বিজ্ঞাপন

৪০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ পাওয়া যাবে ক্রেডিট কার্ডে

ক্রেডিট কার্ডে ৪০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ পাওয়া যাবে। এসব ঋণের সুদের হার হবে সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ। এত দিন ক্রেডিট কার্ডে সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ পাওয়া যেত।

নতুন ঋণের সীমা ঠিক করে আজ রোববার বাংলাদেশ ব্যাংক ক্রেডিট কার্ডসংক্রান্ত নীতিমালা জারি করেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ব্যাংকগুলো ক্রেডিট কার্ডের বিপরীতে জামানতহীন ১০ লাখ টাকা ও জামানতের বিপরীতে ২৫ লাখ টাকা ঋণ দিতে পারে। এই সীমা বৃদ্ধি করে জামানতহীন ২০ লাখ টাকা ও জামানতের বিপরীতে ঋণসীমা ৪০ লাখ টাকা করা হলো। ব্যাংক হিসাবে জমা টাকার ওপর ক্রেডিট কার্ডে ঋণের সীমা বাড়ানো হয়, তাই নিরাপদ জামানত হিসেবে পরিচিত। এ ছাড়া কার্ডধারীরা তাঁদের মোট সীমার সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত অর্থ নগদে উত্তোলন করতে পারবেন।

এখন দৈনন্দিন জীবনে নানা ধরনের খরচ ও মূল্য পরিশোধের ক্ষেত্রে নগদ অর্থ বহনের বিকল্প হিসেবে ব্যক্তিপর্যায়ে ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহার নিয়মিত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের পরিসর ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় এ-সংক্রান্ত জটিলতা হ্রাস করা এবং কার্ডে নিত্যনতুন বৈশিষ্ট্য যুক্ত হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে ক্রেডিট কার্ডসংক্রান্ত আগের নীতিমালা হালনাগাদ করে পূর্ণাঙ্গ নীতিমালা জারি করা হয়েছে। ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা অনুশীলন জোরদার করা, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ, দায়িত্বশীল ঋণ প্রদানকে উৎসাহিত করা এবং একটি স্বচ্ছ নগদহীন আর্থিক লেনদেনের উপযোগী পরিবেশ সৃষ্টির লক্ষ্যে এই নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে।

নীতিমালা মাশুলের বিষয়ে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, ক্রেডিট কার্ডে ঋণের সর্বোচ্চ সুদ হবে ২৫ শতাংশ। সুদ শুধু বকেয়া টাকার ওপর মাশুল আরোপ করা হবে, মোট বিলের ওপর নয়। এ ছাড়া ক্রেডিট কার্ডে কেনাকাটার ক্ষেত্রে সুদহীন সুবিধা থাকলেও নগদ অর্থ উত্তোলনের ক্ষেত্রে এমন কোনো সুবিধা থাকবে না।

নীতিমালায় ফি বা মাশুলের ক্ষেত্রেও নতুন নিয়ম আনা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, কার্ড সচল করার আগে কোনো ধরনের মাশুল নেওয়া যাবে না। বিল পরিশোধে বিলম্ব হলে বিলম্ব ফি মাত্র একবারই আরোপ করা যাবে। সুদহার বা অন্য কোনো চার্জ পরিবর্তনের অন্তত ৩০ দিন আগে কার্ডধারীকে লিখিত বা ইলেকট্রনিক মাধ্যমে জানাতে হবে।

গ্রাহক সুরক্ষা ও হয়রানি বন্ধে পাওনা টাকা আদায়ের ক্ষেত্রে গ্রাহকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নীতিমালা অনুযায়ী, কোনো ব্যাংক বা রিকভারি এজেন্ট গ্রাহককে মানসিক বা শারীরিক হয়রানি কিংবা হুমকি প্রদান করতে পারবে না। এমনকি কার্ডধারীর পরিবার, বন্ধু বা রেফারেন্স দেওয়া ব্যক্তিদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা রক্ষা করতে হবে। পাওনা আদায়ের জন্য ফোন কল বা সরাসরি যোগাযোগ শুধু অফিস চলা সময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে। কার্ড হারিয়ে গেলে বা চুরি হয়ে গেলে দ্রুত ব্লক করার জন্য ২৪ ঘণ্টা হেল্পলাইন ব্যবস্থা চালু রাখতে হবে।

ক্রেডিট কার্ড পেতে হলে আবেদনকারীর বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর হতে হবে। তবে ১৬ বছর বয়সী শিক্ষার্থীরা যারা প্রধান কার্ডধারীর ওপর নির্ভরশীল, তারা সাপ্লিমেন্টারি বা সম্পূরক কার্ড ব্যবহার করতে পারবে। এ ছাড়া আবেদনকারীর ই-টিন সনদ এবং একটি পরিষ্কার সিআইবি রিপোর্ট থাকতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, আর্থিক স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং একটি স্বচ্ছ ক্যাশলেস পেমেন্ট ইকোসিস্টেম গড়ার লক্ষ্যেই এই নতুন নির্দেশনা কার্যকর করা হয়েছে। এ-সংক্রান্ত ২০০৪ সালের নীতিমালাটি বাতিল করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : ঈদের জন্য রোববার থেকে আগের মতোই কেনা যাবে অকটেন-পেট্রোল

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন