বিজ্ঞাপন

আফতাব উদ্দিন স্কুল এন্ড কলেজ অ্যালামনাইয়ের ইফতার ও পুনর্মিলনী

পুরনো স্মৃতি, বন্ধুত্ব আর সৌহার্দ্যের এক অনন্য আবহে রাজধানীর প্রাণকেন্দ্র মতিঝিলে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল কিশোরগঞ্জের বাজিতপুরের ঐতিহ্যবাহী ‘আফতাব উদ্দিন স্কুল এন্ড কলেজ’-এর অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের বার্ষিক ইফতার ও দোয়া মাহফিল।

মতিঝিলস্থ ইসলাম চেম্বারের ১৫ তলায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন ব্যাচের কয়েক শতাধিক সাবেক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। ১৯৯৮ সাল থেকে শুরু হওয়া এই অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন প্রতি বছরই ইফতারের মাধ্যমে প্রাক্তনদের এই মহামিলন মেলার আয়োজন করে আসছে, যা এবারও তার ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে। দীর্ঘদিনের পুরনো সহপাঠী ও অগ্রজ-অনুজদের সান্নিধ্যে অনুষ্ঠানটি এক আবেগঘন পুনর্মিলনীতে পরিণত হয়।

ইফতারের আগে অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত আলোচনা সভায় সংগঠনটির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও সাংগঠনিক কাঠামো আরও জোরদার করার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি ও সিনিয়র সদস্যরা অ্যালামনাইকে একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম হিসেবে দাঁড় করানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বিজ্ঞাপন


১৯৯১ ব্যাচের কৃতি শিক্ষার্থী লুৎফুল হাদী সজলের সভাপতিত্বে এবং ১৯৯৫ ব্যাচের শিক্ষার্থী ও মাজহারুল ইসলামের প্রাণবন্ত সঞ্চালনায় ইফতার মাহফিলের অনুষ্ঠানটি শুরু হয়। শুরুতে পবিত্র কুরআন থেকে তিলাওয়াত করা হয় এবং স্মৃতিচারণ ও আলোচনা সভা।

সভাপতির বক্তব্যে লুৎফুল হাদী সজল বলেন, “আমাদের এই সংগঠন কেবল একটি বার্ষিক ইফতার মাহফিলের নাম নয়, এটি আমাদের আবেগ ও শেকড়ের টান। আমরা যারা স্কুল ছেড়েছি বহু বছর আগে, এই একটি প্ল্যাটফর্ম আমাদের সবাইকে আবারও এক সুতোয় গেঁথেছে। আগামী দিনে আমরা এই সংগঠনকে আরও সুসংগঠিত দেখতে চাই।”

সঞ্চালক মাজহারুল ইসলাম তার বক্তব্যে বলেন, “ব্যস্ত নাগরিক জীবনে আমরা অনেকেই একে অপরের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ি। এই আয়োজন আমাদের সেই সুযোগ করে দেয় যেখানে আমরা ব্যাচ নির্বিশেষে বড় ভাই বা ছোট ভাই হিসেবে একে অপরের পাশে দাঁড়াতে পারি। আজকের এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণই প্রমাণ করে আমরা আমাদের প্রিয় বিদ্যাপীঠকে কতটা ভালোবাসি।”

অনুষ্ঠানে ১৯৯১ ব্যাচের শিক্ষার্থী শামছুল ইসলাম তার বক্তব্যে বলেন, “আমরা যারা সিনিয়র ব্যাচের শিক্ষার্থী, আমাদের বড় পাওয়া হলো আপনাদের এই ঐক্য। তবে সংগঠনের চাকা সচল রাখতে হলে নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে আসতে হবে। আমি নবীনদের প্রতি পূর্ণ দায়িত্ব নিয়ে কাজ করার এবং আমাদের এই গৌরবময় ঐতিহ্য ধরে রাখার জোরালো আহ্বান জানাচ্ছি।”

১৯৯৪ ব্যাচের শিক্ষার্থী শাহাদাত কবির তার বক্তব্যে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের কার্যক্রমকে পেশাদার রূপ দিতে একটি সমৃদ্ধ ‘ডেটাবেজ’ তৈরি করা অত্যন্ত জরুরি। এটি সম্পন্ন হলে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মধ্যে যোগাযোগ ও পারস্পরিক সহযোগিতা সহজ হবে। সংগঠনের যেকোনো প্রয়োজনে আমার পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।”

এছাড়াও আলোচনা সভায় বিভিন্ন ব্যাচের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা সংগঠনের ভবিষ্যৎ পথচলা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মতামত তুলে ধরেন ।
১৯৯৯ ব্যাচের শিক্ষার্থী আরিফুল আলম জুয়েল বলেন, “অ্যালামনাই কেবল ইফতার বা গেট-টুগেদারের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে আমাদের বাজিতপুর এলাকার মেধাবী ও অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াতে পারে। একটি স্থায়ী কল্যাণ তহবিল গঠন করে আমরা এই মানবিক কাজগুলো শুরু করতে পারি।”

২০০৬ ব্যাচের এক প্রাক্তন শিক্ষার্থী মুনিরুল ইসলাম মুনিম তার বক্তব্যে বলেন, “আমাদের অনেক সিনিয়র দেশের গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারণী পদে আসীন। জুনিয়ররা যখন পড়াশোনা শেষ করে কর্মজীবনে প্রবেশ করছে, তখন সিনিয়রদের গাইডেন্স তাদের জন্য বড় শক্তি হতে পারে। আমরা নিয়মিত ক্যারিয়ার সেমিনার ও মেন্টরশিপ প্রোগ্রাম আয়োজন করার পরিকল্পনা করতে পারি।”

২০১৭ ব্যাচের এক শিক্ষার্থী প্রস্তাব করেন, “বছরে অন্তত একবার আমাদের প্রিয় স্কুল প্রাঙ্গণে বড় কোনো অনুষ্ঠান করা উচিত, যাতে বর্তমান শিক্ষার্থীদের সাথে আমাদের একটি আত্মিক সেতুবন্ধন তৈরি হয়।”

প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের এই মিলনমেলায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, এই অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন কেবল ইফতার মাহফিলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে সামাজিক উন্নয়ন ও বিদ্যালয়ের বর্তমান শিক্ষার্থীদের কল্যাণেও কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশের প্রখ্যাত শিল্পোদ্যোক্তা ও জহিরুল ইসলাম সিটির স্বপ্নদ্রষ্টা, ইসলাম গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা মরহুম আলহাজ্ব জহিরুল ইসলাম ১৯৮৬ সালে কিশোরগঞ্জ জেলার বাজিতপুর উপজেলায় এই আধুনিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি গড়ে তোলেন। আজ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি ওই অঞ্চলে মানসম্মত শিক্ষা বিস্তারে ও আলোকিত মানুষ গড়ার কারিগর হিসেবে অনন্য ভূমিকা পালন করে আসছে।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা আলহাজ্ব জহিরুল ইসলামের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত এবং দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করা হয়। মোনাজাত শেষে উপস্থিত সকলে একসাথে ইফতারে অংশগ্রহণ করেন। এই আয়োজনটি কেবল একটি অনুষ্ঠান ছিল না, বরং তা ছিল প্রাক্তনদের পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ব ও ভালোবাসার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

পড়ুন : শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য সেবায় নতুন নির্দেশনা মাউশির

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন