেটা করবো। আমরা ঘরে বসে থাকবো না। আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে – যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরী করতে হয় তাহলে আমরা প্রস্তুত থাকবো ইনশাল্লাহ।
অনুষ্ঠানে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসির উদ্দীন পাটোয়ারী বলেন, ভারত থেকে ধরে এনে হাসিনার ফাসির রায় কার্যকর যেন হয়, আমরা আল্লাহর কাছে দোয়া করি। তিনি ৪৭,৭১, ৯০, ২৪ এবং শহীদ ওসমান হাদীসহ সকল শহীদদের জন্য ময়মনসিংহ বিভাগবাসীর কাছে দোয়া কামনা করেন। সেই সাথে তিনি বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ মির্জা আব্বাসের জন্য দোয়া কামনা করেন। তিনি ময়মনসিংহে বালু, বাসস্ট্যান্ডসহ সর্বক্ষেত্রে চাঁদাবাজি হচ্ছে উল্লেখ করে বলেন, ব্রহ্মাপুত্র নদ শুকিয়ে গেছে এ নিয়ে অনেকে ব্যবসা করতে চায়। এসব প্রতিহত করতে হবে।
এছাড়াও ইফতার মাহফিলে জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম আহ্বায়ক ড. আতিক মোজাহিদ এমপি, ময়মনসিংহ-৬ ফুলবাড়িয়া জামায়াতে ইসলামী থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য কামরুল হাসান মিলন, জাতীয় যুব শক্তির সদস্য সচিব ডা. জাহিদুল ইসলাম, এনসিপির সাংগঠনিক সম্পাদক (ময়মনসিংহ বিভাগীয় সদস্য) আশিকিন আলম, ময়মনসিংহ বিভাগীয় ইফতার মাহফিলের আহ্বায়ক মিয়াজ মেহরাব তালুকদার, বিভাগীয় সদস্য সচিব ইকরাম এলাহী খানসহ এনসিপি, জামায়াতে ইসলামীর নেতৃবৃন্দ।
পড়ুন : তথ্য প্রতিমন্ত্রীর কাছে ময়মনসিংহ বিভাগীয় তথ্য কমপ্লেক্সের অগ্রগতি প্রতিবেদন হস্তান্তর


